বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

জন্মান্ধের রেডবুক কিংবা বিষাদের বাইবেল : শাশ্বতী সান্যালের সাম্প্রতিক কবিতা-সংকলন – ‘ব্রেইলে লেখা বিভ্রান্তিসমূহ’ 

ব্রেইলে লেখা বিভ্রান্তিসমূহ
শাশ্বতী সান্যাল 

তবুও প্রয়াস

১১৯ টাকা

 

মানসসরোবরে স্নান করবে বলে একটি মেয়ে ঘর ছেড়ে খালিপায়ে পথে নেমেছিল একদিন। তখন আকাশে তারার আলো ছিল না। অরুন্ধতীর মুখে প্রসন্ন হাসির ইশারাও ছিল না। সমস্ত আকাশ জুড়ে ছিল অবিরল অশনি-সংকেত।

আকস্মিক এক টুকরো আগুন খুব নীচু হয়ে নেমে এসে একদিন চুম্বন করলো সেই একলা পথ-চলা মেয়েটিকে। আর সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল তার সর্বস্ব। কেবল অলৌকিকভাবে অদগ্ধ রয়ে গেল তার মন্ত্রপূত হৃৎপিণ্ড আর ডান হাতের তিনটি আঙুল।

উত্তম দত্ত

সেই থেকে মানসসরোবরের তীরে বসে নিজেরই ভস্মাধারে এক দৈবী কলম ডুবিয়ে পুড়ে যাওয়া জীবনের এলিজি লিখে চলেছে সে।

কবি শাশ্বতী সান্যাল। বাংলা কবিতায় তাঁর সন্তরণ এই শতকের প্রথম দশকে। প্রথম কবিতা-গ্রন্থ ‘সেইসব হরিণীরা’ প্রকাশিত হয়েছিল বছর তিনেক আগে। সে বই এখন আর চাইলেও পাওয়া যায় না।

২০১৮-র কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দ্বিতীয় কবিতা-সংকলন ‘ব্রেইলে লেখা বিভ্রান্তিসমূহ’।

দুটি বই পাশাপাশি রাখলে পাঠক হিসেবে অনুভব করি কাকে বলে উত্তরণ, কাকে বলে কুয়োতলা পার হয়ে উপকথার খরস্রোতা নদীটির মোহনার দিকে চলে যাওয়া।

ভাস্কর চক্রবর্তীর কবিতার মর্মলোকের ময়না-তদন্ত করতে গিয়ে কবি রণজিত্‍ দাশ একদিন লিখেছিলেন :

“স্পষ্টতই, ভাস্কর আত্মকেন্দ্রিক কবি নন, আত্মা-কেন্দ্রিক কবি।
দ্বিতীয় কথা, ভাস্করের কবিতায় নৈরাশ্যের অনন্ত ও অনুপুঙ্খ বর্ণনা, কিন্তু সেই বর্ণনা, প্রকৃত পক্ষে মানুষের আত্মার অসুখের প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট। আত্মার অশ্রু আর রক্তের নিরন্তর বিষাদ-বীক্ষণ। রোগনির্ণয় একটিই: অপ্রেমের শূন্যতা। চিকিৎসা একটিই: ভালবাসা, আরও ভালবাসা।
‘মানুষ, মানুষের ভালবাসার জন্য
চিরকাল, পথের ওপর বসে বসে কাঁদবে’ এই বিশ্বাস।
এবং এই অসুখের প্রসঙ্গে এ কথাও বলার যে, ভাস্করের কবিতার আরেকটি প্রধান মেটাফর ‘বিষ’। তাঁর কত কবিতায় যে এই বিষের কথা ছড়ানো রয়েছে। ‘রক্তে বিষ মিশে আছে প্রিয়তমা।’; ‘ওস্তাদ, বিষ নেই এমন কোনো মানুষ, আমরা কি আর খুঁজে পাবো না শহরে?’”

তরুণ কবি শাশ্বতী সান্যালের সদ্য-প্রসূত ভারমিলিয়ন কবিতার বই ‘ব্রেইলে লেখা বিভ্রান্তিসমূহ’ পাঠ করতে গিয়ে খুব প্রাসঙ্গিকভাবেই রণজিত্‍ দাশের এই চমৎকার অনুভবের কথা স্মরণে এলো। ভাষাবিন্যাস কিংবা প্রকৌশলগত কারুকৃতির দিক থেকে এই দুই কবির কোনও সেতু-সংযোগ নেই। কেবল বিষাদের নিরুদ্ধার সৈকতে প্রায়শই দেখা হয় তাঁদের, স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে, অপ্রেমে ও দুর্মোচ্য প্রণয়-তৃষ্ণায় ।
যতদূর মনে পড়ছে একটি কবিতায় শাশ্বতী নিজেই লিখেছিলেন ভাস্করের মানস-প্রবণতার একান্ত উত্তরাধিকার বহনের কথা :
‘আমাকে সাম্রাজ্য দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে গেছেন ভাস্কর …’ ( স্মৃতি থেকে লিখলাম)

