বাবর যা করেছিলেন, আমরা তা সংশোধন করতে পারি না, বলল সুপ্রিম কোর্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলা শুনানি ফের শুরু হল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত নেবেন, আলোচনার মাধ্যমে ওই বিতর্কের মীমাংসার চেষ্টা হবে কিনা। হিন্দু মহাসভার কৌঁসুলি আদালতে বলেছেন, এর আগেও আলোচনার মাধ্যমে বিতর্কের সমাধান করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। অন্যদিকে মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে আরও একবার আলোচনায় বসা উচিত।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ এদিন দু’পক্ষের বক্তব্য শোনে। বিচারপতিরা উভয় পক্ষকেই বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিতর্কের মীমাংসার জন্য একটা রাস্তা খুঁজে বার করতে হবে।

হিন্দু মহাসভা এদিন বলে, আমাদের কাছে এটি ভাবাবেগের বিষয়। ওই জমি বিগ্রহের সম্পত্তি। তা নিয়ে কারও মধ্যস্থতা করার অধিকার নেই। হিন্দু মহাসভার কৌঁসুলি জানিয়ে দেন, আমরা ১৯৫০ সাল থেকে অযোধ্যা মামলার সমাধানের জন্য অপেক্ষা করছি।

বিচারপতিদের বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, আপনারা কি পুরো ব্যাপারটা নিয়ে আগেভাগে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন না? আপনারা আলোচনা শুরুর আগেই বলছেন, তাতে লাভ হবে না। আমাদের মনে হয়, এই ভাবনা ঠিক নয়।

বিচারপতিরা যে ভাবাবেগের বিষয়টি নিয়ে সচেতন সেকথা জানিয়ে বিচারপতি বোবদে বলেন, আদালত যখন মধ্যস্থতা করার নির্দেশ দেয়, তখন এমন মনে করা হয় না যে, কেউ তার দাবি ছেড়ে দেবে। আমরা মনে করি এটা নিছক জমির মামলা নয়। এর সঙ্গে বিশ্বাস ও ভাবাবেগের বিষয়টি জড়িত। আপনারা ভাববেন না যে, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে সচেতন নই।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইতিহাসও জানি। আমরা আপনাদের যেকথা বলতে চেষ্টা করছি, তা হল, অতীতে যা ঘটে গিয়েছে, তার ওপরে আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। বাবর আক্রমণ করেছিলেন, কোনও কিছু ধ্বংস করেছিলেন, তার প্রতিকার করা এখন সম্ভব নয়। বর্তমানে আমাদের সামনে যে সমস্যা রয়েছে, আমরা কেবল তারই সমাধানের চেষ্টা করতে পারি।

অযোধ্যা নিয়ে বিচারপতিরা যদি মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেন, তাহলে রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হতে দেরি হবে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলি চায়, দ্রুত মন্দির নির্মাণ শুরু হোক। তারা এমনও দাবি করেছে, আদালতকে এড়িয়েই শুরু হোক রামমন্দিরের নির্মাণ। সেজন্য সরকার অধ্যাদেশ জারি করুক। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতকে এড়িয়ে তিনি কিছু করতে রাজি নন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More