Latest News

চিন আরও একঘরে হয়ে যাবে! ধনপতি গৌতম আদানি কোন যুক্তিতে এই দাবি করলেন সিঙ্গাপুরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের (China) ভিতরে কিছুটা একটা দলা পাকিয়ে উঠছে বলে গত কয়েকদিন ধরেই গুজব ও জল্পনা চলছে। বেজিং তা অস্বীকার করেছে। তবে এও ভুল নয় যে, যা রটে তার কিছুটা অন্তত বটে! চিনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যখন এমনই সাত-সতেরো আলোচনা চলছে, তখন সোমবার সিঙ্গাপুরে ওয়ার্ল্ডই সিইও সম্মেলনে বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানি (Billionaire Gautam Adani) দাবি করলেন, চিন ক্রমশ আরও এক ঘরে হয়ে যাবে। তাঁর মতে, নানা কারণে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে। তা সে সাপ্লাই চেনের ধারা পরিবর্তন হোক বা প্রযুক্তিগত বিষয়। আদানি বোঝাতে চেয়েছেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও জাত্যাভিমানের আবেগ বাড়ার কারণে বিপদে পড়তে পারে বেজিং।

চিনের ঔপনিবেশিক আচরণ ও আধিপত্য বিস্তার নীতি নতুন নয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিকে সড়কপথে জুড়তে চিন বেল্ট অ্যান্ড রোড নামে একটি উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বেজিংয়ের এই উচ্চাকাঙ্খা ইতিমধ্যেই ধাক্কা খেতে শুরু করেছে। কারণ, অনেক দেশেই তা প্রতিরোধের মুখে পড়ছে।

বিশ্বের তৃতীয় সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির (World’s Third Richest) কথায়, “চিনে প্রপার্টি মার্কেটে ধস নামতে শুরু করেছে, যা নব্বইয়ের দশকের জাপানের কথা মনে করাচ্ছে।”

আবার বিশ্বজনীন চলতি মন্দার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরের ওই সম্মেলনে গৌতম আদানি বলেছেন, “আমি মনে কর সব অর্থনীতিই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াবে। তবে হ্যাঁ এবার ঘুরে দাঁড়ানোটা আগের তুলনায় কঠিনতর ব্যাপার।”

চিন ও বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে গৌতম আদানির এহেন মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বন্দর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সমস্ত ব্যবসাতেই এখন দাপিয়ে প্রভাব বাড়াচ্ছে আদানি শিল্পগোষ্ঠী। তাদের গ্লোবাল ইমপ্রিন্ট ও প্রোফাইলও বাড়ছে। এ বছর গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ ৫৮ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গিয়েছে।

ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে উন্নত দেশগুলির সমালোচনারও এদিন জবাব দিয়েছেন গৌতম আদানি। “সমালোচকরা চায় যে আমরা সব প্রাকৃতিক জ্বালানি শেষ করে ফেলি। কিন্তু ভারত তা করবে না”। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ভারত ফসিল ফুয়েল যেমন ব্যবহার করবে তেমনই অচিরাচরিত উৎস্য থেকেও উৎপাদন বাড়াবে।

বস্তুত আদানি শিল্পগোষ্ঠী অচিরাচরিত শক্তি উৎস্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। কিছু পরিবেশবিদ অবশ্য বলছেন যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আদানির উচ্চাকাঙ্খা কেবল অচিরাচরিত শক্তির ব্যাপারেই থেমে নেই আরও কয়লা খনিও নিতে চাইছে তারা।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সে ছাড়া উপায়ও নেই। উন্নত দেশগুলি ঐতিহাসিক ক্ষতি করেছে জলবায়ুর। এখন ভারতের উপর চাপ বাড়ালে চলবে না। এত বড় দেশে সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে দু’রকম পথেই হাঁটতে হবে। ফসিল ফুয়েল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। তার পাশাপাশিই অচিরাচরিত শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ টানতে হবে।

ভারতে চুরি যাওয়া স্মার্টফোনের অপব্যবহার রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র

You might also like