শাশ্বতীর সিংহভাগ কবিতাই এক পারাপারহীন তমশ্রু বিষাদের সাক্ষ্য বহন করছে। তাঁর আত্মখনন থেকে উঠে আসা স্বীকারোক্তিটি এই মুহূর্তে খুবই প্রাসঙ্গিক :

‘বিষাদজাতক আমি
প্রবল দংশনময়
আমার জন্মলগ্ন , রাশি ‘

কিন্তু একমুঠো এই বইটির পাতায় পাতায় এত অন্ধকার কেন ? পড়তে পড়তে এই জিজ্ঞাসা কতবার যে উচ্চারণ করেছি, সে কথা কি কবি জানেন ? আর এই নৈমিত্তিক পাঠকের অস্ফুট জিজ্ঞাসাও যে অমূলক নয় সমমর্মী পাঠকবৃন্দকে সাক্ষী রেখে সেকথা জানাতে চাই । উৎসর্গপত্র থেকেই সেই মনোলীন অন্ধকারের দুর্মর ও অনিমিখ অভিসারের সূচনা হয়েছে :

“এই শান্ত অবসরে তোমাকে উৎসর্গ করে
লেখা যায় কয়েক লাইন
কলমে লেখার দিন ফুরিয়েছে । হাত আজ সম্পূর্ণ স্বাধীন
তবু করলগ্ন হতে পারোনি তো ! আঙুলে জড়তা
কেবল কিপ্যাডে ঝড় । দূর থেকে ভেসে আসে কথা ।
অর্ধেক গোলার্ধ জুড়ে সৌররেণু ভেঙে পড়ে
শ্মশানবন্ধুর সংখ্যা বাড়ে প্রতিদিন …”

করলগ্নতার শোচনীয় অনটন আর অগণন শ্মশানবন্ধুর টোটেম প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই বইটিকে একটা তমসার সুরে বেঁধে দিল যেন ।

তারপর এল যতিহীন সেইসব নিভন্ত মশালের অসুখী অন্ধকার ,যা মানুষকে মিথ্যে আলোর প্রতিশ্রুতি দেয় না , ভুল স্বপ্ন দেখায় না , কিন্তু এলেন গিনসবর্গের মতো নিজস্ব মর্ম-জ্যোৎস্নায় আস্থা রাখতে বলে , নিরুদ্ধ তমসাকে উন্মুক্ত করে দিতে শেখায় :
‘Follow your inner moonlight, don’t hide the madness.’ (Howl)

আসুন, মরমী পাঠক, স্বেচ্ছায় চন্দ্রাহত হই —

১)
‘এ সবই না লেখার গল্প …
চিত্রনাট্য ভিজে যাচ্ছে অসময়ের বৃষ্টিতে
বুকের কাছে লাল পেনটি লিক করায়
চরিত্রটি সদ্য মৃতদেহ ,
তার হৃৎপিণ্ড বিদ্ধ করে নেমে আসছে রক্তের সংলাপ …
আমরাও লিখে যাই বন্ধুর জন্য গোপন এপিটাফ
সেই একটিমাত্র রক্তস্রাবী লাল বলপেনে …’ (স্ক্রিপ্ট-রাইটার)

( এই রহস্যময় মৃত বন্ধু অথবা বন্ধুত্বের জন্য লেখা গোপন এপিটাফ রয়েছে শাশ্বতীর অন্যান্য আরও কিছু কবিতায় । কিন্তু এপিটাফ তো সচরাচর নিজেকেই লিখে যেতে হয় । তাহলে এই মৃত্যু কি জয়ী এবং পরাজিতের যৌথ মৃত্যুর ইঙ্গিতবাহী? )

২)
‘মধ্যবর্তিনী’ কবিতাটি একটি চরম মনস্তাত্ত্বিক সংকটের চিত্রলেখ। তিনটি নারী আর একটি পুরুষের জীবনবেদ এ কবিতা :

(ক ) পুরুষটির প্রথম প্রেমিকা, যে বড়ো বড়ো পা ফেলে টেনিস কোর্টের দিকে এগিয়ে গেছে । সে আজ অতীত , কিন্তু তার স্মৃতি এতই জীবন্ত যে ‘এই তো সদ্য’ বলে তাকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে অলৌকিক টাইম-মেশিনে চাপিয়ে। প্রেক্ষাপট ক্লাশরুম ।

