মৃতদেহ বদলা বদলি, খোঁড়া হল কবর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বুধবার সন্ধ্যায় আমেদাবাদের বাভলায় দিনের বেলায় বাজারের মধ্যে খুন হয়েছিলেন মিত্তল যাদব। ১৯ বছরের ওই দলিত তরুণীকে ছুরি মেরে হত্যা করে তিন দুষ্কৃতী। তাঁকে স্থানীয় ভি এস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই রাতেই তিনি মারা যান। দেহটি তুলে দেওয়া হয় মিত্তলের আত্মীয়দের হাতে। কিন্তু শুক্রবার তাঁরা জানতে পারলেন, দেহ বদলাবদলি হয়ে গিয়েছে। মিত্তলের বদলে তাঁদের দেওয়া হয়েছে ২৬ বছরের এক মহিলার দেহ। তিনি সন্তানের জন্মের সময় মারা যান।

    শুক্রবার ঢোলেরা গ্রামে মিত্তলের বাড়ির লোকেরা তাঁর দেহটি কবর দেন। যে হাসপাতালে মৃতদেহ বদলাবদলি হয়েছিল, তা পরিচালনা করে আমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। শহরের মেয়র বিজাল পটেল ও হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট মনীশ পটেল দোষ দেন হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের ওপরে। অভিযোগ, তাঁরাই মর্গ থেকে দেহ বার করার সময় বদলাবদলি করে ফেলেছেন। তাছাড়া মৃত তরুণীর বাড়ির লোক এবং পুলিশও এই ভুলের জন্য দায়ী বলে তাঁরা মনে করেন।

    আমেদাবাদ (রুরাল) এর পুলিশ সুপার আর ভি আসারি অবশ্য ওই ঘটনায় পুলিশের দায় অস্বীকার করেছেন।

    বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মিত্তলকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভি এস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় প্রসবের সময় মারা যান নাসরিন সৈয়দ। তাঁর পরিবারের লোক স্থির করে, দেহটি দু’দিন মর্গে রেখে দেওয়া হবে। নাসরিনের স্বামী কর্ণাটকে কাজ করেন। তিনি যাতে স্ত্রীর মৃতদেহ দেখতে পারেন, সেজন্য বাড়ির লোক ওই সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের দাবি, দেহটি দু’দিন রেখে দেওয়ার জন্য হাসপাতালকে ৪০০ টাকা দিতে হয়েছিল।

    শুক্রবার দুপুর দু’টোর সময় নাসরিনের বাড়ির লোকজন হাসপাতালে দেহটি আনতে যান। তখন তাঁদের বলা হয়, দেহ মিসিং। সেই নিয়ে শুরু হয় হইচই।  নাসরিনের বাড়ির লোকজন মর্গের সামনে অবস্থান শুরু করেন। এমন সময় মর্গের কর্মীরা লক্ষ করেন, মিত্তলের দেহটি সেখানেই রয়েছে। তখন তাঁর বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

    মিত্তলের বাবা রমেশ যাদব বলেন, তাঁরা ভেবেছিলেন, মর্গে পড়ে থেকে দেহটি ফুলে গিয়েছে। পুলিশের সামনেই তাঁদের হাতে দেহটি তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা ঢোলেরা সমাধিস্থলে দেহটি কবর দেন। সেদিন বিকাল চারটেয় হাসপাতাল থেকে তাঁদের জানানো হয়, মৃতদেহ বদলাবদলি হয়ে গিয়েছে।

    নাসরিনের দেহটি শেষপর্যন্ত কবর খুঁড়ে তুলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় আত্মীয়দের হাতে। তাঁরা এই ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দাবি করেছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More