মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

জঙ্গলমহলের জার্নাল – ১

মারাংবুরু মাহাত:  সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে আদিবাসীদের উপর কুৎসিত আক্রমণ। আদিবসীদের অসভ্য, বর্বর বলে গালাগাল দিচ্ছেন তথাকথিত ‘সভ্য’ মানুষেরা। ‘কোটা’র সুবিধা দিয়েও নাকি আদিবাসীদের মানুষ করা যায়নি, এসবও  সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। আদিবাসীদের দোষ কি? তাঁদের একটাই দোষ, লালগড়ের বাগঘরা জঙ্গলে  আত্মরক্ষার্থে রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে মেরেছে। শিকার পরবের নামে চলছে নাকি অসংখ্য প্রাণি নিধন। শিকার পরব বন্ধ না হলে ‘সভ্য’রা সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দিচ্ছেন, সবকটা আদিবাসীকে জুতো পেটা করা উচিত। কারও আকাঙ্খার উড়ান আরও উঁচু। ‘তাঁরা’ মারাদোনা সেজে আদিবাসীদের ফুটবল বানাতে চান। দাবি করেন, কেড়ে নেওয়া হবে কোটার অধিকার।

আদিবাসীরা তাঁদের মতো করে স্যোশাল কিন্তু বাবুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আদিবাসীরা সড়গড় নয়। বা বলা ভাল, যতটা  যুক্তিপূর্ণভাবে সভ্য মানুষদের প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেওয়া উচিত আদিবাসীদের মধ্যে শিক্ষিতদের সংখ্যা  সেই তুলনায় নগন্য হওয়ায়, তা তাঁরা পারেন না। অনেক আদিবাসী যুবকই যুক্তিযুক্ত জবাব দিচ্ছেন। কিন্তু সভ্য শহুরেদের তুলনায় সেই সংখ্যাটা খুবই কম। ফলে সোশ্যাল  মিডিয়ায়  এই ইস্যুতে  মোকাবিলা করতে পারছে না আদিবাসীরা। ধেয়ে আসছে হাজার হাজার ‘সভ্য’ প্রশ্নবাণ। তার মোকাবিলায় এখনও প্রস্তুত নয় তারা। ফলে বাণে বিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত হচ্ছেন আদিবাসীরা। আর এই সুযোগে তাদের উপর চলছে কুৎসিত, অশ্লীল আক্রমণ।  অজাত কুজাত বলে উল্লেখ করতেও সভ্য জিহ্বা সাবলীল হয়ে উঠছে।

বাঘের মৃত্যু এবং শিকার পরব দুটো ভিন্ন বিষয় বলে আমি মনে করি। শিকার পরবের জন্য বাঘের মৃত্যু হয়েছে, এই ধারণা যাঁরা পোষণ করেন, তাঁদের খপুষ্প স্বপ্নের জগত থেকে বেরিয়ে একটু বাইরে আসা উচিত। শিকার পরবে গিয়ে আদিবাসীরা রঙ্গেল বেঙ্গলকে হত্যা করেছে, এটা সম্পূর্ণ ভুল। জঙ্গুলে মানুষরা চিরদিনই বাঘ, সাপ আর বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে অভ্যস্ত। জঙ্গুলে প্রাণীরা কখনও কখনও  তাঁদের দেবতাও বটে। ভয়ে, ভক্তিতে, ভালোবাসায় সকলেই ‘ধরতিআবা’র আপন সন্তানের মতো থাকে। শ্বাপদ কুলশিরোমণি যেমন অপ্রয়োজনে হত্যা করে না তেমনি অসভ্যরাও অকারণে হাতে অস্ত্র নেয় না। আসলে, বাঘের আতঙ্কে বাগঘরা জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলির আদিবাসীদের জীবনযাপন স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। বাঘের আতঙ্কে জঙ্গলে শালপাতা সংগ্রহ বা কেন্দুপাতা সংগ্রহে কেউ যেতে পারছিলেন না।  জঙ্গলের শুকনো কাঠ বিক্রি করে যে পরিবারের অন্নের সংস্থান হয়, তাঁর পেটে  টান পড়েছিল। সভ্যদের কাছে এই জীবনযাত্রা এখনও অপরিচিত থাকাটাই স্বাভাবিক। এখন প্রশ্ন তুলতেই পারেন, ২টাকা কেজি দরের চাল দেওয়া হয়। তাহলে কিসের পেটের টান? স্যার, জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা দিনে  চারবার ভাত খান। পরিমাণও বেশি। সপ্তাহে মাথাপিছু রেশনদোকান থেকে চাল মেলে ১কেজি।  কিন্তু একজনের সপ্তাহে চাল লাগে পাঁচ কেজি। বাকি ৪ কেজি কোথা থেকে আসবে? আর স্যার, ২টাকার চালের ভাত আপনি একবারও খেয়েছেন? না খাননি। এই চাল খাওয়াটাও একটা আর্ট। সভ্য সমাজকে সেই আর্ট কখনও শিখতে হয়নি, ইশ্বর সহায় থাকুন যেন কখনও শিখতেও না হয়!

