শুক্রবার, মে ২৪

বফর্স নিয়ে ফের তদন্তের আর্জি নিজে থেকেই তুলে নিল সিবিআই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ৬৪ কোটি টাকার বফর্স কেলেঙ্কারি নিয়ে ফের তদন্ত করার জন্য দিল্লির আদালতে আবেদন করেছিল সিবিআই। বৃহস্পতিবার সেই আর্জি নিজে থেকেই তুলে নিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওই আবেদন করা হয়। এদিন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নবীন কুমার কাশ্যপের কাছে সিবিআই আবেদন জানায়, তারা আর বফর্স নিয়ে তদন্ত করতে চায় না।

বিচারক বলেন, কেন সিবিআই আর্জি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, সে তারাই ভালো জানে। তাদের সেই অধিকার আছে। এর আগে ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর আদালত সিবিআইকে প্রশ্ন করেছিল, কেন তারা নতুন করে বফর্স নিয়ে তদন্ত করতে চায়?

২০০৫ সালের ৩১ মে দিল্লি হাইকোর্ট বফর্স মামলায় সব অভিযুক্তকে মুক্তি দেয়। ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিবিআই হাইকোর্টের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। ২ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি নাকচ করে দেয়। বিচারপতিরা জানতে চান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে ১৫ বছর দেরি হল কেন?

২০০৫ সালে দিল্লি হাইকোর্টের বফর্স মামলা ডিসমিস হওয়ার আগে, ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জে ডি কপুর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে ওই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন।

১৯৮৬ সালের ২৪ মার্চ ভারত সরকার ও সুইডিশ কোম্পানি এ বি বফর্সের মধ্যে চুক্তি হয়। তাতে বলা হয়েছিল, ১৪৩৭ কোটি টাকার বিনিময়ে বফর্স ভারতে ৪০০ টি হাউইৎজার গান সরবরাহ করবে। ১৯৮৭ সালের ১৬ এপ্রিল সুইডিশ রেডিওতে দাবি করা হয়, ওই কামান সরবরাহের বরাত পাওয়ার জন্য বফর্স কোম্পানি ভারতের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সেনাকর্তাকে ঘুষ দিয়েছে।

১৯৯০ সালের ২২ জানুয়ারি সিবিআই বফর্স কোম্পানির প্রেসিডেন্ট মার্টিন আর্ডবো, অভিযুক্ত মিডলম্যান উইন চাড্ডা এবং হিন্দুজা ভাইদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ঠকানো ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে। গোয়েন্দাদের অভিযোগ ছিল, ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭-র মধ্যে ভারত সরকারের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তি ও জনাকয়েক বিদেশী মিলে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে। তারা ঘুষ নেয়। নানাভাবে সরকারকে ঠকায় ও জালিয়াতি করে।

১৯৯৯ সালের ২২ অক্টোবর প্রথম চার্জশিট দেওয়া হয়। তাতে উইন চাড্ডা, অত্তাভিও কাত্রোচ্চি, তৎকালীন প্রতিরক্ষা সচিব এস কে ভাটনগর ও মার্টিন আর্ডবোর নাম করা হয়। একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে হিন্দুজা ভাইদের নাম করা হয়েছিল।

Shares

Comments are closed.