বুধবার, মার্চ ২০

ব্লগ ২৫শে জুনের সেই মায়াবী রাত – ৩ 

রানা আইচ

২২ শে জুন বেলা ন’টা-দশটা নাগাদ শেয়ালদহ পৌঁছানো গেলো। কলকাতা ফেরার পথে রিজারভেশন কাটিহারেই হয়ে গেছিল। তাড়াহুড়ো করে সাউথ সেকশনের লোকাল ট্রেন ধরে কোনোমতে বাড়ি গেলাম। মা-বাবা কেউই বাড়িতে ছিলেন না – পাশের বাড়ি থেকে চাবি নিয়ে, ব্যাগটা রেখেই তাড়াতাড়ি স্নান সেরে বেরিয়ে পড়লাম গড়িয়ার উদ্দেশ্যে। ওখানে আমার মামাবাড়িতে তখন সদ্য সাদা-কালো টিভি কেনা হয়েছে – তাতেই জমিয়ে সেমিফাইনাল দেখা যাবে। গড়িয়া স্টেশনের দিকে যাওয়ার জন্য তখন সবে নতুন বাসরুট চালু হয়েছে – ৪৫এ। ঘন্টায় একটা করে বাসের দেখা মেলে। পাশের বাড়িতে মামাবাড়ি যাবার কথা জানিয়ে কপাল ঠুকে হাঁটা লাগালাম বাসস্টান্ডের দিকে

দুপুরবেলা ভরপেট খেয়ে টিভি খুলে দেখি ইংল্যান্ড অধিনায়ক বব উইলিস টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টেনশনের ম্যাচে অপরপক্ষ আগে ব্যাট করলে তবুও কিছুটা নিশ্চিন্তে খেলাটা দেখা যায়, কারণ নিজেদের ব্যাটিংতো আছেই পরে। বল ভালো না হলে, পরে ব্যাটে পুষিয়ে দেওয়া যাবেখন – এইরকম একটা মনোভাব আর কি। ইংল্যান্ডের শুরুটা মোটামুটি হলো। ৬৯-১ এ ওপেনার ক্রিস্টোফার ট্যাভারে যখন আউট হলেন ততক্ষণে বেশ কয়েকটা মুল্যবান ওভার হয়ে গেছে এবং ভারতীয় মিডিয়াম পেসাররা বিশেষ করে পার্টটাইম বোলার মহিন্দর অমরনাথ তো পুরো জাঁকিয়ে বসেছেন। এই সূত্রে অমরনাথের বোলিং অ্যাকশনটা একবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক। ধরুন আপনি বেশ মাঞ্জা দিয়ে অফিসের জন্য বাড়ি থেকে সবে বেরিয়েছেন – এমন সময়ে হঠাৎ মনে পড়লো যে মানিব্যাগটা ফেলে এসেছেন। পেছন ফিরে যেই গাঁক গাঁক করে ছুটতে যাবেন – ঠিক তখনই দেখতে পেলেন উল্টোদিক থেকে একঝাঁক কলেজমুখী তরুণী এদিকপানেই আসছে। এমতাবস্থায় তো গাঁক গাঁক করে ছোটাটা তো খুব একটা কাজের কথা নয় – প্রেস্টিজের ব্যাপার। তো আপনি একটু দুলকি চালে জগিং এর কায়দায় বাড়ির দিকে চললেন। অমরনাথ ঠিক এমন ভাবেই ঢিমেতালে ছুটতে ছুটতে বল করতে যেতেন – বলাই বাহুল্য সে বল খুব জোরে না হলেও তাতে ছোট ছোট সুইং মেশানো থাকত – যা সামলাতে অন্য টিমের ব্যাটসম্যানেরা সে বছর গলদঘর্ম হয়েছিলেন। সেইবারের আরেক ত্রাস সৃষ্টিকারী বোলার মদনলাল আবার অমরনাথের ঠিক উল্টো সংস্করণ। বেশ বীরদর্পে অনেকখানি দূর থেকে রীতিমতো প্রবলগতিতে দৌড়ে এসে যে বলটি করতেন তা সেই বছরের ইংল্যান্ডের মন্থর পিচে ততোধিক আস্তে ব্যাটে এসে পৌঁছানোর ফলে সেই বল মেরে সীমানা পার করা একরকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।    