শুধু পেটে টান নয়, রাতের অন্ধকারে শিশু মহিলাদের প্রাকৃতিক ডাক, অসুস্থ গর্ভবতী মহিলা বা মুমূর্ষুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া…  বাঘের আতঙ্কে সব তচনছ হয়ে গিয়েছিল। সাড়ে তিন  মাস ধরে বাঘটিকে না ধরতে পারার জন্য বন দপ্তরের ব্যর্থতার দিকে একবারও তো আঙুল তুললেন না!  বনদপ্তর মর্দানি দেখাতে পারল না। কিন্তু যেই বাঘের মৃত্যু ঘটল, বন দপ্তর এবার পৌরষত্ব দেখাতে ময়দানে নেমে পড়ল। আইনের মারপ্যাঁচে আদিবাসীদের জেলে পুরে নিজেদের ব্যর্থতার উপরে পর্দা ফেলার এই কৌশলও সভ্য সমাজেরই দান। আদিবাসীরা কিন্তু কোরা কাগজের মত সৎ। নিজেদের পৌরুষ প্রকাশ ও ব্যর্থতার একইরকম অকৃত্রিম। আদি মহাকাব্যের মতোই আনকুথ, সাহিত্যিক মহাকাব্যের মতো সাজানো নয়। হাজার হোক অসভ্য তো!

এই  জঙ্গল তো একদা আদিবাসীদেরই ছিল। তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিল সরকার। বন ফরেস্টবাবুদের মৃগয়া হলো। এখন পাতা কুড়োতে গেলে ফরেস্টবাবু বাধা দেন। অথচ কাঠ মাফিয়ারা বনের দামি কাঠ যখন বাইরে পাচার করে দেয় অবলীলায়। রঙিন হয়ে ওঠে কোনও কোনও ফরেস্টবাবুর জীবনযাপন। বাঁকুড়ার রাইপুর, রানিবাঁধ এলাকায় দামি সাদা পাথর মাফিয়াদের হাত ধরে চলে যাচ্ছে আসাম, নেপালে। ওই সাদা পাথর তো আদিবাসীরাই এতদিন রক্ষা করছিল। দামি পাথর পাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেই মাওবাদী তকমা। আসলে যে কোনও ভাবে আদিবাসীদের জঙ্গলে ঢুকতে  বাধা দাও। আদিবাসীদের উচ্ছ্বেদ করে জমি তুলে দাও কর্পোরেট সংস্থার হাতে। ছত্তিশগড়ের  বস্তার জঙ্গলের আদিবাসী বিদ্রোহের কথা সভ্য জগতেও এসেছি শুনেছি। সেখানেও একই ভাবে বনভূমি তুলে দেওয়া হয়েছে বহুজাতিক সংস্থার হাতে। পুরুলিয়ায় একের পর এক ছোট ছোট পাহাড় বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাহাড় কেটে পাথর বেচে মুনাফায় লাল হচ্ছে কর্পোরেট সংস্থা। আদিবাসীদের ভবিতব্য কেন্দুপাতা আর পাতার ভাঁজে জমা পিঁপড়ের ডিম। অসভ্যদের আরও একটা সমস্যা আছে। এখনও নাস্তিক হতে পারেনি বা আবেগকে বাস্তবের দাবির নামে বন্ধক দিতে শেখেনি। আদিবাসীরা পাহাড়কে দেবতা হিসেবে পুজো করেন। চোখের সামনে আদিবাসীরা দেখছেন, তাদের দেবতার বুকে সভ্যযন্ত্রের আঁচড় ক্রমশ প্রকাণ্ড হয়ে খুবলে খুবলে খাচ্ছে। আগামী দিনে পুরুলিয়ার সব পাহাড়েই চলে যাবে বেসরকারি সংস্থার হাতে। আদিবাসীদের  মারাংবুরু সেঁধিয়ে যাচ্ছে সভ্যদের সভ্যতার বিরাট পেটের লেলিহান গহ্বরে।

