বিজেপির তিন বড় নেতাকে ছাড় দেওয়া হল কেন? দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লি দাঙ্গার আগে বিজেপির যে বড় নেতারা উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন, তাঁদের নাম চার্জশিটে নেই কেন? ওই দাঙ্গা নিয়ে পুলিশ চার্জশিট দেওয়ার পরে এমনই প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার জুলিও রেবেইরো। দিল্লি পুলিশকে তিনি মোট দু’টি চিঠি লিখেছেন। দাঙ্গার তদন্ত চলার সময় প্রথম চিঠিটি লিখেছিলেন। পুলিশ চার্জশিট দেওয়ার পরে তিনি দ্বিতীয় চিঠিটি লিখেছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির দাঙ্গায় ৫৩ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ জন। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস হয়। রেবেইরোর প্রথম চিঠির জবাবে দিল্লির পুলিশ প্রধান এস এন শ্রীবাস্তব বলেন, আমরা তথ্যনিষ্ঠ অনুসন্ধান করছি। কোথাও অস্বচ্ছতা নেই।

বুধবার দিল্লি পুলিশ দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে চার্জশিট জমা দেয়। এরপরে দ্বিতীয় চিঠিতে রেবেইরো লেখেন, “প্রথম চিঠিতে আমি যে সংশয় প্রকাশ করেছিলাম, তা এখনও রয়েই গিয়েছে। যাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কটূক্তি করেছিলেন কয়েকজন হেভিওয়েট বিজেপি নেতা। তাঁদের ওই ধরনের কাজ করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। কেন দেওয়া হয়েছে তা পরিষ্কার নয়।” এরপর রেবেইরো লিখেছেন, “মুসলিম বা বামপন্থীরা যদি ওই ধরনের ভাষণ দিতেন নিঃসন্দেহে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনত।”

পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত রেবেইরো একসময় মুম্বই, গুজরাত এবং পাঞ্জাবে পুলিশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সি আর পি এফেরও শীর্ষস্থানে ছিলেন। প্রথম চিঠিতে তিনি তিন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর ও প্রবেশ বর্মার নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না কেন?

দিল্লি দাঙ্গার ঠিক আগে এক ভিডিওতে দেখা যায়, কপিল মিশ্র জনৈক পুলিশকর্মীকে হুমকি দিয়ে বলছেন, তারা যদি নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে হটিয়ে না দেয়, তাহলে তাঁরা রাস্তায় নামবেন। তার কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এক মিছিলে স্লোগান তোলেন, গোলি মারো গদ্দারোঁকো। প্রবেশ বর্মার বিরুদ্ধেও উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগ আছে।

দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে ১৭ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। তাতে নাম আছে ১৫ জনের। তাঁরা সকলেই নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন।

চার্জশিটে ২৬০০ পাতা জুড়ে অভিযুক্তদের অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে কয়েক হাজার পাতার অ্যানেক্সচার। কয়েকটি ক্ষেত্রে সন্ত্রাসদমন আইনে চার্জ আনা হয়েছে।

চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন সাসপেন্ডেড আপ কাউন্সিলার তাহির হুসেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও তদন্ত চলছে। পরে একটি সাপ্লিমেনটারি চার্জশিট পেশ করা হবে। তাতে আরও কয়েকজন অভিযুক্তের নাম থাকবে।

পুলিশ এদিন আদালত বলে, “চার্জশিটে যে ষড়যন্ত্রকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে দাঙ্গাবাজদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল। সিলামপুর ও জাফরাবাদে দাঙ্গা করার জন্য দু’টি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছিল। দাঙ্গায় ওই দু’টি এলাকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More