শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

যে নিজের মেয়েকে খুন করতে পারে, তার কথায় বিশ্বাস করে চিদম্বরমকে ধরেছে সিবিআই, তোপ কংগ্রেসের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম গ্রেফতার হওয়ার আগেই বুধবার তাঁর হয়ে টুইট করেছিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ও প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস আরও চড়া সুরে সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করল। তাদের অভিযোগ, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে আইএনএক্স মামলায় হেনস্থা করা হচ্ছে। তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা হছে। গোয়েন্দা সংস্থাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, চিদম্বরমের নামে ঠিক কী অভিযোগ আছে প্রকাশ্যে জানানো হোক।

কংগ্রেসের দাবি, চিদম্বরমের ছেলে কার্তিকে ২০ বার জেরা করা হয়েছে। তাঁর বাড়িতে ও অফিসে চারবার তল্লাশি করা হয়েছে। তাও তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, মনে হচ্ছে রাজসাক্ষীর জবানবন্দির ওপরে ভিত্তি করে সিবিআই কেস সাজিয়েছে। নিজের মেয়েকে খুন করার অভিযোগে ওই রাজসাক্ষীর বিচার হচ্ছে। তাঁর কথাই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে সিবিআইয়ের।

সুরজেওয়ালা সরাসরি রাজসাক্ষীর নাম করেননি। তিনি পরোক্ষে আইএনএক্স মিডিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইন্দ্রাণী মুখার্জির কথা বোঝাতে চেয়েছেন। নিজের মেয়ে শিনা বরাকে খুনের অভিযোগে ইন্দ্রাণী মুম্বইয়ের জেলে বন্দি আছেন। খুনের মামলাতেও তদন্ত করছে সিবিআই।

ইন্দ্রাণীর দাবি, তিনি নিজে চিদম্বরম ও তাঁর ছেলের সঙ্গে দেখা করেছেন। বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য তাঁদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। এদিন কার্তি বলেন, তিনি কখনও ইন্দ্রাণী মুখার্জি বা তাঁর স্বামী পিটার মুখার্জির সঙ্গে দেখা করেননি।

বুধবার রাতে দিল্লির যোশ বাগ অঞ্চলের বাংলো থেকে চিদম্বরম গ্রেফতার হন। তার আগেই তিনি কংগ্রেস অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। সেখানে চিদম্বরম বলেন, আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি না। আইনের কাছে সুরক্ষা চাইছি। সাংবাদিক বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী। চিদম্বরম বলেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ করতে পারেনি। তাঁর কথায়, একটা ধারণা ছড়িয়েছে, আমি ও আমার ছেলে একটি গুরুতর অপরাধ করেছি। এর চেয়ে বড় মিথ্যা আর কিছু হতে পারে না।

চিদম্বরম পেশায় আইনজীবী। তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে ডিগ্রি পেয়েছেন। ৭৩ বছর বয়সী চিদম্বরম কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সদস্য। মনমোহন সিং-এর সরকারে তিনি টানা ছ’বছর কেন্দ্রে মন্ত্রী ছিলেন।

Comments are closed.