লালগড়ের রয়েল বেঙ্গল কাহিনীতে গভীর এক রহস্য রয়েছে। একটু তলিয়ে দেখলে গভীর এক চক্রান্ত মিলবে। আদিবাসীদের জঙ্গলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দাও। ওদের অধিকার কেড়ে নাও। পশুপ্রেমীদের মাঠে নামাও আদিবাসীদের বিরুদ্ধে। আর বনভূমি সহজে বিক্রি করে দাও কর্পোরেট সংস্থার হাতে। জঙ্গল মায়ের অসভ্য ছেলেমেয়েরা তা টের পাচ্ছে একটু একটু করে। তাই ক্ষোভের বাষ্প ধূমায়িত হচ্ছে। নেহাতই স্যোশাল মিডিয়ার পাতা ভরাতে অভ্যস্ত সভ্যদের আছে একটা বিনম্র আবেদন, মনে রাখবেন ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্ত করতে অভ্যস্ত। অকারণ হুল্লোড়ে আবার একটা উলগুলানের আগুন অজান্তেই ছড়িয়ে দেওয়ার অনুঘটক হয়ে উঠছেন কি না, সভ্যতার দোহাই একবার ভেবে দেখবেন।

      এবার একটা গল্প শোনাতে চাই শুধু। ইতর অসভ্যদের কথা এতক্ষণ পড়লেনই যখন হুজুর আর একটু সবুর করুন। সভ্য জগতের একটি সিনেমার নাম নিউটন। সময় নেব না সভ্যতার শপথ। একটি মাত্র দৃশ্যের কথা বলব। ভোটকেন্দ্রের কর্মী নিউটনের সহকর্মী এক শহুরে জঙ্গুলে এলাকার মশার কামড় খেয়ে ম্যালেরিয়ার ভয় পাচ্ছে। তাদেরই সঙ্গী জঙ্গলের মেয়ে লাল পিঁপড়ের বাসা এসে ম্যালেরিয়া সারানোর দাওয়াই বাতলাচ্ছে। একটু পর শহুরে কিন্তু মননশীল নিউটন একটি পিঁপড়ের ডিম মুখে দিয়ে তাঁর কটু স্বাদের কথা বলছে। মেয়েটির এবারের বক্তব্যের নির্যাস শহর থেকে সামান্য দূরে এই জঙ্গলের জীবনযাত্রার খোঁজ শহর রাখে না। এখানে ওই ডিমের চাটনিই বিরয়ানি, মুর্গমশল্লমের সমতুল্য! ঘরের বাইরে দু’পা একটু চালিয়ে সভ্য, পশুপ্রেমী বন্ধুরা একটু দেখবেন নাকি আপনার ভারতের বা‌ইরে আরেকটি ভারত সত্যই অসভ্য কি না, পশু হন্তারক কি না! স্যোশাল মিডিয়ার উত্তরোধুনিক দেওয়াল মসিলিপ্ত না করে একদিন এই অসভ্য ভারতে আসুন প্লিজ, আপনার স্যোশাল ইমোশানের দোহাই, আসবেন?

ছবি সূত্র: ইন্ডিয়াব্লুমস

(জল জমি জঙ্গল পাহাড় রক্ষায় আদিবাসীদের পক্ষে এই লেখকের কলম গর্জে ওঠে। একাধিক আদিবাসী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বন ভূমি পাহাড়ের জন্য তিনি সদা জাগ্রত। জঙ্গলমহলে জন্মে জঙ্গলমহলেই বিচরণ করেন এই লেখক।)

Shares

২ Comments

  1. পেড ও বায়াসড মিডিয়া দেখে দেখে একরকম বীতশ্রদ্ধ হ​য়েই এতদিন কিছু মন্তব্য করিনি কোন নিউজ পোর্টালে , কিন্ত এটা তিয়াষদির সাইট , এখানে আমি নিজের কিছু মতামত জানাতে চাই …
    ১. আপনি দেখছি এখানে শিবের গীত গেয়ে বসে আছেন , প্রসঙ্গ ছিলো বাঘ , আপনি সেটাকে গৌণ করে চলে গেলেন সভ্য সমাজের আচরণ , পাথর মাফিয়া , আদিবাসীদের বন্চনা , দারিদ্র্যতা , বনভূমির বেসরকারীকরণ ইত্যাদি তে , তাতেই ক্ষান্ত থাকেন নি আপনি , টেনে এনেছেন নিউটন সিনেমাকেও ., দেখুন মশায় , বাঘ টি ওখানের জনসাধারণ এর দৈনন্দিন জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলো, বন দফতর কিছু করতে পারেনি চেষ্টা করা সত্ত্বেও , কিন্তু তার মানে এটা না যে ওকে মেরে ফেলা ই ওয়ান এন্ড অনলি সল্যুশান ছিলো, চেষ্টা করলে আপনারা ওটাকে ধরার চেষ্টা করতে পারতেন , কিন্তু ঐ যে , একটা প্রাণী মেরে বিশাল বীরত্ব প্রকাশ করতে ভালো লাগে আদিবাসীদের , সেটাই করেছে তারা , অথচ আদিবাসীরা অনেক কৌশল ই জানেন , কীভাবে ফাঁদে ফেলে কোণঠাসা করা যায় , তাই রিকোয়েস্ট করছি , দ​য়া করে সাফাই গাইবেন না, আপনি আনন্দবাজারে লিখুন , ভালো হবে, তিয়াষদির সাইট কে এটলিস্ট বায়াসড করে দেবেন না ।

