শনিবার, মার্চ ২৩

ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র আগে ‘সম্মান রক্ষায়’ মেরে, কেটে, জ্বালিয়ে দেওয়া হল যুগলকে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালকেই ভ্যালেন্টাইন্স ডে। ভালবাসা দিবসের আগে, সপ্তাহ জুড়ে চলছে তার উদযাপন। কোনও দিন গোলাপ, তো কোনও দিন আলিঙ্গন। কোনও দিন আবার চুম্বন। সোশ্যাল মিডিয়া উপচে পড়ছে ভালবাসার বার্তায় আর ছবিতে। বসন্তের আগমনে প্রেমের ছোঁয়ায় উদ্বেল তরুণ-তরুণীরা।

এরই মধ্যে ভালবাসার ‘অপরাধে’ নৃশংস ভাবে প্রাণ দিতে হল এক যুগলকে। ঘটনাস্থল সেই বিহার। পরিবারের ‘সম্মান রক্ষার’ ছুতোয় মেরে ফেলা হল তাঁদের। অভিযোগ, মৃতা তরুণীর বাবা-কাকা-মামা মিলে তরুণ-তরুণীকে গলা টিপে খুন করে, দেহ টুকরো করে কেটে, পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দিয়েছে!

পুলিশ জানিয়েছে, গয়ার মুফস্‌সিল থানা এলাকার বজিরগঞ্জের ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরা চলছে।

জানা গিয়েছে, মৃতা তরুণীর গৃহশিক্ষক ছিলেন ওই তরুণ। কিছু দিন পরেই ভালবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। দু’জনের জাতি আলাদা হওয়ায়, বাড়ি থেকে মেনে নেয়নি সম্পর্ক। কিছু দিন পরে মন্দিরে বিয়ে করে, বাড়ি থেকে দূরে অন্য একটি এলাকায় আলাদা ঘর ভাড়া করে থাকতে শুরু করেন তাঁরা।

কিছু দিন আগে বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হতেই পরিবারের সদস্যেরা মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এর পরে তারা পুলিশকে চাপ দিয়ে ওই তরুণ-তরুণীকে বাড়ি থেকে বার করে আনে বলে অভিযোগ৷ গ্রেফতার করা হয় তরুণকে।

আদালতে ওই তরুণী বয়ান নথিভুক্ত করেন যে, পরস্পরের ইচ্ছা মেনেই তাঁরা বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। সব শুনে তরুণকে জামিনে মুক্তি দেয় আদালত। এর পর বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে আনা হয় এবং সেখানেও তরুণী সাফ জানিয়ে দেন, তাঁরা একসঙ্গেই থাকতে চান। শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েতও তাতে সম্মতি দেয়।

কিন্তু বাড়ির মেয়ে ও তার প্রেমিককে ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে বদ্ধপরিকর ছিল পরিবার। তরুণীর বাবা তার ভাই ও শালার সঙ্গে পরিকল্পনা করে। এক সময়ে তরুণকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে ওই তরুণীকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যেরা বাড়ি ফিরে যায়৷ এরই মাঝে ওই তরুণ লুকিয়ে দেখা করতে আসেন স্ত্রীয়ের সঙ্গে৷

সেই সময়েই ধরা পড়ে যান তিনি। তাকে অপহরণ করে একটি নদীর পাড়ে নিয়ে য়ায় অভিযুক্তরা৷ তার পরে ওই নদীর পাড়ে আনা হয় তরুণীকেও। অভিযোগ, সেখানেই প্রথমে তরুণ-তরুণীর গলা টিপে হত্যা করা হয়৷ এর পরে মৃতদেহগুলি টুকরো করে কেটে পুড়িয়ে দেওয়া হয় পেট্রোল ঢেলে৷ পুলিশ পুড়ে যাওয়া দেহাংশগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তেরা জেরায় নিজেদের দোষ স্বীকারও করেছে৷ ঘটনায় আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

Shares

Comments are closed.