(খ ) পুরুষটির স্ত্রী …. সাতপাকের সঙ্গিনী । সেও অনুপস্থিত, অতীত। অথচ তীব্রভাবে জীবন্ত। প্রেক্ষাপট তেতলার একটা ঠাকুরঘর ।

(গ ) কবিতার কথক নারীটি। মানস-সংকট তারই । প্রিয় পুরুষের জীবন থেকে সে প্রাণপণে মুছে দিতে চাইছে তার অতীতের দুই নারীর ছায়া। নিজের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে সর্বস্ব দিয়ে :

চিৎকার করে উঠি কোনও সন্ধেবেলা :
‘হটো! তফাত যাও !’
কেউ কি তফাতে যায় একচুলও ?
ছায়াগুলো বড়ো হয় । আমি ক্রমে ছোটো হয়ে আসি…

(যেন অনিবার্য নেমেসিসের মতো দু টুকরো কালো মেঘ এসে ঢেকে ফেলল এক জ্যোতির্ময় চাঁদের যাবতীয় স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে । শাশ্বতীর কবিতাকে যাঁরা দুর্বোধ্য বলেন তাঁদের আরেকবার পড়ে দেখতে বলি এই অলোকসামান্য মনস্তাত্ত্বিক সংকটের কবিতাটি )

৩)
আলো ধীরে মরে আসে , নভেম্বর মাসে
অকারণ ধুলো ওড়ে রাজপথে । ট্রাম যায় ।
মৃত কবিটির কথা মনে পড়ে জেটিঘাটে এসে
আর ক্রমে ,দূরবর্তী পারে , জ্বলে ওঠে একে একে চুল্লিঘাট
শ্মশানের আলো । / ( হে মহাজীবন )

( শ্মশান, ট্রামলাইন, মৃত কবি , চুল্লিঘাট , ক্রমে নিভে আসা আলো … সমস্তই নিগূঢ় প্রতীকী দ্যোতনা মাত্র। এসবের অন্তরালে রয়েছে এক লুকোনো বিচ্ছেদের ক্যাথারসিস। এক মুহূর্তের নোনা স্বাদ , ঝটিতি চুম্বন, জারিত যৌনতা , ঘোলাটে দিনের মধু … কিছুই গোপন করেননি কবি। কারণ কবিতায় তিনি দুঃসাহসী অকপট। )

৪)
পদ্মের কুঁড়ির মতো দু-চোখে ছোবল নেমে আসে
মৃতের গাঙুর নদী
স্মৃতির কোটরে তার ঢেউ , তার স্রোত
প্রতিটি বেহুলা-মুখ থই থই কলার মান্দাসে / (মনসাভাসান পালা )

৫)
জন্মদিন চলে গেছে । এবার ক্ষতর কথা বলা যায় । বলা যায় আগুনের কথা । ঘর অন্ধকার করে বেরিয়ে যাওয়ার আগে কারো কারো শার্টের গভীরে ভোজালির বাঁট উঁকি দিয়েছিল। তারা কি দেখেছে বন্ধ দরজার ফাঁকে নরম মোমের আলো-দাগ? … তিনদিন পরে যদি আচমকা দরজা খুলে যায় , ওরা কি শুনতে পাবে একা ঘরে প্রার্থনার গান ? / (শ্লোক )

( উদ্ধৃতির অন্তর্গত শেষ দুটি পঙক্তি আমাদের কানে কানে জানায় , এই অন্ধকার শেষ সত্য নয় । বন্ধুবেশী ঘাতকের জামার আস্তিনের নীচে সন্তর্পণে লুকিয়ে রাখা ভোজালির বাঁট শেষ কথা বলে না । নরম মোমের আলো-দাগ, মরমী মানুষের প্রাণের ভাষা , প্রীতিবোধ , পুরোনো বিশ্বাস ….প্রার্থনার গান অমাবস্যার মহাশ্মশানেও জ্বালিয়ে রাখে প্রাণদায়িনী প্রত্যাশার আলো। )

৬)
এ দেশে বসন্ত মৃত । প্রেম ? সেও লোলচর্মসার । (নির্বাচিত শীতকাল-২)

৭)
সমুদ্রসম্ভবা ছিলে, পুড়ে গেলে কাকে ভালোবেসে?
তোমাকে বলেনি কেউ – নাগচম্পা ফোটে না এদেশে । / (ছোবল)

৮)
যদি ধ্বস নামে ,ভেঙেচুরে যায় জিপ ও জীবন
অতল খাদের গর্ভে ,জানব বেঁচে আছেন ঈশ্বর । / ( পথের পাঁচালি )

