কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলেন কুন্তল কাঁড়ার আর বিপ্লব বৈদ্য, কান্না বুঝি চাপতে পারলো না প্রকৃতিও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিরে এলেন তাঁরা। প্রত্যেকবার পাহাড় থেকে ফিরে আসেন। তাঁদের ঘিরে ধরে পরিবার পরিজন আত্মীয় বন্ধুর ভিড়, মিডিয়ার বুম। করতালি আর জয়ল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে বিমানবন্দর চত্বর। কিন্তু এবার সেই আবহ নেই। একরাশ বিষন্ন মুখের ঘোরা ফেরা। এখানে সেখানে পাহাড়প্রেমী মানুষজনদের জটলা। তারই মাঝে ফিরে এলেন কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়ে মৃত্যু বরণ করে নেওয়া বিপ্লব বৈদ্য ও কুন্তল কাঁড়ার।

    বিমানবন্দরের বাইরে  তখন চলছে প্রতীক্ষা

    আজ রাত ৮ টা নাগাদ দমদম বিমান বন্দরে এসে পৌঁছায়  কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ আরোহণকারী বিপ্লব বৈদ্য ও কুন্তল কাঁড়ারের মরদেহ।  উপস্থিত ছিলেন বাংলার বহু পর্বতপ্রেমী মানুষ। বিমানবন্দর থেকে বিপ্লবের মরদেহ যাওয়া হবে  সল্টলেকে তার কর্মস্থল পরিবেশ ভবনে। সেখানে বিপ্লবকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন তাঁর অফিসের সহকর্মীরা।

    পরিবেশ ভবন থেকে বিপ্লবের মরদেহ নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল এন আর এস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। কারণ ১৮ বছর আগে মরণোত্তর দেহদানের  অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন বিপ্লব বৈদ্য। তাই ঠিক করা হয়েছিল, চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে  বিপ্লবের দেহ পরিবারের পক্ষ থেকে দান করা হবে এন আর এস এর  অ্যানাটমি ডিপার্টমেন্টে। কিন্তু জানা যায়  ময়নাতদন্ত করা মরদেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোন কাজে লাগে না। তাই সিদ্ধান্ত বদলে বিপ্লবের দেহ সৎকারের জন্য এখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কাশীমিত্র ঘাট শ্মশানে।

    অন্যদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘায় মৃত বাংলার অপর পর্বতারোহী  কুন্তল কাঁড়ারের  কফিনবন্দী দেহ  নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পিস্ ওয়ার্ল্ডে। আগামীকাল, ২৬ শে মে সকাল ৬ টার সময় পিস্ ওয়ার্ল্ড থেকে কুন্তল কে নিয়ে যাওয়া হবে হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবে। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

    যাবার দিনে এয়ারপোর্টে কুন্তল, ছবির বাঁদিকের ওপরে বিপ্লব বৈদ্য আর রুদ্রপ্রসাদ

    আগামীকাল সকাল ৭.১৫ মিনিটে হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট মাউন্টেনিয়ারিং  ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে কুন্তল কাঁড়ারের দেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর বাসভবনে। সেখানে আধঘন্টা রাখার পর কুন্তল কাঁড়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে হাওড়া অন্নপূর্ণা ব্যায়াম সমিতিতে।

    সকাল ৭.৪৫ থকে ৮.৩০ পর্যন্ত জন্য হাওড়া অন্নপূর্ণা ব্যায়াম সমিতির প্রাঙ্গণে রাখা হবে কুন্তল কাঁড়ারের দেহ। জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকাল ৮.৩০ মিনিটে কুন্তলের অন্তিম যাত্রা শুরু হবে বাঁশতলা শ্মশান ঘাটের উদ্দেশ্যে।

    কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানের আগে, ৩ এপ্রিল কুন্তল ফেসবুকে লিখে ছিলেন,

    পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এর শীর্ষবিন্দু স্পর্শ করার পরে আগামীকাল রওনা দিচ্ছি পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ ও ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখর স্পর্শ করতে। বেশীরভাগ বাঙালিরই প্রথম পর্বতশৃঙ্গ দর্শন হল কাঞ্চনজঙ্ঘা, তা সে বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া থেকেই হোক বা পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং থেকে।বাঙালির আবেগের সাথে একাত্ব হয়ে যাওয়া একমাত্র পর্বতশৃঙ্গ হল কাঞ্চনজঙ্ঘা। আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে সেই কাঞ্চনজঙ্ঘাতে অভিযানের সূযোগ পাওয়ার জন্য | আপনাদের অফুরান ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও কল্যাণশ্বর ঈশ্বরের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই, যাতে আমি সুস্থ শরীরে কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখর ছুঁয়ে কাঞ্চনআলো গায়ে মেখে আবার ফিরে আসতে পারি সকলের মাঝে।

    কুন্তল কাঞ্চন আলো মেখে সকলের মাঝে ফিরতে পারলেন না। তাই বুঝি তিনি আর বিপ্লব যখন কফিনবন্দী হয়ে বাংলার মাটি ছুঁলেন, অঝোর ধারায় কলকাতার বুকে নামল বৃষ্টি। কান্না বুঝি ধরে রাখতে পারলেন না প্রকৃতি মা’ও।

    ছবি: অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস বেঙ্গলের সৌজন্যে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More