বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

রক্তদান শিবির ও দেহদানের অঙ্গীকারে জমে উঠল বিয়েবাড়ি, নতুন জীবনের সঙ্গেই নতুন সমাজের স্বপ্ন নবদম্পতির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পরেই মরণোত্তর দেহদান করার অঙ্গীকার করল নবদম্পতি। একই সঙ্গে রক্তদান শিবিরেরও আয়োজন করল তারা। সব মিলিয়ে সমাজসেবার এক অনন্য নজির গড়ল নবদম্পতি। জানিয়ে দিল, শুধু নতুন জীবনই নয়, নতুন সমাজেরও স্বপ্ন দেখেন তাঁরা।

বিয়ে ও বিয়ে পরবর্তী রীতিনীতির গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে নিজেদের বিয়েকে চিরস্মরণীয় করে রাখার এই চেষ্টাকে কুর্নিশ করছে ময়নাগুড়ি। ময়নাগুড়ি বাবুপাড়ার বাসিন্দা, পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, বছর তিরিশের প্রীতম দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় ময়নাগুড়িরই দেবীনগরের বাসিন্দা, ২৭ বছরের সুকন্যা সাহার। সুকন্যা পেশায় ডান্সার।

বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকেই রক্তদান ও মরণোত্তর দেহদানের প্রচার সঙ্গে নিয়ে অভিনব কায়দায় নিমন্ত্রণ শুরু করেছিলেন তাঁরা। কার্ডে বিয়ে ও বৌভাতে সময় সূচির সঙ্গে ১০ মার্চ সকাল ১১টায় ময়নাগুড়ি মাতৃসংঘে রক্তদান শিবিরে আসার অনুরোধও রাখেন আমন্ত্রিতদের কাছে। অনেকেই আসেন, নবদম্পতির অনুরোধে। রক্তও দেন।

প্রীতম বলেন, “আমি অনেক আগে থেকেই রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। আমি বরাবরই চেয়েছিলাম, রক্তদান শিবিরকে রক্তদান উৎসবের রূপ দিতে। সেটাই করলাম বিয়েতে। শুধু রক্তদান নয়, আজ আমরা মরণোত্তর দেহদানেরও অঙ্গীকার করলাম। আমাদের এই উদ্যোগ আজ সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর সহযোগিতায় সার্থক হলো। আজ আমরা মোট ৪০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেছি শিবির থেকে।”

সুকন্যা জানান, তাঁর হবু স্বামীর এমন প্রস্তাবের কথা শুনে পরিবারের সকলে খুব খুশি হয়েছিলেন। “আমাদের পাশে পুরোপুরি থেকেছেন সকলে। এমনকী আমরা যেখানে যেখানে নিমন্ত্রণ করতে গেছি, সকলে আমাদের দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন। এটাই তো সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি।”– বলেন সুকন্যা।

সুকন্যা আরও জানান, চোখ-সহ বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যায় প্রচুর মানুষ ভোগেন। অনেকে ধুঁকতে ধুঁকতে মারাও যান, শুধু অঙ্গ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে। “তাই আমাদের দেহের কোনও অঙ্গ যদি আমাদের মৃত্যুর পরে কারও কোনও কাজে লাগে, সেই ভেবে শুভ দিনে একসঙ্গে এই শুভকাজ সেরে রাখলাম।”– বলেন সুকন্যা।

ময়নাগুড়ির একটি সংগন, ব্লাড ডোনার্স অর্গানাইজেশনের সম্পাদক রাজা বৈদ্য বলেন, “বিয়েতে রক্তদান এক অভিনব প্রয়াস। রক্তদান শিবির এখন রক্তদান উৎসবে পরিণত হয়েছে। নব দম্পতির বিয়ের শুভেচ্ছা জানাই আমরা। বিয়েতে নিমন্ত্রিত মানুষের সংখ্যা ৫০০ হলে, অন্তত ৫০ জন তো স্বেচ্ছায় রক্তদান করতেই পারেন। আশা রাখছি, আমাদের এই আন্দোলন ক্রমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়বে।”

Shares

Comments are closed.