এনআরসি-তে নাম নেই চন্দ্রযান ২-এর উপদেষ্টা বিজ্ঞানীর! কিন্তু দাদা বললেন অন্য কথা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু দিন আগেই সামনে এসেছিল মহম্মদ সানাউল্লার নাম। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সেনা সানাউল্লা লড়াই করেছিলেন কার্গিল যুদ্ধে। তার পরেও এনআরসি-তে নাম ওঠেনি তাঁর। দেশের জন্য লড়াই করেও ১৯ লক্ষ দেশহীন মানুষের তালিকায় চলে গিয়েছিলেন রাতারাতি। কিছু দিন পরেই ফের সামনে এসেছে বিজ্ঞানী জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীর নাম। ইসরো-র চন্দ্রযান ২ অভিযানের উপদেষ্টা এই বিজ্ঞানী আজ দেশের অন্যতম গর্বিত অধ্যায়ের এক কাণ্ডারী হয়েও, বাদ পড়ে গিয়েছেন এনআরসি থেকে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই ফের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে নেট দুনিয়া। কিন্তু এই বার মুখ খুললেন বিজ্ঞানী জিতেন্দ্রনাথের দাদা, হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী। ঘটনাচক্রে তিনি আবার অসম বিধানসভার স্পিকার। তবে ভাইয়ের এনআরসি-তে নাম না থাকা নিয়ে খানিক উল্টো সুরে গাইলেন তিনি। জানালেন, বিষয়টি নিয়ে অহেতুক হৈ চৈ করা হচ্ছে। তাঁর ভাই, বিজ্ঞানী জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী অনেক দিন আগেই আসাম ছেড়েছেন, এবং বর্তমানে তিনি সপরিবার আমদাবাদে থাকেন। সেখানকার ভোটার কার্ডও আছে তাঁর।

দাদা হিতেন্দ্রনাথের আরও দাবি, তাঁর ভাইয়ের আর কোনও দিন অসমে ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই, তাই তিনি এনআরসি-তে নাম তোলার জন্য আবেদনও করেননি। ফলে এনআরসি-তে নাম থাকার কথাও নয় ওই বিজ্ঞানীর। সবাই সবটা না জেনেই বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি করছে বলে অভিযোগ তাঁর।

বস্তুত, অসমের এনআরসির গেরোয় রাষ্ট্রহীন অসম তথা ভারতের বহু মানুষ। তালিকায় তাঁদের নাম না থাকা বিস্মিত করেছে সারা দেশকে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির পরিবার থেকে বিরোধী দলের বিধায়ক, কার্গিল যোদ্ধা, স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিজন– এমন বহু মানুষ মিশে আছেন ১৯ লক্ষে। এই সমস্ত ঘটনা যত সামনেআসছে তত ক্ষোভ বাড়ছে ভুক্তভোগীদের। সেই বাদের তালিকাতেই সংযোজন হয়েছিল অসমের আরও এক বিশিষ্ট ব্যক্তি,ইসরো-র বিজ্ঞানী জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীর নাম।

ভারতের গর্বের চন্দ্রযান ২ যখন চাঁদের মাটি ছোঁয়ার পথে, তখনই সেই কর্মযজ্ঞেরই এক জন অন্যতম অংশীদার জিতেন্দ্রনাথের নাম এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার কথা জানা গিয়েছিল। চন্দ্রযান ২-এর অন্যতম উপদেষ্টার নাম না থাকা গর্বের দিনেও লজ্জাজনক হয়ে উঠেছিল ভারতবাসীর কাছে।

গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হয় এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা। যাতে বাদ যায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম। রাতারাতি নিজভূমে পরবাসী হয়ে যান অংসখ্য অসমবাসী। যার সিংহভাগই হিন্দু বাঙালি। এই সময়ে জিতেন্দ্রনাথ অবশ্য বলেছিলেন, “আমরা গত ২০ বছর ধরে আহমেদাবাদে থাকি। কিন্তু কোনও ভাবে আমার এবং পরিজনদের নাম বাদ পড়েছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে। আমার পরিবারের অনেকে এখনও অসমে থাকেন। জোড়হাটে আমাদের জমিজমাও রয়েছে।” আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন ওই বিজ্ঞানী।

কিন্তু এ দিন তাঁর দাদা বললেন, “আমার আরও কয়েক জন ভাই অসমে থাকেন। তাঁরা বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে এনআরসি-তে নাম তোলার আবেদন করেছিলেন। তাঁদের সকলের নাম তালিকায় আছে। জিতেন্দ্রনাথ তো আবেদনই করেননি। কী করে থাকবে ওঁর নাম তালিকায়। আমার ভাই এখন গুজরাতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক। আমাদের এক ভাই এখন আমেরিকায় থাকেন। তিনিও আবেদন করেননি, তাই তালিকায় নাম নেই তাঁরও।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More