দিদির মৃতদেহ চার দিন ধরে আগলে রাখলেন ভাই! ঠিক যেন রবিনসন স্ট্রিটের ঘটনা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওযাল ব্যুরো: চার দিন ধরে দিদির দেহ আগলে রাখল ভাই! দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে, উদ্ধার করা হল পচা-গলা দেহ। রবিনসন স্ট্রিটের মতোই এই ঘটনা ফের ঘটল দমদমের জগদীশপুর এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১.৩০ মিনিট নাগাদ দমদমের জগদীশপুর একটি বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে বলে অভিযোগ জানান প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমদম থানার পুলিশ। নির্দিষ্ট বাড়িটি তল্লাশি করেন তাঁরা। কিন্তু দুর্গন্ধের উৎস দেখে তাঁদেরও চোখ কপালে! পড়ে রয়েছে ওই বাড়ির বাসিন্দা ৫৫ বছরের রুমা দত্তের দেহ! আর সেই দেহ আগলে বসে রয়েছেন তাঁর ভাই, ৫০ বছরের বিশ্বরূপ দত্ত।

পুলিশের দাবি, অন্তত চার দিন আগে মৃত্যু হয়েছে রুমাদেবীর। সৎকার না করে, কাউকে না জানিয়ে, দেহ আগলে বসে থেকেছেন ভাই বিশ্বরূপ। পতন ধরলেও কাউকে জানাননি। বিশ্বরূপকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের কাছে এই কথা স্বীকার করেছেন বিশ্বরূপ। জানিয়েছেন, দিদিকে পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মৃত রুমা দত্ত এবং তাঁর ভাই বিশ্বরূপ দত্ত– দু’জনেই মানসিক রোগী। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিশতেন না তাঁরা। তাই এলাকার বাসিন্দারাও খুব একটা তাঁদের খোঁজ খবর রাখতেন না। তাঁদের বাবা মা মারা গিয়েছেন। রুমাদেবীর বিয়ে হলেও, স্বামী বিশ্বনাথ দত্ত অনেক দিন আগেই ছেড়ে চলে গেছেন। তার পর থেকে দু’ভাই-বোন একাই থাকতেন ওই বাড়িতে।

রুমাদেবীর দেহটি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তে পাঠিয়েছে দমদম থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।

গত কয়েক দিন ধরেই জগদীশপুর এলাকার বাসিন্দারা দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন। পরে তাঁরা অনুমান করেন, রুমা দত্তের বাড়ি থেকেই বেরোচ্ছে গন্ধ। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই গন্ধ আরও তীব্র হলে, দমদম থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়িতে ঢুকতেই দেখতে পান, বিছানার উপর পড়ে রয়েছে রুমাদেবীর দেহ। পাশেই বসে তাঁর ভাই বিশ্বরূপ দত্ত, যেন দিদিকে পাহারা দিচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অসুস্থতার কারণেই রুমা দেবীর মৃত্যু হয়েছে। এবং মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বিশ্বরূপ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More