    ২. আপনি লিখেছেন , > “এখন প্রশ্ন তুলতেই পারেন, ২টাকা কেজি দরের চাল দেওয়া হয়। তাহলে কিসের পেটের টান? স্যার, জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা দিনে চারবার ভাত খান। পরিমাণও বেশি। সপ্তাহে মাথাপিছু রেশনদোকান থেকে চাল মেলে ১কেজি। কিন্তু একজনের সপ্তাহে চাল লাগে পাঁচ কেজি। বাকি ৪ কেজি কোথা থেকে আসবে? আর স্যার, ২টাকার চালের ভাত আপনি একবারও খেয়েছেন? না খাননি। এই চাল খাওয়াটাও একটা আর্ট।” <
    ————————————-
    আপনি নিজে জঙ্গলমহল এর মানুষ বলে আমাদের কে ভাবছেন , আমরা তো বোকা, হাঁদা , বাস্তব প​ড়ে আমাদের চোখে জল এসে আদিবাসীদের প্রতি সিমপ্যাথি আসবে ! প্রথমত , এখন বিভিন্ন খাদ্য প্রকল্পে মাথাপিছু ৪ কেজি করে চাল দেওয়া ও হ​য়ে থাকে @₹2 , আমি নিজে দেখেছি, ঐ আওতায় থাকা মানুষ দের বস্তা নিয়ে রেশন দোকানে যেতে , ১৬ কেজি -২০ কেজি করে চাল ব​য়ে আনতে ( ৪-৫ জন সদস্যের ফ্যামিলি ^ ) , দ্বিতীয়ত, দিনে চারবার ভাত খাওয়ার ব্যাপার টা , এটা আংশিক সত্য , সকালবেলাতে ব্রেকফাস্টে অনেকেই ভাত খেয়ে নেন , তার মানে এটা হ​য়না যে , দিনে চার বার " MEAL " খায় ওরা , এবং সবশেষে, ২টাকা কিলো দরের চালের ভাত আমি নিজে অনেকবার ই খেয়েছি , কোয়ালিটে যথেষ্ট ভালো,শুধু সামান্য মোটা , আগেকার সরকারের চাল কেমন ছিলো সেব্যাপারে আমি জানিনা, কিন্তু এখন যথেষ্ট ভালো, আপনি নিশ্চ​য় ই ২টাকা কেজি তে বাসমতী আশা করেন না , আসলে কী জানেন , মানুষ বসতে পেলে শুতে চায় , আর শুতে পেলে …….. থাক আর নাইবা বল্লাম , ইররেলেভান্ট প্রসঙ্গ টেনে এনে সাফাই গাইতে গিয়ে আপনি একটু বেশি ই বলে ফেলেছেন মারাংবুরু বাবু , নেহাত তিয়াষদির ওয়াল , তাই খিস্তি দিলাম না, মিথ্যা কথা বলে সিম্প্যাথি আদায় অন্য কোথাও করুন , দ​য়া করে তিয়াষদির সাইট টিকে নোংরা করবেন না । আপনার মানসিকতার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি ।
    ——ইতি , দ্য ওয়াল এর এক ক্ষুদ্র শুভাকাঙ্খী 🙂

  2. আপনার লেখা ভাল লাগলো। দিকুদের পক্ষথেকে প্রায়শ্চিত্তের ভার তো কাউকে না কাউকে নিতে হতই।
    লালবাগের বাঘ ও বাংলার আদিবাসী সমাজের উপর আমার এই লেখাটি পড়ে দেখবেন। যারা বাংলা বোঝেনা, তাদের জন্য এটা ইংরাজীতে লিখতে হয়েছে।
    https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=467497170332285&id=362185807530089
    মতামত দেবেন। [email protected], whatsapp 9732075172.

Leave A Reply