শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

এ যেন এক পরিক্রমা! কখনও অলীক, কখনও ধ্রুব, কখনও বা প্রত্যক্ষ

বই-কথা

‘অনুগামিনী’ উপন্যাসে ইতিহাস কথা বলে চলে আর পাঠকের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে সময়। শ্রীরামকৃষ্ণদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতার পাশাপাশি গিরিশচন্দ্র ঘোষ, তিনকড়ি-সহ অনেক ঐতিহাসিক চরিত্র এই আখ্যানে উপস্থিত। চৈতন্যময় পরম ভালবাসার ইঙ্গিতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে এই উপন্যাস। এঁদের মধ্যে কেউ সবিশেষ উজ্জ্বল আজও। আবার কোনও কোনও চরিত্রকে আলোয় ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন লেখক। অসাধারণ অন্তর্জাগরণে আবিষ্ট হবেন পাঠক।

বন্ধুমাত্র ধর্ম এ সংসারে/ স্থায়ী কিছু নহে চিরদিন– স্বপ্নের মধ্যে কথাগুলি ফিরে পায় তিনকড়ি। সেই কণ্ঠস্বর। বাংলা রঙ্গমঞ্চের কিংবদন্তী গিরিশচন্দ্র ঘোষ। তিনকড়ি তাঁর অগণ্য অনুগামিনীর এক জন মাত্র। উত্তর দেন–- থাক ধর্ম, হোক সর্বনাশ, তিল মাত্র তাহে গণি। মিস মার্গারেট নোবেল বিনোদিনী, তিনকড়ি, তারাসুন্দরী আর তাঁদের গুরু গিরিশচন্দ্র ঘোষ।

তিনকড়ির সঙ্গত প্রশ্ন– আমাদের অনুগমন সম্পর্কে ইতিহাস নীরব থাকবে কেন ? আছে সে নয়নতারায় আলোকধারায় তাই না হারায়। ওগো তাই হেরি তাই যেথায় হেথায়, তাকাই আমি যে দিক পানে…

গাইতে গাইতে চোখে জল চলে এসেছে সন্ন্যাসীর।

মার্গারেট নম্র স্বরে বললেন-– whose composition!

জোড়াসাঁকোর রবিবাবুর।

যুবক সন্ন্যাসী বললেন-– আমার যিনি ঠাকুর তিনিও এক জন কবি।

ভালবাসা ‘অনুগামিনী’ উপন্যাসের মর্ম-বাণী। সেই ভালবাসা কখনও আদর্শের, কখনও বা পরাধীন গ্লানিময় দেশকে জানার। আবার ভালোবাসা নর-নারীর রক্ত-মাংসের এক প্রত্যক্ষ অনুভূতির, যা সমান্তরাল ভাবে প্রবাহিত হয়েছে ।

মোম্বাসা জাহাজে চড়লেন এলিজাবেথ মার্গারেট নোবেল। ভারতবর্ষে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন স্বামী বিবেকানন্দ। উপন্যাস মার্গারেট নোবেলের দ্বন্দ্ব, সংশয়ের কথা বিধৃত করে আবেগের মেদকে সম্পূর্ণ বর্জন করে, তবে চৈতন্যময় ভালোবাসার ইঙ্গিতও সেখানে সাংকেতিক হলেও ধ্রুব ।‘ভালবাসি’ শব্দটা উচ্চারণ করতে পারলেন না গিরিশ ঘোষ। সংসার তো অনুকৃতি নয়। 

কোনও প্রম্পটার নেই। অব্যক্ত বেদনার কথা ‘অনুগামিনী’। বারবার বলে। আসলে ‘অনুগামিনী’ কথা, সাহিত্যিক অভিজিৎ চৌধুরীর এক পরিক্রমা। কখনও অলীক, কখনও ধ্রুব, কখনও বা প্রত্যক্ষ।

Comments are closed.