সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

BREAKING: এভারেস্ট ও লোৎসে অভিযান বাতিল করে ক্যাম্প টু-তে নেমে এলেন পিয়ালি

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

স্বপ্ন ছোঁয়া হল না, ফিরে এলেন পিয়ালি। জানা গিয়েছে, নিরাপদে ক্যাম্প টু পর্যন্ত নেমে এসেছেন তিনি।

শীর্ষ ছুঁতে মাত্র বাকি ছিল ৫০০ মিটার। কিন্তু দূরত্ব এত কম হলেও, তা পার করতে কত সময় লাগত, কেউ জানে না। এই অবস্থায়, আজ, ২২ তারিখ সকালে এভারেস্টের নীচের ব্যালকনি থেকে নেমে আসেন চন্দননগরের অভিযাত্রী পিয়ালি বসাক। ঠিক ছিল, আজ রাতেই ফের এক বার চেষ্টা করবেন এভারেস্ট ছোঁয়ার। সব ঠিক থাকলে ২৩ তারিখ সকালে সামিট করবেন তিনি, তার পরে ফের শুরু করবেন লোৎসে শৃঙ্গে আরোহণ।

আরও পড়ুন: দীর্ঘতম ট্র্যাফিক জ্যাম! এভারেস্টের ৫০০ মিটার নীচে ব্যালকনি থেকে ফিরতে হল পিয়ালিকে, ফের চেষ্টা আজ

কিন্তু সব হিসেব উল্টে দেয় আজ সকালে এভারেস্টের নীচের তুমুল ‘ট্র্যাফিক জ্যাম’। অসংখ্য আরোহী লাইন দিয়ে ছিলেন। সঙ্কীর্ণ ও বিপদসঙ্কুল পথ দিয়ে শৃঙ্গের ছোট্ট জায়গায় পৌঁছনো সকলের পক্ষে একসঙ্গে সম্ভব নয়। এক জন এক জন করে ওঠেন বা নামেন সেখানে। বাকিদের লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নীচে। আগের জন এগোলে তবেই এগোতে পারেন পরের জন। তেমনই দীর্ঘ লাইনের শেষে দাঁড়িয়েছিলেন পিয়ালি।

বেশ কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করেস বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ও তাঁর শেরপা সিদ্ধান্ত নেন, ক্যাম্প ফোরে নেমে যাবেন। কারণ অতটা সময় অপেক্ষা করে সামিট করা সম্ভব হবে না বলেই বুঝেছিলেন তাঁরা। কিন্তু আজ দ্বিতীয় চেষ্টা না করে কেন ফিরে এলেন পিয়ালি?

পিয়ালির বোন তমালী টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে জানালেন, পিয়ালি এমনিতেই খুব কম টাকাপয়সা নিয়ে আর্থিক টানাটানির মধ্যে এভারেস্ট অভিযান করেছিল। পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনারও টাকা ছিল না তাঁর। হয়তো অক্সিজেনের অভাবেই বাতিল করতে হল আরোহণ।

যদিও পিয়ালির লক্ষ্য ছিল সাপ্লিমেন্টারি অক্সিজেন ছাড়াই তিনি এভারেস্টে উঠবেন। কিন্তু সেই সঙ্গে তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, এ লক্ষ্যপূরণের জন্য কোনও ঝুঁকি তিনি নেবেন না। সঙ্গে অক্সিজেন রাখবেন, কোনও রকম অসুবিধা হলেই অক্সিজেন লাগিয়ে নেবেন। জোর করবেন না শরীরের সঙ্গে বা প্রকৃতির সঙ্গে।

তমালী এবং পিয়ালির পরিবারের অন্য সদস্যরা মনে করছেন, সেই অক্সিজেন সম্ভবত আজই ফুরিয়ে গেছে সামিট অ্যাটেম্পট করতে গিয়ে। আর অক্সিজেন নেই পিয়ালির সঙ্গে। সঙ্গে নেই অতিরিক্ত টাকাও, যে নতুন অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে ফের এগোবেন শৃঙ্গের উদ্দেশে। তাই বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে হল।

শুধু তা-ই নয়। আজ ২২ তারিখ, ২৯৭ জন আরোহীর সামিট করার কথা ছিল। এত বেশি সংখ্যায় আরোহণ এভারেস্ট দেখেনি আগে। দুপুর ১২টার সময়ে খবর পাওয়া গেছে, তখনও ২৫০ জন অভিযাত্রী ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে আছেন শৃঙ্গের নীচে। মনে করা হচ্ছে, পিয়ালির মতোই যাঁরা আজ আরোহণ করতে পারেননি, তাঁরা সকলেই আগামী কাল অর্থাৎ ২৩ তারিখকে বেছে নিয়েছেন সামিটের জন্য। তার আগে থেকেই ২৩ তারিখে সামিট করার ডেট ছিল ১৭২ জন আরোহীর। ফলে ২৩ তারিখ সকালেও ফের বড়সড় ট্র্যাফিক জ্যাম ঘটতে চলেছে এভারেস্টে। ফলে দ্বিতীয় বার চেষ্টা করে একই ভাবে ফিরে আসতে হতে পারত পিয়ালিকে।

আরও পড়ুন: মাকালুর নীচে বরফে একটি কালো স্পট দেখেছে কপ্টার, ওখানেই কি পড়ে আছেন দীপঙ্কর!

সেই সঙ্গে ভাল আবহাওয়ার সময়ও ফুরিয়ে আসছে, আগামী কালের পর থেকেই খারাপ আবহাওয়া ছেয়ে যেতে পারে এভারেস্ট ও সংলগ্ন এলাকায়। সে ক্ষেত্রে লোৎসে শৃঙ্গের দিকে এগিয়ে গেলেও সমস্যা হতে পারত। তাই হয়তো সব দিক বিবেচনা করেই পিয়ালি এবং তাঁর শেরপা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিযান বাতিল করে নীচে নেমে আসার।

গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মানাসলু-র শৃঙ্গ ছোঁয়ার পরে এ বছর পরপর এভারেস্ট এবং লোৎসে শৃঙ্গ অভিযানে বেরিয়েছিলেন পিয়ালি। তবে তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ ছিল বাংলার পর্বতারোহী মহলে। এমনিতেই এ বছরে রাজ্যের দুই পর্বতারোহী কুন্তল কাঁড়ার এবং বিপ্লব বৈদ্যের কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু এবং মাকালু অভিযানে দীপঙ্কর ঘোষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিয়ে বেশ আতঙ্কে রয়েছে বাংলার পর্বতারোহণ মহল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই পিয়ালিকে নিয়েও উৎকণ্ঠা ছিল অনেক বেশি।

শুভার্থীদের আপাতত স্বস্তি দিয়ে নেমে এসেছেন পিয়ালি। সুস্থ শরীরে নিরাপদে ঘরে ফিরুন তিনি, এমনটাই চায় সারা বাংলা।

আরও পড়ুন…

বহু আরোহী, সময় কম! এভারেস্ট ছোঁয়ার পথে বাংলার পিয়ালি, রাত পোহালেই আসবে খবর

Comments are closed.