মোদ্দা কথা হলো ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানেরা চোখে সর্ষের ফুল দেখছিলেন  নিশ্চই, নয়তো সেরা স্ট্রোকপ্লেয়ার, ফর্মে থাকা ডেভিড গাওয়ার কেন ৩০ বলে ১৭ করবেন – আর চুড়ান্ত মারকুটে অ্যালান ল্যাম্বের খাতাতেই বা কেন ৫০ স্ট্রাইকরেটে ৫৮ বলে ২৯ উঠবে। মাইক গ্যাটিং এর কথা যত কম বলা যায় তত ভালো – তাঁর সংগ্রহ ৪৬ বলে ১৮। টেষ্ট ম্যাচ হলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা এই ইনিংসকে নিশ্চই ‘পেইনস্টেকিং নক’ বলে চিহ্নিত করতেন। কপিলদেব কোনোকালেই স্ট্র্যাটেজির জন্য খুব একটা নাম করতে পারেননি – কিন্তু বিশ্বত্রাস অলরাউন্ডার ইয়ান বোথামকে রোখার জন্য সে দিন বল তুলে দিলেন পার্ট টাইম স্পিনার কীর্তি আজাদের হাতে যিনি এর আগে ছ’টি ম্যাচে মাত্র দু’ওভার বল করেছেন। আর কী বলটাই না আজাদ সেদিন করলেন! তাঁর বোলিং হিসেব দাঁড়ালো ১২-১-২৮-১। ইংল্যান্ডের ১৬০ রানের মাথায় বোথামকে (৬) সরসরি বোল্ড করে কাজের কাজটি করে দিলেন। আসলে ভারতের পার্ট-টাইম বোলার অমরনাথ ও আজাদের জন্য জন্য ১২ ওভার বরাদ্দ থাকত। কিন্তু সেইদিন আমাদের পার্ট-টাইম বোলাররা যা ভেলকি দেখালেন তাতে দুজনকেই গুনে গুনে ১২টি ওভার দিতে বাধ্য হলেন অধিনায়ক কপিলদেব। অচিরেই ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে গেলো ২১৩ রানে ঠিক ৬০তম ওভারের শেষ বলে। অমরনাথ ১২ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ২৭ রানে  তুলে নিলেন গাওয়ার ও গ্যাটিং এর দুটি মুল্যবান উইকেট। আহ্‌ – সে যে কি স্বস্তি! আস্কিং রেট মোট্টে ৩.৫৫ – তবুও মনের কোনে উঁকি মারে আশঙ্কা, পারবে কি ভারত ঐ রান তাড়া করতে? আমাদের ওপেনিং জুটি তো সেরকম ভাবে উইকেটে তো টিকতেই পারছে না – জিততে হলে এদেরকে আজ খেলতেই হবে।

আরও পড়ুন ব্লগ: ২৫শে জুনের সেই মায়াবী রাত – ২

ইনিংস বিরতির পর মামাবাড়ির বসার ঘরটা ভরে উঠলো। সবার চোখ টিভি পর্দার দিকে। মামা ইতিমধ্যে কাজ থেকে ফিরে এসেছেন – খুবই স্নেহ করতেন আমায়। ঘরে ঢুকেই আমাকে দেখে প্রায় ভুত দেখার মত চমকে উঠলেন – কি রে তুই এখানে? তোর না পুর্নিয়া থাকার কথা? কী আর করি – সব খুলে বল্লাম। মামা আদরমাখা গলায় শুধু বললেন – হায়, হায়! দ্যাখসো পোলার কান্ড! আমাদের ওপেনিং জুটি ততক্ষণে মাঠে নেমে পড়েছেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বব উইলিস প্রায় বাউন্ডারি সীমানা থেকে দৌড় শুরু করলেন। জয়গুরু!

