সরকারি প্রকল্পে আরও বেশি আধার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে কেন্দ্রীয় সরকার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি প্রকল্পে অর্থের অপচয় রুখতে আধার ব্যবহার করার ব্যাপারে অনুমোদন দিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘সুশাসন’-এর লক্ষ্যে এবং জনস্বার্থে যে সব সরকারি প্রকল্প রয়েছে সেই সব ‘প্রকল্পের অপচয় রুখতে’ এই পদক্ষেপ বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে গণবণ্টনের কয়েকটি মাত্র ক্ষেত্রে আধার সংযোগে অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখনও পর্যন্ত পেনশনের জন্য বা রেশন বণ্টনের ক্ষেত্রে আধার আবশ্যিক করা হয়নি। তবে আধার অথেন্টিকেশন ফর গুড গভর্ন্যান্স (সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার, ইনোভেশন, নলেজ) রুলস, ২০২০ নিয়মে তা বদলে যেত পারে।

বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের বুধবার জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী সুশাসনের লক্ষ্যে, সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে, ব্যবস্থাপনা সরল করতে এবং আরও ভাল পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আধার সংযুক্তিকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।

নতুন নির্দেশিকার সঙ্গে আধার (টার্গেটেড ডেলিভারি অব ফিনান্সিয়াল অ্যান্ড আদার সাবসিডিজ, বেনিফিটস অ্যান্ড সার্ভিসেস) অ্যাক্ট, ২০১৬-র ৫৭ ধারার সাদৃশ্য রয়েছে। এই ধারায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আধারের ডেটাবেস ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে একে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

সমাজকর্মীরা অবশ্য বলছেন এই নিয়ম বলবত হলে দুর্নীতিও যেমন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না তেমনই আবার সরকারি অর্থ অপচয়ও বন্ধ হবে না। উল্টে বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা পাওয়া থেকে আরও বেশি করে বঞ্চিত হবেন গরিব মানুষ।

দিল্লি আইআইটির সঙ্গে যুক্ত উন্নয়নমূলক অর্থনীতিবিদ ঋতিকা ঘেরা বলেন, “আধারের ফলে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় যে বহু মানুষ ভর্তুকিতে রেশন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তার ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যে সব গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার মান অত্যন্ত খারাপ সেখানে প্রভূত সমস্যা হবে।”

ঝাড়খণ্ডের দশটি জেলা নিয়ে ২০১৯ সালে অর্থনীতিবিদ কার্তিক মুরলিধরণের নেতত্বে আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশন ল্যাব (জে-পিএএল) যে সমীক্ষা করেছিল তাতে দেখা গেছে গণবণ্টন ব্যবস্থার সঙ্গে আধার সংযোগের ফলে অনেক প্রকৃত ব্যক্তি সুবিধা ভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যদিও অর্থের অপচয় বন্ধ হয়নি।

আধার সংযোগ না করতে পারার জন্য ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এই দশটি জেলায় ছয় শতাংশ রেশন কার্ড বাতিল হয়েছিল। যদিও সমাজকর্মীদের অনেক অনুরোধ উপরোধের পরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে যাচাই করে তা দেখা শুরু হয়ে। তাতে বাতিল হওয়া রেশন কার্ডের ৮৮ শতাংশই আসল ও রেশন পাওয়ার যোগ্য বলে দেখা যায়।

নতুন তথ্য অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি আধারের তথ্য যাচাই করতে চাইলে তা অনুমোদন করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই পরিষেবা পেতে হলে প্রতিটি দফতরকেই আলাদা ভাবে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (ইউআইডিএআই) কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

পুরো বিষয়টি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল এক কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রকৃত উপভোক্তা যাতে দ্রুত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান তা নিশ্চিত করার জন্যই এই নির্দেশিকা। এর ফলে কোনও প্রকল্পে কোনও অপচয় হতে থাকলে তাও বন্ধ করা সম্ভব হবে।

এই নিয়ম অবশ্য ঐচ্ছিক হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যদি বলা হয় যে সংযুক্তিকরণ ছাড়া পরিষেবা পাওয়া যাবে না তখন এটা আবশ্যিক বলেই বিবেচিত হবে। একথা মনে করেন উন্নয়নমূলক অর্থনীতিবিদ জাঁ দ্রেজ।

বর্তমানে কোনও ব্যক্তির আধার যাচাই করার সময় ইউআইডিএআই থেকে তা যাচাই করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে কোনও তথ্য দেওয়া হয় না। শুধু সার্ভার থেকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর আসে। তবে আধার সংযুক্তিকরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেসে তা যাচাই করা হয়।

নতুন নিয়মে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে যে শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তা করতে পারবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More