Exclusive: নারদ তদন্তে চার্জশিট শিগগির, লোকসভা ও বিধানসভার স্পিকারের কাছে অনুমতি চাইতে পারে সিবিআই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের আগে থেকেই চিটফান্ড তদন্তে গতি এনেছে সিবিআই। ওই মামলায় তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের জন্য গত মাসাবধি দিনরাত লেগে রয়েছে এই কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। তবে সিবিআই সূত্রে খবর, চিটফান্ড তদন্তের আগে নারদ মামলা নিয়ে আদালতে চার্জশিট পেশ করতে পারে তারা। তা হতে পারে খুব শিগগির। ওই চার্জশিট পেশ করার আগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুমতি চাইতে পারে সিবিআই।

    কারণ, নারদ তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাঁদের সবাই হয় লোকসভা বা বিধানসভার সদস্য। সেই কারণে চার্জশিট পেশ করার আগে স্পিকারের কাছে অনুমতি নিতে চায় সিবিআই।

    তৃণমূলের বেশ কয়েক জন সাংসদ ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চোদ্দো সালের লোকসভা ভোটের আগে স্টিং অপারেশন চালিয়েছিলেন নারদ নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েল। গোপন ক্যামেরায় তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছিল, ম্যাথুর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূলের সাংসদ-মন্ত্রীরা। পরে ষোলো সালে বিধানসভা ভোটের আগে সেই ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন ম্যাথু। তা নিয়ে সে বার ভোটে তোলপাড়ও হয়। এমনকি এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও বলেন, আগে জানলে অভিযুক্তদের ভোটে টিকিট দিতাম না। পরে অবশ্য তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য ওঁরা চাঁদা নিয়েছেন। কোনও ঘুষ নেননি।

    যদিও আইনত সেই যুক্তিগ্রাহ্য হয়নি। বরং হাইকোর্টের নির্দেশে নারদ মামলার তদন্তের দায়িত্ব বর্তায় সিবিআইয়ের উপর। তদন্ত এজেন্সি সূত্রে বলা হচ্ছে, এ ব্যাপারে তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট সাংসদ-মন্ত্রীদের তাঁরা ইতিমধ্যেই জেরা করেছেন। ম্যাথুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এখনও চলছে। কারণ, ম্যাথুর বক্তব্যেও কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ভিডিও ফুটেজগুলি প্রকাশ করার সময় তিনি বলেছিলেন, তাঁর অনাবাসী ভারতীয় বন্ধুরা স্টিং অপারেশনের জন্য তাঁকে টাকা জুগিয়েছেন। পরে সেই বয়ান বদল করেন ম্যাথু।

    সিবিআই আদালতে চার্জশিট পেশ করলে অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন ঠিকই। তবে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর আইনসভার সদস্যপদ খারিজ হয়ে যেতে পারে। ফলে নারদ তদন্তের চার্জশিট নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে একটা উদ্বেগ রয়েছেই।

    বাংলায় শাসক দলের একাধিক শীর্ষ নেতার কথায়, ক্যামেরার সামনে যাঁদের টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল তাঁদের অনেকেই কোনও কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেননি ম্যাথুকে। কেউ কেউ লবি করার আশ্বাস দিলেও কয়েক জন নেতা সেটা স্রেফ ভোটের চাঁদা হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করলে তা আদালতে টিকবে না।

    প্রসঙ্গত, টাকা নিয়ে ধরা পড়ে যাওয়া রাজনীতিতে নতুন নয়। প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডে এর আগে ১১ সংসদের সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। অতীতে ঘুষ নিতে গিয়ে স্টিং অপারেশনে ধরা পড়েছিলেন বিজেপি-র সভাপতি বঙ্গারু লক্ষ্মণ। একই ভাবে ধরা পড়েছিলেন, বিজেপি-র ছত্তীসগড়ে দাবাং নেতা দিলীপ সিংহ যুদেও। গোপন ক্যামেরার তোলা ভিডিয়োতে দিলীপের সেদিনের সংলাপ ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “পয়সা খুদা তো নেহি, মগর খুদা কি কসম/খুদা সে ভি কম নেহি!”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More