সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

অসমে ’৪৩ সালে জন্ম, জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে তিনিও বিদেশি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩। ওই দিন অসমের শিলচর টাউনে জন্মেছিলেন সুনির্মল বাগচি। শহরের মিউনিসিপ্যাল রেজিস্টারে সেরকমই লেখা আছে। অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তাঁকেও বিদেশি বলে চিহ্নিত করেছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পরে যাঁরা অসমে এসেছেন, তাঁদের বিদেশি বলে গণ্য করা হবে। কিন্তু যিনি ’৪৩ সালে অসমে জন্মেছেন তাঁকে কীভাবে বিদেশি বলা হচ্ছে? এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নানা মহলে।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে সুনির্মল বাগচির নাম দেখা যায়। তালিকায় নাম তোলার জন্য ৩ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছিলেন। নাম উঠেছিল ২ কোটি ৮৯ লক্ষের।

গত ২৬ জুন জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে ১ লক্ষ ২ হাজার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। সুনির্মলবাবুর নাম তখনই বাদ পড়ে। ১ জুলাই স্থানীয় এনআরসি অফিস থেকে তাঁকে নোটিস দিয়ে জানানো হয়, কেন তাঁর নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ গিয়েছে।

সুনির্মলবাবুদের বাড়ির কাছে পঞ্চায়েত ভবনে এনআরসি-র অস্থায়ী অফিস হয়েছিল। নোটিস পাওয়ার চার দিন বাদে তিনি সেই অফিসে শুনানির জন্য যান। সংশ্লিষ্ট অফিসার তাঁকে বলেন, আপনার কাগজপত্র ঠিকই আছে। নাগরিকপঞ্জি আপডেট করার সময় আপনার বিষয়টি আমাদের লোকাল ইন চার্জের কাছে তুলব।

শিলচরে এনআরসি-র নোডাল অফিসার আনিস রসুল মজুমদার বলেন, আমাদের অফিসের কেউ ভুল করে সুনির্মলবাবুর নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ দিয়েছেন। সুনির্মলবাবু বলেন, অফিসাররা তো একে অন্যের ওপরে দোষ চাপিয়ে খালাস। কিন্তু বিদেশি বলে নোটিস পাওয়ার পরে আমার যা হেনস্থা হয়েছে, কেউ কি তার ক্ষতিপূরণ দেবে?

৭৬ বছরের সুনির্মলবাবু জানান, তিনি পেশায় ছিলেন ঠিকাদার। তাঁর দুই ছেলে সম্রাট ও শুভরাজকে ভারতীয় নাগরিক বলা হচ্ছে। তাহলে তিনি বিদেশি হন কী করে?

এনআরসি অফিসের নোটিস পাওয়ার পরেই সুনির্মলবাবু ও তাঁর দুই ছেলে কাছাড়ের পুলিশ সুপারের অফিসে যান। তাঁরা জানতে পারেন, পুলিশের যে দফতরকে সম্ভাব্য বিদেশিদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা সুনির্মলবাবুর নামে কোনও রিপোর্ট দেয়নি। ইলেকশন অফিস থেকে সন্দেহজনক ভোটারদের নামের পাশে ‘ডি’ লিখে দেওয়া হয়। তার মানে ডাউটফুল ভোটার। সুনির্মলবাবুর নামের পাশে ডি লেখা নেই।

Comments are closed.