মঙ্গলবার, জুন ২৫

ইভিএম চুরিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন কেন, নির্বাচন কমিশনের প্রশ্ন চন্দ্রবাবুকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইভিএমে গন্ডগোল নিয়ে অভিযোগ জানাতে শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। হুমকি দিয়েছিলেন, যথাযথ আশ্বাস না পেলে ধরনায় বসবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনও পালটা অভিযোগ তুলল তাঁর বিরুদ্ধে। চন্দ্রবাবুর এক সঙ্গী নাকি কয়েক বছর আগে ইভিএম চুরিতে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। সেই সঙ্গীর নাম হরিপ্রসাদ।

চন্দ্রবাবুর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার প্রথম দফা ভোটের সময় অন্ধ্রপ্রদেশে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটযন্ত্র ঠিকমতো কাজ করেনি। তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর কয়েক ঘণ্টা বাদেই নির্বাচন কমিশন পালটা চিঠি দেয় তাঁকে। তাতে বলা হয়, যখন ইভিএম নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তখন আপনার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বার বার নানা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলছিলেন। তাঁর দাবি, ইভিএমের প্রযুক্তি সম্পর্কে তাঁর যথেষ্ট জ্ঞান আছে। আমরা পরে জানতে পেরেছি, ওই ব্যক্তির নাম হরিপ্রসাদ। ২০১০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ইভিএম চুরির অভিযোগ উঠেছিল। মুম্বইয়ে তাঁর নামে এফআইআর হয়েছে।

এর পরে নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, খুবই আশ্চর্যের বিষয়, অতীতে যার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠেছে, তিনি কী করে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুর প্রতিনিধি দলে স্থান পেতে পারেন। হরি প্রসাদের মতো ব্যক্তির সঙ্গে কোনও সম্পর্কই রাখা উচিত নয়।

চন্দ্রবাবুর দাবি, ভোটযন্ত্রের গোলমালে রাজ্যের দেড়শ বুথে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে। সেখানে ফের নির্বাচন করাতে হবে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে চলছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। কিন্তু তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না।

প্রথম দফার ভোটগ্রহণের সমালোচনা করে চন্দ্রবাবু শুক্রবার বলেন, সেদিন রীতিমতো প্রহসন হয়েছে। মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। মোট ৪৫৮৩ টি ভোটযন্ত্রে সমস্যা হয়েছে।

ভোটের দিনই চন্দ্রবাবু ফের ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠই লেখেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার গোপাল কৃষ্ণ দ্বিবেদি যে বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন, সেখানেও ইভিএমে গন্ডগোল হয়েছিল।

রাজ্যের মুখ্যসচিব নিয়োগ নিয়েও চন্দ্রবাবু নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, যে ব্যক্তিকে মুখ্যসচিব নিয়োগ করা হয়েছে, তিনি অতীতে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির মামলায় জগনের সঙ্গে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। জগন বলতে তিনি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ওয়াই এস আর কংগ্রেসের নেতা জগনমোহন রেড্ডির কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

Comments are closed.