বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

Breaking: ফিরেও আবার সরতে হল অলোক বর্মাকে, সরাল মোদীর নেতৃত্বাধীন কমিটি

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  নাটকের পর নাটক!

মঙ্গলবারেই তাঁকে সিবিআই প্রধানের পদে বসিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবারে সিবিআইয়ের সদর দফতরে কাজে যোগ দিয়েছিলেন অলোক বর্মা। বৃহস্পতিবারে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, সেই অলোক বর্মাকেই সরিয়ে দেওয়া হল সিবিআই প্রধানের পদ থেকে। সরাল উচ্চপর্যায়ের কমিটি, যার মাথায় খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

লুটিয়েনের দিল্লি অবশ্য এই নির্দেশে আশ্চর্য হচ্ছে একটুও। দিল্লির রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য ছিল, এই নির্দেশ যে আসবে তা বোধ হয় জানতেন খোদ অলোক বর্মাও। ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা।

দুই আইপিএস অফিসারের ঝগড়ায় প্রায় গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল দেশের এক নম্বর তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের অন্দর মহলে। স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন ডিরেক্টর অলোক বর্মা। রাকেশ আস্থানাও পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন বর্মার বিরুদ্ধে। বল গড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনেও।

স্বভাবতই শোরগোল পড়ে যায় গোটা দেশে। এর পরেই অক্টোবরের ২৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সিদ্ধান্ত নেয় ছুটিতে পাঠানো হবে বিবদমান দুই কর্তাকেই। রাত প্রায় দু’টোর সময়ে সিবিআই প্রধানের দায়িত্ব নেন নাগেশ্বর রাও।

এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। রাহুল গান্ধী সোজাসাপটা অভিযোগ করেন, রাফায়েল নিয়ে তদন্ত করতে চাইছিলেন বলেই অলোক বর্মাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান অলোক বর্মাও। অবশেষে বুধবারেই অলোক বর্মাকে অপসারণ করার মধ্যরাতের সেই সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। বড়সড় ধাক্কা খায় মোদী সরকার।

৩১ জানুয়ারিই অবসর নেওয়ার কথা অলোক বর্মার। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, তত দিন অবধি সিবিআই প্রধানের পদে বর্মা থাকবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে বসাতে হবে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। এই কমিটির অন্য দুই সদস্য বিরোধী দলনেতা ও প্রধান বিচারপতি।

তবে শেষ অবধি নিয়মের মারপ্যাঁচ দেখিয়ে এই কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় প্রধান বিচারপতিকে। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য করা হয় সুপ্রিম কোর্টেরই বিচারপতি এ কে সিক্রিকে। কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।

বুধবারেই বৈঠকে বসে এই কমিটি। তবে বিভিন্ন মহল থেকে শোনা গিয়েছিল, যে অলোক বর্মাকে নিয়ে রাত অবধি সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তাঁরা। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে জানা গেল, সরতেই হচ্ছে অলোক বর্মাকে।

তবে রাজনৈতিক মহলের খবর হল, এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে।

বিরোধীরা অবশ্য ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, রাফায়েল নিয়ে অস্বস্তিতে থাকা মোদী কি জোর করেই সরিয়ে দিলেন বর্মাকে?

আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও অভিযোগ করেছেন , অলোক বর্মার বক্তব্য না শুনেই তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে এই কমিটি।

Shares

Comments are closed.