বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

বইমেলায় এবার ‘সঙ্গে কালিকা’, কলম ধরেছেন বন্ধুরা

মধুরিমা রায়

৭ই মার্চ, ২০১৭ দিনটা না এলেই ভালো হত।  চলে গেছেন কালিকা প্রসাদ। চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করে। দোহারের বাকি সদস্যরা বেঁচে গেলেও ড্রাইভারের পাশের সিটে বসা কালিকাপ্রসাদকে আর ফেরানো যায়নি।  প্রসাদ দার গলায়,সুরে আর কোনও গান হবে না বিশ্বাস করতে পারেন না বাঙালী।  সুরকার হিসেবে পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলির বিসর্জনে তাঁর বন্ধু তোর লাইগ্যা যে আবেদন রেখেছে তাতে এখনও চোখ ভিজে যায় বহু সঙ্গীতপ্রেমীর।  তাই তাঁর শশরীরে না থাকা মেনে নিতে পারেন না অনেকেই।

কালিকাপ্রসাদ আসলে সকলেরই।  কিন্তু কয়েকজনের কাছে রয়ে আছেন আর একজন ব্যক্তিগত কালিকাপ্রসাদ।  যিনি কারও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, স্বামী, সহকর্মী কিংবা প্রিয় দাদা।  চাকরিসূত্রে যিনি হয়তো কারও ‘বস’।  আবার মিউজিক ম্যানেজারের ভূমিকা নিয়ে যিনি গড়ে দিচ্ছেন এফ এম-এর গান-কথা সংস্কৃতির স্বতন্ত্র ঘরানা।  কোথাও আড্ডা জমেছে চায়ের দোকানে।  কোথাও আবার অফিসেরই কাজের ফাঁকে।  ক্লাসরুম থেকে মিউজিক রুম পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা সেই যে অন্য কালিকাপ্রসাদ, তিনি থেকে গিয়েছেন জনা কয়েকের স্মৃতিতেই।  সেই স্মৃতিরই কোলাজ ‘সঙ্গে কালিকা’।  তাঁর ‘এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলি’ যাঁরা, তাঁরা বিশ্বাস করেন ৭ মার্চ সত্যি নয়।  কালিকাপ্রসাদ আছেন সঙ্গে। প্রসাদ কিংবা কালিকা বা প্রসাদদা হয়ে।

শিল্পী কালিকাপ্রসাদের দর্শনই হয়তো ধরা হয়েছে এই স্মৃতি-সংলাপে।  আসলে এক জন মানুষ তো বহু জন হয়ে ছড়িয়ে থাকেন অনেকের সত্তায়। সেই অংশ জুড়েই আমরা সমগ্রের হদিশ পাই।  শিল্পী কালিকাপ্রসাদকে চিনে নেওয়া তাই জরুরিও বটে।  একজন শিল্পীকে সমগ্রতায় চিনে নেওয়ার মধ্যেই মেলে উত্তরণের দিশা।  এই বই তাই আপামর পাঠকের কাছে এক অন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।  স্মৃতির সঙ্গে সে আড্ডারই সংকলন ‘সঙ্গে কালিকা’।  কলম ধরেছেন তাঁর পরিবারের সদস্য থেকে বন্ধু ও সহকর্মীরা।  সম্পাদনা করেছেন তাঁরই সহকর্মী সুতীর্থ দাশ।

প্রতিবার বইমেলা আসে, এবারেও তেতাল্লিশতম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামী ৩০ শে জানুয়ারী, চলবে ১০ ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  বইমেলাতেই সৃষ্টিসুখ প্রকাশনায় অন্য কালিকাপ্রসাদকে জানতে এই বই পেয়ে যাবেন।  বইটির প্রচ্ছদের দায়িত্ব নিয়েছেন রোহণ কুদ্দুস, নামাঙ্কণ করেছেন উর্বা চৌধুরি।  শিল্পীর জীবন কখনও থেমে যায় না।  এই বইয়ে আপনার প্রিয় শিল্পীকেই অন্যভাবে জানবেন, কারণ তাঁর বন্ধু থেকে সহকর্মীরা কলম ধরেছেন।  মানুষ কালিকা দা কেমন ছিলেন জানতে বইমেলায় পৌঁছে যেতেই পারেন আপনি।

Comments are closed.