৯)
দরজা ঠেলে কোনোদিন , যদি বা প্রবেশ করি
আলোতে বসার তবু অধিকার নেই ! / ( ছায়াযাপন)

১০)
পাহাড়ে গেলেও যে জন্মান্ধ তার আর সূর্যোদয় দেখা হয় না
ফায়ারপ্লেসের সামনে বসে সে খবর শোনে। চাষিদের আত্মহত্যার খবর
বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আসে ঘোষকের গলা ।
… অনেকেই বিশ্বাস করেন অন্ধের কোনো স্বপ্ন থাকে না ।
…অথচ অন্ধটি স্পষ্ট দুবছর আগে একটি রঙিন মেয়ের স্বপ্ন দেখেছিল।
…বেহালার ছড় টানছে
অন্ধকারে কেউ । রঙিন এসব কষ্ট ,স্বপ্নদোষ, নষ্টমতি বেহালাবাদক ঘুমের
ভিতরে ফিরে আসে । / (ব্রেইলে লেখা বিভ্রান্তসমূহ )

( এই নাম-কবিতার ছয়টি টুকরো এ বইয়ের এক নিভৃত ঐশ্বর্য । এক অসহায় নিরুদ্ধার অন্ধত্ব ও অন্ধকার এই কবিতার প্রতিটি অক্ষর থেকে উঠে এসে আমাদের বোধের দুয়ারে মুহুর্মুহু করাঘাত করে । আমাদের থোড়-বড়ি-খাড়া জীবনযাপনের শান্তি নষ্ট হয়ে যায় । দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া জীবনের তমসা-নগরীতেও যে কতখানি উন্মথিত তৃষ্ণা জেগে থাকে তারই শব্দ-বৈজয়ন্তী এই অসামান্য কবিতাটি । এমন প্রবল ঘনীভূত অ-সূচিভেদ্য অন্ধকারেও পাঠকের মুগ্ধ চোখ বন্দী হয়ে যায় এই কবিতার চতুর্থ স্তবকে । এই অংশটির আশ্চর্য কাব্যগুণে, আমার বিশ্বাস , আমার মতোই সম্মোহিত হবেন আরও অনেক সমমর্মী পাঠক :

‘ অন্ধের শরীরে কোনো গান নেই । শুধুমাত্র শান্ত বনস্থলী শুয়ে আছে …হাওয়া দিলে কেঁদে ওঠে মন্ত্রমাখা তিব্বতি পতাকা । টুরিস্ট বুটের শব্দ ভারী হয়ে নেমে যায় পাকদন্ডী পথে , ম্লান বোধিকল্প-স্তূপে। প্রত্যেক শব্দকে সে ভালোবাসতে চায় , তার তর্জনী মধ্যমা দিয়ে একে একে ছুঁতে চায় জমাট পাথর , তীব্র প্রতিধ্বনি , গং …আশ্চর্য ব্রেইল ঋতু এ-শহরে ঘুরে ঘুরে আসে ।
অন্ধের শরীরে কোনো গান নেই । আরোহ বা অবরোহ নেই । অথচ ধৈবত থেকে কোমল নিষাদে যেতে ক’ধাপ পেরোতে হবে সিঁড়ি , তা অন্ধটি জানে …’

এমন একটি অনন্য অনুপম কবিতার জন্য ত্রিভুবন-ব্যাপী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই কবির অন্তর্গত সত্তাকে , শেলির ভাষায় Cor cordium-কে । … স্মরণকালে এমন নিভৃতে পুনশ্চ ,পুনরপি, পুনর্বার স্মরণযোগ্য কবিতা খুব বেশি পড়েছি কি ?

না, শাশ্বতী, আপনার কবিতায় অন্ধকার নিয়ে আর কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই এই নির্বোধ সমালোচকের । কারণ এ কবিতা পাঠ করে মনে মনে বিশ্বাস করতে শুরু করেছি -‘এ আঁধার আলোর অধিক’। )

৩)
আত্মজৈবনিক উচ্চারণ

কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর ‘কবিতার মুহূর্ত’-এর একেবারে সূচনায় আবহমানকালের সমস্ত কবির মর্মের কথাটি বড় সুন্দর করে লিখেছেন :

‘কবিতার একটা নিজস্ব আবরণ আছে । তার ভিতরে প্রচ্ছন্ন রেখে অনেক কথা বলে নেওয়া যায় , অনেক আত্মপ্রসঙ্গ , কত বলেওছি হয়ত। কিন্তু গদ্যে নিজের বিষয়ে লিখতে ভয় হয় , গদ্য এত সরাসরি কথা বলে , এত জানিয়ে দেয় । কেবলই মনে হয় প্রকাশ্য করে এসব বলবার সময় নয় এখন’।

