ছাগলের ঘরে এসে আশ্রয় নিল বাঘ! অসম বন্যায় কাজিরাঙার অরণ্যে অবাক কাণ্ড, দেখুন ভিডিও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘে-গরুতে জল খাওয়ার প্রবাদ অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু বিপদে পড়লে বাঘ এসে ছাগলের ঘরে আশ্রয় নেয়, এমনটা কি কোথাও ঘটেছে বলে শোনা গেছে? এই অনন্য সহাবস্থানের ঘটনা ঘটেছে অসমের কাজিরাঙায়। বন্যা পরিস্থিতির জেরে ডুবতে বসায় সাঁতরে এসে গ্রামে ছাগলের একটি ঘরে আশ্রয় নেয় একটি ছোট বাঘ।

অসমের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। মানুষজন তো ঘরবাড়ি হারিয়ে বিপদে পড়েছেনই, পাশাপাশি কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কেরও ৯৫ শতাংশই জলের নীচে বলে জানা গেছে। এর ফলে ৪৩০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়ানো এই ন্যাশনাল পার্কের বহু বন্যপ্রাণী মারা গেছে। বাঁচার জন্য লোকালয়ে চলে এসেছে অনেকে।

এমনই অবস্থায় সোমবার কাজিরাঙা একটি ভিডিও সামনে আসে। একটি ছোট বাঘ কাজিরাঙা পার্কের আগ্রাতোলি রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসে সংলগ্ন কান্দোলিমারি গ্রামে আশ্রয় নেয়। ঘটনাচক্রে যে ঘরে গিয়ে বাঘটি আশ্রয় নেয়, সেটি একটি ছাগলের ঘর। ছাগলকে কোনও আক্রমণ করা দূরের কথা, যেন কোনও অসুবিধাই হচ্ছে না তাদের কারওই। এ দৃশ্য দেখে চমকে গেছেন সকলে।

দেখুন সেই ভিডিও।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বন বিভাগের আধিকারিকরা। বাঘটি যাতে নিজের মতো করে গ্রামে বিশ্রাম নিতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হয়। কোনও গ্রামবাসী যাকে বাঘটিকে বিরক্ত না করে, সেই দিকে খেয়াল রাখেন বন আধিকারিকরা। পরে বিকেলের দিকে গ্রাম থেকে বেরিয়ে নিজে নিজেই জঙ্গলে চলে যায় বাঘটি।

যেহেতু অনেক বন্যপ্রাণী প্রাণ বাঁচাতে জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে আসছে, তাই জাতীয় সড়কের ওপর যানবাহনের গতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণীদের বাঁচাতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি-সহ একাধিক যন্ত্র। যেসব যানবাহন নির্ধারিত করে দেওয়া গতি মানছে না, তাদের জরিমানা করছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ৫০টির বেশি বন্যপ্রাণীর মারা যাওয়ার খবর মিলেছে। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের অধিকর্তা পি শ্রীনিবাস জানান, মৃত বন্যপ্রাণের মধ্যে একটি গন্ডারও রয়েছে।

Tiger takes shelter in goat shed as flood hits Assam's Kaziranga ...

শেষ এক সপ্তাহ জুড়ে ব্যপক বৃষ্টিতে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। এখনও অবধি ৩৩টি জেলার মধ্যে ২৭টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২২ লাখের বেশি মানুষ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চলতি বছরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫০ পেরিয়েছে। সোমবার আরও ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র-সহ ১৩টি নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ৪৮০টি ত্রাণ শিবিরে এখনও অবধি ৬০ হাজার মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা অঞ্চলের মধ্যেই আসে কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক। প্রায় ৭৬৩ গ্রাম সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে এবং এক লাখ হেক্টর চাষের জমি নষ্ট হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More