আরামবাগে তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমাবাজি, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে, শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে দায়ী করছে পদ্মশিবির

রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ স্থানীয় তৃণমূল নেতার বাড়িতে দুটি বোমা ফাটে। পরে পুলিশ এসে একটি বোমা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির তারকেশ্বরের সালেপুরে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমাবাজির অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। তারকেশ্বরের আস্তারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সালেপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় তৃণমূল নেতা অমিও ঘোষের বাড়িতে কে বা কারা বোমাবাজি করে বলে। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা বোমা উদ্ধার করে নিয়ে গেছে।

শুক্রবার সকালে অমিয় ঘোষ অভিযোগ করেন, “গত কাল রাত এগারোটা থেকে সাড়ে এগারোটার মধ্যে আমার বাড়িতে হঠাৎই বোমা মারে একদল দুষ্কৃতী। দুটো বোমা ফাটে। একটা বোমা পরে প্রশাসন থেকে এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব একাজ করেছে। আমি ছাত্র রাজনীতি করার সময় থেকে তৃণমূল করছি। ওরা চাইছে আমাকে দমিয়ে দিতে। এখানে নিয়মিত ভাবে একশো দিনের কাজ হচ্ছে, মানুষ কাজ পাচ্ছে। সেটা ওদের সহ্য হচ্ছে না। প্রায়ই ওরা হামলা করে। এর আগে আমাদের দলীয় কার্যালয়েও ওরা বোমা মেরেছে। কাল রাতেই প্রশাসনের লোকজন এসেছিল। জেলার নেতাদের আমি বিষয়টা জানিয়েছি।”

বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি গণেশ চক্রবর্তী তাদের দলের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “জেলা পরিষদের তেত্রিশ নম্বর খালেপুর গ্রামে বিজেপির জনসম্পর্ক অভিযান হয়েছিল। সালেপুরে আমাদের জেলা পরিষদের সভাপতি সুরজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে সেই অভিযান করা হয়। সেটা ওরা ভাল চোখে দেখেনি। আমার মনে হয় ওরা নিজেরা বাড়িতে বোমা ফেলেছে। ওই ছেলেটা (অমিয় ঘোষ) গ্রামের মধ্যে বোমা ও পিস্তল নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। এটা সবাই জানে। তাছাড়া গোটা তারকেশ্বর জুড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। আমার মনে হয় এটা ওদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই ফল।”

কয়েক দিন আগে সালেপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিভিন্ন দল থেকে শতাধিক কর্মী-সমর্থক তৃণমূলে যোগ দেন। তখন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে এক হাত নেন। দিলীপ ঘোষের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন। দিলীপ ঘোষ যে বদলার কথা বলেছিলেন তার পাল্টা মারের হুমকি তিনি দেন।

রাজ্যে দ্বিতীয় দল হিসাবে বিজেপির উত্থানের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে। তবে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও বিভিন্ন জায়গায় চরম। এই অবস্থায় সালেপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে বোমাবাজির ঘটনা খুব সহজেই রাজনৈতিক রং পেয়ে গেছে। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস যথারীতি বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে যদিও গভীর রাতে আচমকা বোমাবাজি কেন তার জুৎসই কোনও কারণ তারা বলতে পারছে না। বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে এই ঘটনাকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হিসাবে দেখিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। এই ঘটনায় এখনও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More