এই আত্মপ্রসঙ্গ বারংবার উঠে এসেছে শাশ্বতীর কবিতায় । তাঁর সমস্ত আবেগ আর অনুভূতিই ভয়ংকর তীব্র , অংশত লুনাটিক। তাঁর রাগ-অনুরাগ, সংরাগ-বীতরাগ, শ্রদ্ধা-অশ্রদ্ধা, প্রেম-অপ্রেম, তাঁর প্রাপ্তির আনন্দ , অপ্রাপ্তির দহন, বিশ্বাসের আলো, বঞ্চনার আগুন সবই বড় বেশি গাঢ় ,ঘন, লেলিহান । একটা সুস্থ সুন্দর সৌম্য বিশ্বাসের ভুবন অনুসন্ধান করতে করতে দিকভ্রান্ত কবি আজ এক ধ্বস্ত, ধূমল ও নষ্ট সময়ের বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছেন। ফলে তাঁর কবিতায় বার বার উঠে আসে তীব্র বিষ, সাপের ছোবল , হিংস্রতম মাছ (পিরানহা), পুরাতন ক্ষত, প্যারাসিটামল, সারিডন, জ্বর, মৃত তিমি, প্রবঞ্চক আলোকবর্তিকা।

এতখানি তিক্ত অন্ধকারের মধ্যেও এক লক্ষ আলোকশক্তির মতো উজ্জ্বলতম ভালোবাসার ফসফরাস জ্বালিয়ে বসে আছে ‘বিবাহমঙ্গল’ কবিতাটি :

‘সাদা পাথরের সৌধ , তার নাম বিবাহবাসর …ফাঁকা বেঞ্চ… গাছের নীরবে ঢাকা । এইই বরাসন। চুপচাপ । কথা নেই । কথা থাকবারও কথা নয় । … এত বড় ব্যাগ , জলের বোতল নেই কোনো? …এ-সময় নিরম্বু উপবাসই শ্রেয় ! … উদ্যানপ্রহরীটি ভাগ্যিস কালা , তাই দূর নহবতশব্দ শুধুমাত্র দুজন শুনেছে … হাত তারা ধরেনি কখনো । আঙুলে সমর্পণ নেই । তবু হলুদ ফুলের রঙ মেয়েটির অনামিকা জানে … নিরুদ্বেগ স্বপ্ন নামে বহুদিন পরে তর্জনীতে । বালিশের ব্যবধানে পাশাপাশি শুয়ে থাকে ঘুমের দেবতা … শরীর ছোঁয়নি , তবু এরই নাম স্বামীসহবাস । …কতদূরে আছে দেহ , তবু তার মুখ মনে করে মানতের ঢিল বাঁধা । ছুঁয়ে রাখা নোয়ার আগুন। কবিতা কল্পনালতা, তার গায়ে হলুদ মাখাই …’

এমন অলোকসম্ভব রোমানটিক মেদুরতাময় কবিতা এই গ্রন্থে আর একটিও আছে কিনা সন্দেহ। এই তালিকায় যেসব কবিতাকে খুব অনুপুঙ্খ অনুভবের শীর্ষে রাখতে ইচ্ছে করে সেগুলোর অধিকাংশই আমার প্রিয় কবিতা :

মধ্যবর্তিনী, *ব্রেইলে লেখা বিভ্রান্তিসমূহ , শ্লোক,প্রান্তিক,না জন্মানো বোন ও কবিতাকে , ডিপ্রেশনের ডায়ারি,কাপালিক,পূর্বরাগ,মাথুর,পিরানহা,বারোমাস্যা ,নির্বাচিত শীতকাল,ছোবল,পথের পাঁচালি ,লাইটহাউস ,অশ্বজাতক ,ইলেক্ট্রা,প্রেমিক,গ্যালিভারকে ।

বস্তুত শাশ্বতীর অধিকাংশ কবিতাই তাঁর আত্মজীবনের উদ্ভাসন, জীবনের কাদা-মাটি-জলজ পাথর ও আগ্নেয় বালি খুঁড়ে তুলে আনা শব্দের শ্লোক ও শবদেহ । তবু এই কবিতাগুলিতেই আমি স্পষ্টভাবে ছুঁতে পারি তাঁকে :

ক)

৬ বাই ৫-এর এই আশ্রয় চলে গেলে , ভাবি / আমি কোথায় দাঁড়াব / এটুকুই আছে । এই/ বালিশ, বিষাদ আর ফুলছাপ হলদে চাদর …/ এই গলি , একতলা বাড়ি /বেড়ালের কান্না আর থাবার আওয়াজে ভরে আছে …./ এই সরে থাকা ভালো। এতদিন হাতের নাগালে / থেকে কী পেলাম বলো! পোড়া ইট, বালি/ সাজিয়ে সাজিয়ে গড়ে তোলা এক মিথ্যে ঘরবাড়ি/ ঈষত্‍ ওমের লোভে তুলে আনা খড়কুটো, ধুলো…/ ( ডিপ্রেশনের ডায়ারি )

