সোমবার, অক্টোবর ১৪

রোজভ্যালি কাণ্ডে এ বার ঋতুপর্ণাকে ডাক ইডি-র! সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন অভিনেত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পর রোজভ্যালি কাণ্ডে এ বার টলিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে তলব করল ইডি।

ইডি সূত্রের খবর, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত লেনদেন হলেও, ঋতুপর্ণার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। জানা গিয়েছে, রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর থেকে ঋতুপর্ণা একাধিকবার বিদেশ যাওয়ার বিমান ভাড়া নিয়েছিলেন।

কালই প্রসেনজিৎকে নোটিস পাঠিয়েছে ইডি। বলা হয়েছে আগামী ১৯ জুলাই কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির গোয়েন্দাদের সঙ্গে দেখা করতে। বিকেলে শান্তিনিকেতনে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ-পুত্র। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাকে নয়। আমার কোম্পানিকে নোটিস দিয়েছে ইডি। তবে ব্যাপারটা আমি জানি না। আমি তাঁদের সঙ্গে (পড়ুন তদন্তকারীদের সঙ্গে) ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করব।”

রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে ঋতুপর্ণার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কথা সর্বজনবিদিত।কী কারণে রোজভ্যালির থেকে ঋতুপর্ণা বিমান ভাড়া নিয়েছেন, ওই সংস্থাই বা কেন অভিনেত্রীকে ওই খরচ দিয়েছিল, সবটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।গৌতম কুণ্ডুর সংস্থা রোজভ্যালি বেশ কয়েকটি ছবিও প্রযোজনা করেছিল। জানা গিয়েছে, সেই ছবিতেও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন। সে ব্যাপারটিও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন বলে খবর।

বাংলার চিটফাণ্ড দূর্নীতিতে কয়েক মাস ধরেই তদন্তে গতি বাড়িয়েছে সিবিআই এবং ইডি। গত পরশু সিবিআই নোটিস পাঠিয়েছে অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়কে। আগামী ১২ জুলাই তাঁকে হাজিরা দিতে বলেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল শিল্পী শুভাপ্রসন্নকে। এ বার সেই তালিকায় নাম জড়াল ঋতুপর্ণার।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ঋতুপর্ণা নিজেও। তিনি বলেছেন, “আমি এখন ইউএসএ-তে আছি। আমার অফিসে ইডি-র নোটিস এসেছে বলে খবর পেয়েছি। আমার কাছে সমস্ত ডকুমেন্ট আছে, আমি সেগুলো ইডি-কে দেব। তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করব ইডি-কে। এই মাসেই ১৬-১৭ তারিখ করে আমি কলকাতায় ফিরছি।”

চিটফাণ্ড তদন্তের জন্য রাজ্য সরকারের গঠন করা সিটের সদস্যদের ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় জেরা করেছেন গোয়েন্দারা। রাজীব কুমার থেকে অর্ণব ঘোষ- প্রত্যেককেই হাজিরা দিতে হয়েছে। বিধাননগরের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান অর্ণবকে যখন গোয়েন্দারা জেরা করছিলেন, তখন দেখা গিয়েছিল ট্রাঙ্ক ভর্তি নথি আসতে। জেরায় উঠে আসা তথ্যের সঙ্গে নথি মিলিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। গতকাল সিবিআই আধিকারিকরা দমদম সেন্ট্রাল জেলে গিয়ে জেরা করেছেন সারদার সেকেন্ড ইন কম্যান্ড দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি যে এ বার তদন্ত গুটিয়ে আনতে চাইছে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে।

Comments are closed.