রবিবার, অক্টোবর ২০

এক মাস ধরে রুদ্ধশ্বাস অভিযান! নন্দাদেবীর দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার সাত পর্বতারোহীর দেহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে উদ্ধার করা গেল নন্দাদেবী অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া সাত পর্বত অভিযাত্রীর দেহ। প্রায় এক মাসের দুর্গম উদ্ধার অভিযানের শেষে রবিবার উদ্ধারকারীরা জানালেন এই খবর। তবে বাকি রয়ে গেছেন আরও এক জন। তাঁকে খুঁজতে সোমবারও চলবে উদ্ধার অভিযান।

ব্রিটিশ পর্বতারোহী মার্টিন মোরানের নেতৃত্বাধীন আট অভিযাত্রীর দলে ছিলেন আরও তিন ব্রিটিশ, দুই মার্কিন, এক অস্ট্রেলীয় মহিলা পর্বতারোহী এবং ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে টিমটির সঙ্গে ছিলেন একজন ভারতীয় লিয়াঁজো অফিসার চেতন পাণ্ডে।

গত ১৩ মে টিমটি নন্দাদেবী-ইস্ট অভিযান  শুরু করে। টিমটি মুন্সিয়ারি থেকে  ৯০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে নন্দাদেবী বেসক্যাম্প পৌঁছায়। নন্দাদেবী ইস্ট শৃঙ্গ ছুঁয়ে, ২৬ মে ফের বেস ক্যাম্পে তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, সম্ভবত তার পরের দিন, অর্থাৎ ২৭ তারিখে তুষারধস নামে। এর পরে চার দিন কেটে যায়। ৩১ তারিখেও ওই আট জন বেস ক্যাম্পে না-ফেরায়, বেসক্যাম্প থেকে এক পোর্টার বিপদবার্তা পাঠান সমতলে।

তবে আট পর্বতারোহীর ওই দলটির নন্দাদেবী ইস্টে আরোহণ করেই ফেরার কথা ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় পর্বতারোহী মহল। কারণ, দলনেতা মোরানের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে ইঙ্গিত রয়েছে, তাঁরা এমন একটি শৃঙ্গে অভিযানের কথা ভাবছেন, যেটিতে আগে কারও পা পড়েনি।

সেনা সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া দেহগুলি এক জায়গায় এনে রাখা হয়েছে। এখনও জানা যায়নি, কোনটা কে।

অভিযানটির দলনেতা ছিলেন বিখ্যাত পর্বতারোহী ব্রিটেনের মার্টিন মোরান। সদস্যদের মধ্যে ছিলেন  ব্রিটেনের পর্বতারোহী জন ম্যাকলেন, রিচার্ড পেইন, রুপার্ট ওয়েবল। আমেরিকার অ্যান্থনি সুডেকন,রোনাল্ড উইমেল। অস্ট্রেলিয়ার মহিলা পর্বতারোহী রুথ ম্যাকেন্স ও ভারতের লিয়াজো অফিসার চেতন পান্ডে। অভিযানটির ব্যবস্থাপনায় ছিল দিল্লির হিমালয়ান রান অ্যান্ড ট্রেক লিমিটেড।

মনে করা হচ্ছে, শৃঙ্গ ছোঁয়ার সময়ে খারাপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে দলটি।

উত্তরাখণ্ড প্রশাসন সূত্রের খবর, নন্দাদেবীর পূর্ব শৃঙ্গটি আরোহণের অনুমতি নিয়েছিল মার্টিন মোরানের নেতৃত্বাধীন দলটি। কিন্তু মে মাসের ২২ তারিখে মোরান ফেসবুকে জানান, তাঁরা ৬৪৭৭ মিটার উচ্চতার অন্য একটি ‘ভার্জিন’ শৃঙ্গ আরোহণের পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ এমন একটি শৃঙ্গ, যেখানে আগে কোনও আরোহীর পা পড়েনি। এমন সিদ্ধান্ত না নিলে হয়তো দুর্যোগের মুখে পড়ে প্রাণ হারাতে হতো না আট জন অভিযাত্রীকে, এমনটাই মনে করছেন পর্বতারোহীরা।

উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের এক আধিকারিকও বলেন, “নন্দাদেবী আরোহণ এভারেস্টের চেয়েও কঠিন। সেখানে জেনেশুনে ঝুঁকি নেওয়ার মানেই হয় না। ওঁরা আরোহণের পরিকল্পনা বদলেছেন, সেটা সরকারি ভাবে জানানোরও প্রয়োজন মনে করেননি। ওঁদের নন্দাদেবী পূর্ব শৃঙ্গ আরোহণের অনুমতি ছিল। ওই শৃঙ্গ ছাড়া অন্য শৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা করা বেআইনি। আমরা কিছুই জানতাম না। যখন জানলাম, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে।”

উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও জানিয়েছেন, অত্যন্ত দুর্গম জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁদের দেহ।

মার্টিন মোরান এক জন বিশ্বখ্যাত আরোহী। ভারতীয় হিমালয়ে এর আগেও অজস্র বার এসেছেন মোরান। এমনকী নন্দাদেবী পূর্বে আগেও দু’বার উঠেছেন তিনি। সেই তাঁর মতো অভিজ্ঞ এক জন অভিযাত্রী কী করে এমন অযাচিত ঝুঁকি নিলেন, সেই হিসেবই মেলাতে পারছেন না অনেকে।

Comments are closed.