খ)

আমার ভ্রমণ সব তোরই কক্ষপথে / অথচ তোকেই আজ রেখে যাচ্ছি সমতলে, একা / বৃষ্টিময় এ শহর । পুরোনো ক্ষততে / আর রক্তদাগ নেই , মুছে গেছে দ্যাখ জলরেখা … (পথের পাঁচালি )

গ)

যাকে খুঁজতে এসেছিলাম তার বদলে এখন নোঙর ফেলেছি অন্যের শরীরে । এই নীল তামাকের গন্ধ, ঈষত্‍ কষাটে চুম্বন, অপরিচ্ছন্ন উদ্দাম হাসি প্রতিদিন মারিজুয়ানার উৎসব দিচ্ছে । রাত্রি বড় হচ্ছে এই গোলার্ধে । ক্রমশই ভুলে যাচ্ছি জল ও শ্যাওলায় মাখামাখি হয়ে পড়ে থাকা মৃত তিমিটির সব স্বপ্নচিহ্ন, ভুলে যাচ্ছি তার আদিম আলোকবর্তিকা … ( লাইটহাউস )

‘অশ্বজাতক’ খন্ডিত আর সন্দিগ্ধ প্রেম ও আত্মমগ্ন অভিমানের স্বগতোক্তি। ‘ইলেক্ট্রা’ এক দুঃসাহসিক স্বীকারোক্তির কবিতা। অমিয়ভূষণের ‘বিশ্বমিত্তিরের পৃথিবী’তে এরই একটা ঘনকৃষ্ণ ছায়া দেখে একদা চমকে উঠেছিলাম । ইলেক্ট্রা পড়ে সেই চমক ফিরে এল দ্বিগুণ ঝড় নিয়ে । পিতা অথবা পিতৃপ্রতিম বনস্পতির সঙ্গে ব্রততী-কন্যার যৌন-সহবাসের অসামান্য প্রতীকী বর্ণনা পাঠ করে ‘থম’ মেরে বসে থাকি কিছুক্ষণ। বোবা হয়ে যাই। মাথার ভিতরে পুড়তে থাকে সমাজ-সংসার-শুচিতা-নীতিবোধ, যাবতীয় তীর্থক্ষেত্র আর উপনিষদের আবহমান শ্লোকরাশি । উদ্ধৃতি দিলাম না । পাঠক নিজেই কবিতাটি পড়ে নিন পুনরপি।

‘তবুও প্রয়াস’ প্রকাশনীর দুই তরুণ প্রকাশক সেলিম ও দেবোত্তমকে সহর্ষ অভিনন্দন জানাই শাশ্বতী সান্যালের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের সময়োপযোগী উদ্যোগ নেবার জন্য। রাজদীপ পুরীর আঁকা প্রচ্ছদ অত্যন্ত বর্ণময় ।
*
ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (১৭৬৯—১৮২১) তখন য়ুরোপ জয়ের নেশায় অবিরাম যুদ্ধ করে চলেছেন । দিনে এবং রাতেও। এক মুহূর্ত বিরাম নেই সৈনিকদের । প্রতি মুহূর্তে পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধের নির্দেশিকা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছিল রাতের অন্ধকারে সেইসব নির্দেশ পাঠ করে সেই অনুযায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে। রাতে আলো জ্বালানো নিষেধ , কারণ তাতে শত্রুপক্ষ ফরাসি সৈনিকদের অবস্থান টের পাবে। তখন নেপোলিয়নের নির্দেশে চার্লস বার্বিয়ার নামে এক সামরিক অফিসার ‘নাইট রাইটিং’ নামে একটি ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন । সেখানে ফরাসি ভাষার প্রতিটি অক্ষরের জন্য বারোটি ডটকে বিভিন্নভাবে সাজিয়ে একটি নতুন বর্ণমালা সৃষ্টি করা হয় । এই ডটগুলোতে আঙুল বুলিয়ে সৈনিকেরা অন্ধকারেও যুদ্ধের নির্দেশিকা পাঠ করতে পারত । ১৮২১ সালে শৈশবে অন্ধ হয়ে যাওয়া কিশোর লুই ব্রেইল বার্বিয়ারের ১২ টি ডটকে আর সহজ করে ৬ টি ডটে বিন্যস্ত করে এই পদ্ধতিতে বিপ্লব নিয়ে আসেন । ব্রেইলের মৃত্যুর পর ১৮৫৪ সালে ‘রয়াল ইনষ্টিটিউট ফর ব্লাইণ্ড ইন প্যারিস’ ব্রেইল পদ্ধতিকে ব্যাপকভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পঠনপাঠনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে ।

