অন্ধ্রপ্রদেশ যেন কাশ্মীর! গৃহবন্দি চন্দ্রবাবু, টিডিপি-র জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেমনটা কাশ্মীরে চলছে, উত্তেজনা ছাড়ানোর আশঙ্কায় চারশোর বেশি বিরোধী নেতা গৃহবন্দি, তারই যেন ছোট সংস্করণ অন্ধ্রপ্রদেশ। ওখানে যেমন মেহেবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহরা সতর্কতা মূলক গ্রেফতারে ঘরবন্দি, এখানেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু-সহ একাধিক তেলগু দেশম পার্টির নেতাকে গৃহবন্দি করেছে জগনমোহন রেড্ডির সরকার। টিডিপি-র জমায়েতের উপর জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

    একশো দিন হয়েছে নতুন সরকারের। চন্দ্রবাবুর পার্টিকে কার্যত ধুয়ে মুছে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন জগন। কিন্তু শুরুর কয়েকদিন পর থেকেই বিরোধী দলের কর্মীদের উপর শাসক দলের হিংসার অভিযোগ তুলতে থাকে টিডিপি। তাদের অভিযোগ, এর মধ্যেই বেশ কয়েকজন কর্মীকে খুন করেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের বাহিনী। সরকারি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের অভিযোগে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছিল চন্দ্রবাবুর পার্টি। কিন্তু তার আগেই তাঁদের গৃহবন্দি করে দিল প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে টিডিপি-র জমায়েতে।

    চন্দ্রবাবু টুইট করে লিখেছেন, “আজ গণতন্ত্রের কালো দিন। অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। পুলিশের ভূমিকা ন্যক্কারজনক।” রাত আটটা পর্যন্ত অনশন রাখার কথা ঘোষণা করেছেন লোকসভা ভোটে মোদী বিরোধিতায় রাজ্যে রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে সমন্বয় রক্ষাকারী মুখ।

    টিডিপি-র অভিযোগ, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে স্বেচ্ছাচার চালাচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী স্বরকে দমিয়ে রাখতে চাইছেন। প্রতিবাদ করলেই হয় নেমে আসছে শারীরিক আক্রমণ, না হয় মিথ্যে মামলা। অনেকে বলছেন, ঠিক বাংলায় যেমন বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন, অন্ধ্রপ্রদেশেও যেন হুবহু তাই।

    যদিও অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও ধরনের হিংসা এবং অশান্তি রুখতে তারা বদ্ধপরিকর। আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যাতে রাজ্যের স্বাভাবিক জনজীবনে তার আঁচ না লাগে।

    অনেকের মতে, এটাই শাসকের চরিত্র। সংখ্যা থাকলে ধরাকে সরা ভাবে। তাঁদের বক্তব্য, ২০০৬-এ ২৩৫ পাওয়ার পর বাংলার বামফ্রন্ট তাই করেছিল। ২০১৬-র পর তৃণমূলের একই মনোভাব ছিল। আর চার মাস আগে বিধানসভায় ১৭৫-এ ১৫১ আর লোকসভায় পঁচিশে বাইশ পাওয়ার পর অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন শাসকদল একই পথের পথিক। পর্যবেক্ষকদের মতে রাজ্য বা দল ভেদেও শাসকের সংখ্যার ঔদ্ধত্য একই থেকে যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More