শনিবার, মার্চ ২৩

চিদম্বরমের বিরুদ্ধে মামলা করতে অনুমতি সিবিআইকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে অনুমতি চেয়েছিল সিবিআই। প্রায় একমাস বাদে অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার। আইএনএক্স মিডিয়ার নামে টাকা তছরুপের অভিযোগে চিদম্বরমের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। একটি সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সিবিআই তাঁর নামে চার্জশিট দিতে চলেছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই চিদম্বরম ও তাঁর ছেলে কার্তি চিদম্বরমকে জেরা করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট। অভিযোগ, চিদম্বরম কেন্দ্রে মন্ত্রী থাকার সময় বেআইনিভাবে একটি বিদেশী সংস্থাকে আইএনএক্স মিডিয়ায় বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ইডি সূত্রের খবর, চিদম্বরমকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তিনি আইএনএক্স মিডিয়ার দুই মালিক পিটার মুখার্জি ও ইন্দ্রাণী মুখার্জির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কেন? তিনি কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী থাকার সময় ওই সংস্থায় ৩০৫ কোটি টাকা বিদেশী বিনিয়োগে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল কীভাবে? টাকা তছরুপ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

আইএনএক্স মামলায় ইডি এবং সিবিআই, দুই সংস্থাই তদন্ত করছে। সিবিআই তদন্ত করে দেখছে আইএনএক্স মিডিয়ায় কীভাবে বিদেশী বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছিল ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বোর্ড। ইডি তদন্ত করে দেখছে, ওই বিনিয়োগের সময় টাকা তছরুপ করা হয়েছিল কিনা।

গত বছর সিবিআই ওই মামলায় কার্তি চিদম্বরমকে গ্রেফতার করে। কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য তিনি জামিন পান। অভিযোগ, বিদেশী বিনিয়োগ সংক্রান্ত আইন ভাঙার জন্য মরিশাসের একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে যখন তদন্ত হচ্ছিল, তখন তিনি প্রভাব খাটিয়ে সেই তদন্ত চাপা দিয়েছিলেন। কার্তির চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এস ভাস্কররমনকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনিও জামিনে মুক্ত আছেন।

এনফোর্সমেন্টের তদন্তে জানা যায়, বিদেশী বিনিয়োগে অনুমতি পাওয়ার জন্য পিটার ও ইন্দ্রাণী মুখার্জি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত ইডি কার্তির ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। পিটার ও ইন্দ্রাণী মুখার্জির সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ইন্দ্রাণী মুখার্জি এখন তাঁর কন্যা শিনা বরাকে খুনের দায়ে জেলে আছেন। সম্প্রতি তিনি দিল্লির এক আদালতে জানিয়েছেন, চিদম্বরম ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হতে রাজি আছেন। তিনি ভিডিও কনফারেসিং-এর মাধ্যমে বিশেষ বিচারক সুনীল রানার সঙ্গে কথা বলেন। তার পরে ইন্দ্রাণীর জন্য কৌঁসুলি নিয়োগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয় দিল্লি লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে।

Shares

Comments are closed.