শাশ্বতী সান্যালের ‘ব্রেইলে লেখা বিভ্রান্তিসমূহ’ পাঠ করেও আমাদের মনে হয় , তিনিও বিশ্বাস করেন অমারাত্রির অন্ধকারেও চার্লস বার্বিয়ারের মতো একটা যুদ্ধকে অব্যাহত রাখা যায়। লুই ব্রেইলের মতো দুর্ভাগ্যের অন্ধকারকে তাচ্ছিল্য করে নতুন করে স্বপ্ন দেখা যায় :

‘হাঁটু মুড়ে বসা একটা প্রবণতা। প্রতিবার বসি
নিজেরই পায়ের কাছে । পা জড়িয়ে বলি , দৃষ্টিহীন,
ভয় নেই । ঠিক আলো এনে দেব তোকে
পশ্চিম সূর্যের কাছে হেরে যেতে সহজে দেব না’।

ভাষা ও শৈলীতে তিনি ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র এক কাব্যভুবন নির্মাণ করে নিতে পেরেছেন মেধা ও মর্মের আনন্দ-শ্রমে।

অনূর্ধ্ব ৩৫ বছর বয়সের তরুণ কবিদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একদা শাশ্বতীর কবিতা সম্পর্কে লিখেছিলাম ঃ

“তাঁর কবিতা যেন কুয়াশা-ঘেরা মরুপ্রান্তরের মতো। মাথার ওপরে অস্পষ্ট রহস্যময় নক্ষত্রের বোবা আর্তনাদ, নীচে আপাত-শীতার্ত বালির পাঁজরে অনন্ত দহন।”

“এই কবির কাব্যভাষা, ছন্দ, কারুকৃতি, কথা-প্রতিমা, কায়া-নির্মাণ শৈলী আর জীবনকে দেখার অলোকসামান্য বৈদূর্য-দৃষ্টি পাঠককে এক আশ্চর্য মণি-হর্ম্যে পৌঁছে দেয়। সেখানে
পাকদণ্ডির বাঁকে বাঁকে ইশারা ও সংকেতের গাঢ় হাতছানি, পথের দুপাশে অভিমানী অরণ্য-মর্মর, নীচে বহু দূরে খরস্রোতা শাণিত নদীর জলজ তীব্রতা আর মৃত্যুর মতো শান্ত ও বিষণ্ণ আগুন। ”

“সেই বিষণ্ণ আগুনের কুমারী-উত্তাপে আমাদের চোখ পুড়ে গেলে পোড়া চোখে একে একে ভেসে ওঠে

ঃ পাথরের কাপালিক, হাঁড়িকাঠ, রোদে বসে থাকা মুণ্ডহীন দেবী, গাঙিনীর জল, সাজানো সুটকেস-বন্দী স্মৃতি, পরিত্যক্ত দেবগৃহ, যজ্ঞের আগুন, শিকলে রক্তের দাগ, বৈষ্ণব-শ্মশান, ঘুমন্ত উনুন, জন্মান্ধের সূর্যোদয় দেখার স্বপ্ন, অন্ধকারে বেজে ওঠা বেহালার ছড়…”

পড়ুন প্রিয় পাঠক ——

১.

বহুদিন পরে আজ আকাশ দেখলাম…
ভীষন মুক্তির গন্ধ চারপাশে। অথচ আমি তো
চেয়েছি বন্দিনী হতে…

২.

এই সরে থাকা ভালো। এতদিন হাতের নাগালে
থেকে কী পেলাম বলো! পোড়া ইঁট, বালি
সাজিয়ে সাজিয়ে গড়ে তোলা এক মিথ্যে ঘর-বাড়ি
ঈষৎ ওমের লোভে তুলে আনা খড়কুটো, ধুলো….

৩.
‘অন্ধটি নিঃশব্দে হাসে। টের পাই তার জিভ নেই
ভীষণ হাঁমুখে তার সূর্য ডুবে গেছে
ফুটে উঠছে একে একে অরুন্ধতী, কৃত্তিকা, রোহিণী

এ আলোর নীচে জানি, আমি আর দাঁড়াতে পারবোনা..’

৪.
‘পুরোনো দিঘির পাড় ছেড়ে, সোনার সংসারে উঠে আসি
পিছুডাক চৈ চৈ ম্লান করে। ভাঙা শামুকের
ক্ষত থেকে, কাদা থেকে, ভালোবাসা শিরোনাম থেকে
নিজ গৃহে ফিরে আসি। হেঁশেলের চাবি খুলি। ফের

আগুনের ঘুম ভাঙে। হোমে যজ্ঞে জাগে হুতাশন
জলের ছলাৎ শব্দ দুপুরে বিস্বাদ হয়ে যায়…..’

