শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ও ধারাবাহিক জনসংযোগ ইসরোর, সরকারি গাম্ভীর্য ভেঙে চুরমার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে সে বিষয় নয়, মহাকাশের খুঁটিনাটি নিয়ে তার কারবার। মহাকাশযানের মতো ভারী এবং জটিল জিনিস নিয়ে সে ঘর করে। ফলে সারা দেশের আর পাঁচটা সংস্থার তুলনায়, তার গুরুত্বই আলাদা। কী ধারে, কী ভারে– সারা দেশের সমস্ত সংস্থার থেকে সব দিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন, ইসরো। একে সরকারি, তার উপর গুরুত্বপূর্ণ ফলে এই সংস্থার সমস্ত নিয়ম কানুন, তার এক্সপ্রেশন, তার ঘোষণা– এ সবই গাম্ভীর্য দাবি করে অনেক বেশি।

কিন্তু এই চন্দ্রযান অভিযান নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ স্থাপন করতে গিয়ে, সে সব রাশভারী নীতি-নিয়মের মোটেই তোয়াক্কা করল না ইসরো। এমনকী কাউন্টডাউনেও রইল না প্রত্যাশিত উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের ছাপ। বরং মজার মোড়কে, ঠান্ডা মাথায়, একের পর এক পোস্ট করে, সোশ্যাল মিডিয়া মাতিয়ে রাখল তারা। আর এই পথেই সঙ্গে জুড়ে নিল বহু মানুষকে। মহাকাশ নিয়ে একটুও উৎসাহ না-থাকা মানুষটিও যেন কোনও না কোনও ভাবে উঁকিঝুঁকি মারতে বাধ্য হচ্ছেন, চন্দ্রযানের গতিপথে। সকলের মধ্যেই যেন, “এ বার কী হবে!” নামের কৌতূহলটা চারিয়ে দিয়েছে ইসরো।

সম্প্রতি, চন্দ্রযান উৎক্ষেপণের পর থেকে ইসরোর সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলি ফলো করলেই এই পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়ছে। গম্ভীর স্বরে ঘোষণার বদলে আসছে কুইজ়, অ্যানিমেশন, নানা রকমের ফুটেজ, ছবি। এবং সেটা ধারাবাহিক ভাবে। যা দেখে নেটিজেনরা ‘এনগেজড’ হয়ে পড়ছেন এই যাত্রার সঙ্গে। লক্ষ লক্ষ মানুষের কল্পনার জগতে সুন্দর করে বিস্তার ঘটাচ্ছে এই মহাকাশ অভিযান। যা হয়তো খুব গম্ভীর ও প্রথাগত নিয়মে মানুষকে জানালে, তা গৃহীতই হতো না এত বেশি করে। কখনও কখনও যেন মনে হচ্ছে, এটা আদৌ কোনও সরকারি সংস্থার টুইটার হ্যান্ডেল নয়। যেন পুরোটাই কর্পোরেট পদ্ধতিতে জনসংযোগের কামাল।

চন্দ্রযানের আগে যখন ইসরোর তরফে মঙ্গল অভিযান হল, তখনও ইসরোর এই জনসংযোগ প্রকাশ পায়নি। তখন নিয়ম মেনে সরকারি কায়দাতেই ঘোষণা শুনেছে মানুষ। কিন্তু এই বার এর চেহারা এতই লঘু, সহজ, মজাদার– যে স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের কাছেও যেন সবটা ধরা দিচ্ছে জলবৎ তরলং হয়ে। কখনও অনলাইনেই মহাকাশ-কুইজ়ে নাম লেখাচ্ছে তারা, কখনও আবার মুগ্ধ হয়ে দেখছে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে বর্ণিত চন্দ্রযান। সেই সঙ্গে, ৬০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য এই প্রথম চাঁদে নামার সময়ের ভিডিও লাইভ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে ইসরোর দফতরে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ইসরোর এক কর্তার কথায়, “এরকম ধরনের ইভেন্ট যখন হয়, তখ সাধারণ মানুষ খুব একটা মাথা ঘামায় না। ভাবে, এ সব তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু তাদের আকর্ষণ করার মতো ভাবনাচিন্তা এত দিন আমাদের ছিল না। এখন সে দিকে এতটাই নজর দেওয়া হয়েছে, যে মিডিয়া দেখভাল করার টিম ছাড়াও, অন্য টিম থেকেও সদস্যদের এনে এই কাজে লাগানো হচ্ছে। আগে এই কাজে সবাই যোগ দিত না। কিন্তু এখন, সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে গোটা ইসরো। উদ্দেশ্য একটাই, মানুষকে সবটা সহজ ভাবে কমিউনিকেট করা। আবার উল্টো দিক থেকেও প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা।”

এই চেষ্টা যে সম্পূর্ণ সফল, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের চন্দ্রযান নিয়ে মানুষের উৎসাহ প্রকাশ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এটা স্পষ্টতই বলা যায়, হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে নাড়িয়ে দিতে পেরেছে দেশের এই গৌরবময় অধ্যায়টি। স্কুলের বাচ্চারাও বাদ পড়েনি এই গৌরবের স্বাদ থেকে।

ইসরোর ওই কর্তা আরও বলেন, “আমরা তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। তাদের ভেতরের প্যাশনটা বার করে আনতে চাই। এটা ইসরোর পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্যও জরুরি। আমরা চাই, মহাকাশ নিয়ে আরও আরও উৎসাহ গড়ে উঠুক ছোটদের মধ্যে। তারা যাতে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে আসে গবেষণায়, সেটা আমরা বিশেষ ভাবে মাথায় রাখছি। এটা আমাদের স্ট্র্যাটেজি। মহাকাশ-চর্চায় দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে, নতুনদের এই কাজে আসা খুব জরুরি। আর সেটা করার জন্য জরুরি জনসংযোগ। এ ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও বিকল্প নেই।”

Comments are closed.