মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন তো আপনি? খেয়াল রাখুন নিজের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যান্সার।  এই একটা শব্দেই ঘুম উড়ে যায় আজও।  চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক দূর এগিয়ে এসেও, এই ক্যান্সারের এখনও কোনও অ্যান্সার দিতে পারেনি।  যে রোগ ধরাই পড়ে তার শেষ বেলায়, তার আর চিকিৎসা হয়ই বা কী করে! এই রোগ শরীরের কোথায় হচ্ছে, কতদিন ধরে বাসা বেধে আছে শরীরে, সে গুলো আমাদের খেয়াল করা দরকার।  যখন খেয়াল করি, অনেকটাই সময় পেরিয়ে যায়।  তাই যে সব লক্ষণ আপনাকে নজর করতে হবে, সেগুলো জেনে নিন, আর সতর্ক থাকুন।  কারণ ক্যান্সার একই সাথে একটি রোগ এবং কিছু লক্ষণের মিশেল।  তাই সেই লক্ষণগুলোর প্রতি সতর্ক থাকুন।
কতদিন ধরে হয়েছে, শরীরের কোথায় হয়েছে, সাইজে কতটা বেড়েছে, অঙ্গ এবং কোষকে কতটা প্রভাবিত করছে এই সবকিছুই খুব গুরুত্বপূর্ণ এক্ষেত্রে।

১. ওজন কমে যাওয়া
কোনও চেষ্টা ছাড়াই যদি খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমতে থাকে, তাহলে সেটা অ্যালার্মিং লক্ষণ।  আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি গবেষণা করে বলছে, সাধারণত স্টম্যাক, প্যানক্রিয়াস, লাঙ ক্যানসারের ক্ষেত্রে খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমতে থাকে।  খাদ্যনালীতেও ক্যান্সার শুরু হলে আপনার ওজন কমবে খুব তাড়াতাড়ি।

২. ক্লান্তি
সারাদিন যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম নিচ্ছেন, ঘুমোচ্ছেন তবুও কি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন? সতর্ক হতে হবে আপনাকে।  সাধারণত স্টম্যাক ক্যান্সার , লিউকেমিয়া, কোলোন ক্যান্সার হলে আপনার এই ক্লান্তি আসবেই।  দেরি করা চলবে না, ছুটতে হবে ডাক্তারের কাছে, শুরু করতে হবে চিকিৎসা।

৩. ঘা সারছে না  কিছুতেই
বহুদিন হয়ে গেলেও ঘা সারছে না কিছুতেই? চিন্তার বিষয়, হতে পারে এটা স্কিন ক্যান্সারের লক্ষণ।  মুখের ভিতরে কোনও ঘা যদি না সারে, বুঝতে হবে ওরাল ক্যান্সারের সম্ভাবনা।  যৌনাঙ্গে অনেক সময় ঘা হয়, আর সেটা লজ্জা হোক বা ভয়ে ডাক্তারের কাছে অনেকটা পরে পৌঁছয়।  তাতে সমস্যা সারে না তো।  তাই শুরুতেই যান, ডাক্তারের কাছে।  কারণ তাতে ইনফেক্শন হোক বা ক্যান্সারের সূচনা, সবটুকুই আয়ত্তে থাকতে পারে।

৪. একটানা সর্দি-কাশি গলা খুশখুশ
একটানা যদি সর্দি কাশি লেগে থাকে, তাহলে সাবধান হতে হবে।  সপ্তাহের পর সপ্তাহ বা মাসের পর মাস কেটে গেলে তা কিন্তু বিপজ্জনক।  লাঙ ক্যান্সারের লক্ষণ এগুলো।  থাইরয়েড গ্ল্যাণ্ডের ক্যান্সার হলে একটানা আপনার গলা খুশখুশের সমস্যা থাকবে।  তাই চেষ্টা করবেন, এই সমস্যাগুলো হলেই গাফিলতি না করে ডাক্তারের কাছে যেতে।