৫.

‘আমি বোবা। তবু শব্দ ভালোবাসি। তারা ভালোবাসি। দেখো, এ মেঘের রাতে কাঠের সিন্দুকে ভরে ভাসিয়ে দিয়েছ বলে অভিযোগ নেই। চাবির শরীর বেয়ে সমুদ্রের পিয়নেরা রাতভোর আছড়ে পড়েছে

এখন এ ঝড় থামে যে গান শোনালে
সে গান কি ভুলে গেলে বকুল ঠাকুর?’

৬.

‘কোনো বৃষ্টিপাতই স্থায়ী নয়
মেঘ কেটে যায়। ফের রোদ ওঠে আমার শহরে
যেটুকু নেতিবাচক পুরুষস্বভাব নিয়ে
ভেবেছি তা মিথ্যে করে খুঁজে পাই প্রেমিকের সুর

কে বলে শরৎ শেষ? কাশের শরীর নিয়ে
এ শহরে জেগে থেকো বকুল ঠাকুর…’

৭.

‘তোমাকে ভাবতে বসে মনে পড়ে অন্য কারো মুখ

রোদ্দুরের তেজ বাড়ে। আমি ভয় পাই
যদি পুড়ে যায় প্রেম! কিশোরীবয়স!
বিশ্বাসঘাতিনী বলে তবে কি কুপিত হবে?
অভিশাপ দেবে? বল, বকুল-ঠাকুর?’

পরিশেষে জানাই শাশ্বতীর কবিতা সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত কিছু প্রস্তাবনা। অবশ্য কবি ইচ্ছে করলে সেইসব প্রস্তাবনা অনায়াসে অগ্রাহ্য করতে পারেন ঃ

ক)
তাঁর ছন্দের বোধ নিখুঁত। কিন্তু অক্ষরবৃত্ত ছাড়াও অন্য কোনও ছন্দে ব্যক্তিগত এইসব অনুভবকে শিল্পরূপে গেঁথে ফেলা যায় কীনা, একটু ভেবে দেখতে পারেন।

খ)
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জীবনানন্দের কবিতায় লক্ষ করেছিলেন একটা “আত্মঘাতী বিষাদ”। শাশ্বতীর কবিতায় এই বিষাদ যদি ক্রমশ ক্লিশে হয়ে ওঠে সেটা তাঁর কবিতাকে একটা অপরিসর গণ্ডির মধ্যে সীমায়িত করে ফেলবে। পর পর দুটি কাব্যেই তিনি এলাস্টর-তাড়িত। আমরা চাই তাঁর কবিতা এই আত্মঘাতী বিষাদের ব্ল্যাকবক্স থেকে মুক্ত হোক। ব্রেইল-পাঠকদের আলো দেখাক তাঁর কবিতা।

গ)
কিছু কিছু চিত্রকল্প ও এলিগরি তাঁর কবিতায় বারংবার ঘুরে ফিরে আসছে। সেগুলির সিংহভাগই নেতিবাচক। এ বিষয়ে একটু সচেতন হলে ভালো হয়।

ঘ)
তাঁর অধিকাংশ কবিতাই আবর্তিত হয় তাঁর একান্ত নিজস্ব সত্তা ও ব্যক্তিগত যাপন-বিন্দুকে কেন্দ্র করে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সঙ্গে আমরা প্রত্যাশা করব, মাঝে মাঝে বৃহত্তর জীবনের প্রাতিবেশিক অগ্নি-স্পন্দন এসে দোলা দিয়ে যাক, পুড়িয়ে দিয়ে যাক তাঁর কবিতাকে। এতখানি প্রতিভা শুধু ব্যক্তিগত বিবরেই বন্দী হয়ে থাকুক, আমরা চাই না।

লেখক উত্তরবঙ্গের একটি ইউনিভারসিটি-কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপনা করেন। বাংলা উপন্যাসে ‘দেশবিভাগ ও উদ্বাস্তু-সংকট’ বিষয়ে গবেষণা করেছেন ইউ জি সি-র স্কলারশিপ পেয়ে। লিখেছেন কয়েকটি গবেষণা-গ্রন্থ। মূলত প্রাবন্ধিক ও কবি। উল্লেখযোগ্য কবিতা-সংকলন : ‘ বর্ণমালার দিব্যি’ (প্রতিভাস)। ভালোবাসার বিষয় : কবিতা, প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্য।

Leave A Reply