বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

Breaking: সৌমিত্রের পর এবার বোলপুরের সাংসদও, অনুপম হাজরাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খান বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর, বাংলায় শাসক দলের অন্দরে সন্দেহ ছিল না যে পরের উইকেটটাও পড়বে খুব শিগগির। এবং তিনি আর কেউ নন, বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা। অনুপমকে আর দল ছাড়ার ‘নাটক’ করার সুযোগ দিলেন না দিদি। আগেভাগেই তাঁকে বহিষ্কার করে দিলেন।

অনুপমকে যে বোলপুর থেকে তৃণমূল এ বার টিকিট দেবে না, তা বীরভূমে কারও জানতে বাকি ছিল না। কেন না জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল তথা কেষ্টর সঙ্গে কস্মিনকালে বনিবনা ছিল না অনুপমের। অথচ পাঁচ বছর আগে একটা সময় ছিল, যখন তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে অনুপমকে খুঁজে বের করেছিলেন অনুব্রতই। তৃণমূলের নেতারাই বলেন, দিদি সে বার কেষ্টকে বলেছিলেন, রবি ঠাকুরের স্মৃতিমাখা এলাকা তো, একটা শিক্ষিত প্রার্থীর খোঁজ করো। অনুব্রত হাতের কাছে পেয়েছিলেন বিশ্বভারতীর এই অধ্যাপককে।

কিন্তু অনুব্রতর রাজনীতির সঙ্গে অনুপমের পথ যেমন মেলেনি, তেমনই এও ঠিক যে সোশাল মিডিয়ায় অনুপম যে ধরনের কথাবার্তা বলতে শুরু করেছিলেন তাতে বার বার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। এমনকি অনুপমের ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা নিয়েও উষ্মা ছিল তৃণমূলে।

মুকুল রায় তৃণমূল ছাড়ার পর, ঠিক এই পরিস্থিতিরই সুযোগ নেন। গত বছর খানেক ধরে মুকুলবাবুর সঙ্গে ক্রমশই দহরম মহরম বাড়তে থাকে অনুপমের। এমনকি সৌমিত্র ও অনুপমকে নিয়ে সাত মাস আগেই অমিত শাহ-র সঙ্গে দেখা করে আসেন মুকুলবাবু। ঠিক হয়, লোকসভা ভোটের ঠিক মুখে দল ছাড়বেন এই দুই সাংসদ।

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ এগোচ্ছিল। তবে বুধবার সৌমিত্র দল ছাড়ার পরই তাঁর হরিহর আত্মা অনুপম তৃণমূলকে ধোঁয়াশায় রাখতে একটি টুইটও করেছিলেন। তাতে লিখেছিলেন জেলার রাজনীতিতে তাঁকে অপ্রাসঙ্গিক করে রাখা হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আস্থা অটুট রয়েছে। কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝতে পারেন, এটাও একটা কৌশল। তাই আর সময় নষ্ট না করে এ দিনই বহিষ্কার করেন সৌমিত্রকে।

এ ব্যাপারে অনুপম এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে মুকুল রায় বলেন, “মমতা বুঝতে পেরে গিয়েছেন যে ও দল ছাড়বে। এই বহিষ্কারের কোনও মানেই নেই। কংগ্রেস যেমন মমতাকে বহিষ্কার করেছিল, এও খানিকটা সেরকমই হল।”

 

Shares

Comments are closed.