৫. জ্বর
ক্যানসার হলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় অনেকটাই, তাই বারবার জ্বর আসতে পারে।  লিউকেমিয়া, লিম্ফোমিয়ার লক্ষণ এই বারবার জ্বর আসা।  তাই প্যারাসিটামল দিয়ে বারবার চেপে দেবেন না এই জ্বর।  জ্বরের পেছনেই রয়েছে ক্যান্সারের মতো মিছরির ছুরি।

৬. ব্যথা
শুক্রাশয় অথবা হাড়ের ক্যানসার হলে সারা গা হাত পায়ে দেখবেন ব্যথা করছে, আর সেই ব্যথা কিছুতেই যাচ্ছে না আপনাকে ছেড়ে।  মাথা ব্যথায় জেরবার হলে সেটা ব্রেন টিউমারের লক্ষম হতে পারে।  কাজেই কোনও ব্যথা নিয়েই বেশি দিন থাকবেন না।  চেষ্টা করবেন, ডাক্তারের কাছে গিয়ে তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করে বিষয়টা বুঝে নিতে।

৭. ত্বকের পরিবর্তন
খেয়াল করে দেখবেন, আপনার শরীরের কোথাও থাকা তিল বা আঁচিলের আকার এবং রঙে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না।  এগুলো অনেক সময়েই আকারে বাড়তে থাকে, বা শেপে পরিবর্তন আসে স্কিন ক্যানসারের জন্য।  এছাড়াও হলদেটে চামড়া বা বারবার অল্পেতেই লালচে হয়ে যাওয়া, যা হয় তো আগে হত না, এমন হলে বুঝতে হবে স্কিন ক্যানসারের সম্ভাবনা।  আর অনেকক্ষেত্রেই চুলকোতে থাকে এক একটা জায়গা।  খুব সাধারণ ভেবে কিন্তু আমরা সেটা এড়িয়ে যাই, কিন্তু আসলে ওটাও একটা লক্ষণ।  তাই খেয়াল রাখতে হবে আপনাকেই।

. মল মূত্র ত্যাগের অভ্যাসের হঠাৎ বদল
কোষ্ঠকাঠিন্য, মলের আকারে এবং সাইজে পরিবর্তন আসা, বারবার ডায়রিয়া হওয়া আপনার চিন্তার কারণ হতেই পারে।  রেক্টাল ক্যানসার বা কোলনের ক্যানসারের লক্ষণ এগুলো।  ইউরিন পাস করার সময়ে যদি ব্যথা করে তলপেটে, বা রক্ত আসে তাহলে বুঝতে হবে প্রস্টেট  বা ব্লাডারের ক্যানসার হতে পারে।  তাই বাড়তি সচেতনতা দরকার।

৯.লাম্প
স্কিনের কোথাও লাম্প হলে, সেটা ব্রেস্ট ক্যানসার বা শুক্রাণুর ক্যানসার হতে পারে।  এমনকি এসব ক্ষেত্রে অনেক সময়ে লাম্প হয়  না, স্কিনে একটা লাল মোটা চামড়ার আস্তরণ থাকে।  সেটাও কিন্তু ভয়ের কারণ।  মাথায় রাখতে হবে।

১০. রক্তক্ষরণ
কাশির সাথে যদি রক্ত পড়ে, বুঝবেন লাঙ ক্যানসারের লক্ষণ।  আবার পটির সাথে রক্ত পড়লে, বা রঙ কালো হলে বুঝতে হবে কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ।  ভ্যাজাইনাল ব্লাড সার্ভিকাল ক্যান্সারের দিকেই নজর দিতে বলে, ইউরিনের সাথে রক্ত এলে বুঝতে হবে কিডনির ক্যানসারের সম্ভাবনা।

অতএব সমস্যা শুরু হতে পারে কোথা থেকে, সেটা কিছুটা ধারণা করলেন, তবে সবসময়েই চেষ্টা করবেন শুরুতেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে ধাপে ধাপে ক্যানসারকে আয়ত্তে আনতে।  রোগ আপনাকে সময় দেবে না, তাই আপনিও অযথা রোগকে বাড়তে সময় দেবেন না।

 

Comments are closed.