বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

গরু পাচারে সীমান্তে বাধা বিএসএফ, বোমা ছুড়ল বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা! মৃত্যুর মুখোমুখি জওয়ান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ থেকে এ দেশে গরু পাচার চালানোর চেষ্টা করছিল দুষ্কৃতীরা। বাধা দিয়েছিলেন সীমান্তে মোতায়েন বিএসএফ কর্মীরা। এর মধ্যেই বাংলাদেশি পাচাকারীদের ছোড়া বোমায় গুরুতর জখম হলেন বিএসএফের ৬৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের এক জওয়ান আনিসুর রহমান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বনগাঁ-র একটি সরকারি হাসপাতালে। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার একটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, গাইঘাটা থানার আংরাইল সীমান্তে ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-র কাছে আংরাইল সীমান্তে কিছুটা এলাকায় কাঁটাতার না থাকার সুযোগ নিয়ে, প্রায় ২৫ জন বাংলাদেশি পাচারকারীর একটি দল, ১০-১৫টি গরু পাচারের চেষ্টা করছিল বাংলাদেশে।

সেই সময় বিএসএফ-এর টহলদারি দল তাদের সতর্ক করে। বচসা শুরু হয়। আচমকাই বাংলাদেশি পাচারকারীরা বোমা ছুড়তে শুরু করে বিএসএফ কর্মীদের দিকে। সেই বোমার আঘাতেই গুরুতর আহত হন জওয়ান আনিসুর রহমান। যদিও এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বিএসএফ-এর তরফে জানানো হয়েছে, পাচারকারীদের কাছে দিশি বোমা ছাড়াও আরও অনেক অস্ত্র (লাঠি, হাসিয়া, দাহাস, হাই বিম টর্চ) ছিল।

এ দিন পাচারকারীদের সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখে আগেই তাদের সতর্ক করেছিল বিএসএফ। কিন্তু লাভ হয়নি। গরু পাচারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল পাচারকারী দল। প্রায় ২০০ মিটার দূর থেকে ডিউটিতে থাকা জওয়ান আনিসুর রহমানের দিকে নজর রাখছিল তারা। উদ্দেশ্য একটাই। কোনওরকমে ফাঁকি দিয়ে বর্ডার পার করা। বিএসএফ-এর তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে আনিসুরের চোখে হাই ভোল্টেজ টর্চ মারে পাচারকারীদের কয়েকজন। জওয়ানের চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার সময়েই বাকিরা একটি দিশি বোম মারে আনিসুরের গায়ে। মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছেন ওই জওয়ান।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ঘনিয়েছে বিএসএফ-এর অন্দরে। উপরতলা থেকে সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনে গুলি চালানোর। আহত জওয়ান আনিসুরের একটি হাতের অংশ বোমায় উড়ে গিয়েছে। সারা শরীরে অসংখ্য মারাত্মক ক্ষত হয়েছে তার। নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে সরব হয়েছে বিএসএফ। জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে, বড় আন্দোলনের পথে যাবে সেনা। যদিও এই ঘটনায় এখনও কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অনুমান, বাংলাদেশেই পালিয়ে গিয়েছে পাচারকারীরা।

Comments are closed.