আমার মামাতো দাদা আবার গাভাস্কারকে একদমই পছন্দ করতো না। আমি বেশ ভয়ে ভয়ে ছিলাম – কারণ উনি তাড়াতাড়ি আউট হলে তো গালিটা আমাকেই খেতে হবে! সেদিন অবশ্য গাভাস্কার অনেকদিন পরে যেন আমার হয়ে খেলে দিলেন। ৪১ বলে ২৫ খুব একটা যে ভদ্রস্থ প্রচেষ্টা তা কোনোমতেই বলা যাবে না – তবে রানের দিক থেকে শ্রীকান্তের চেয়ে এগিয়েছিলেন – ৩ টে চারও মেরেছিলেন। তাই দলের ৪৬ এর মাথায় যখন পল অ্যালটকে খোঁচা মেরে তিনি প্যাভিলিয়ানের দিকে হাঁটা লাগালেন, দাদা আমাকে বাক্যবাণে বিশেষ বিদ্ধ করলো না। কিছুক্ষণ যেতে না যেতে খেয়াল হলো ওয়ান ডাউন অমরনাথ তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উইকেটের সামনে দরজা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন – তাঁকে আউট করে কার সাধ্যি! ইংল্যান্ডের বোলিং এর যাবতীয় বিষ নামিয়ে তিনি ফিরে এলেন ঠিক ৫০ স্ট্রাইক রেটে ৯২ বলের একটি চমৎকার ইনিংস খেলে। এরপর যশপাল শর্মা (৬১) আর সন্দীপ পাটিল বিশ-বিশের কায়াদায় ৪৯ বলে মারকুটে ৫১ করে ভারতকে নিয়ে গেলেন সোজা ইতিহাসের পাতায়। যশপাল বব উইলিসকে ফ্লিক করে একটা ছয় মেরেছিলেন – সেটা আজও চোখে ভাসে। অমরনাথ ম্যান অফ দ্য ম্যাচ!  আহ্‌ – কি আনন্দ! অবশেষে আমরা ফাইনালে! সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাতে কি আর ভয় পাবো আমরা! আনন্দে ভাসতে ভাসতে ৪৫এ ধরে পরের দিন সকালে বাড়ি ফিরে এলাম। মামা আদেশ করলেন শনিবার ফাইনালের দিন সবাইকে নিয়ে যেন তাড়াতাড়ি গড়িয়া চলে যাই। দুপুরে-রাতে সবাই মিলে জোর খাওয়াদাওয়া হবে। পুরো উৎসবের পরিবেশ যাকে বলে।

আরও পড়ুন: ব্লগ : আমার বিচিত্র কথা-১ ২৫শে জুনের সেই মায়াবী রাত

শনিবার ২৫ শে জুন মা, বাবা, বোনকে নিয়ে আবার ৪৫এ চেপে সকাল থাকতে থাকতেই মামাবাড়িতে হানা দিলাম। মনে আছে বাবার পরনে ছিল শালার বাড়ি জন্য স্পেশাল, সাদা ধপধপে পায়জামা আর গিলে করা পাঞ্জাবি। দুপুরে খেতে বসেছি – তখন সুদূর উল্টোডাঙ্গা থেকে এসে হাজির হলো আমার মাসতুতো দাদা। সবাই হৈ হৈ করে উঠলো – ‘আয় আয়, তাড়াতাড়ি বইস্যা যা আমাগো লগে’। খাওয়ার টেবিলে জমিয়ে আড্ডা হলো। টপিক মোটমুটি ওই ক্রিকেটেই আটকে রইলো। দুই দাদা বাদে সবাই রায় দিল – আইজকা ইন্ডিয়ার কপালে দুঃখ আছে। আগের ওয়ার্ল্ড কাপের ফাইনালে ভিভিয়ান রিচার্ডস ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চোখ ধাঁধানো ১৩৮ করেছিলেন – উনি কি আর চেষ্টা করবেন না ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে? এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক, বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান ক্লাইভ লয়েড সেবারে তেমন খেলতে পারছিলেন না। সর্বোচ্চ রান মোটে ৪২। ব্যাট করার তো সুযোগই পাচ্ছিলেন না তেমন করে। তিনি যদি ১৯৭৫ ফাইনালের ফর্মটা আবার হঠাৎ করে আবিষ্কার করে বসেন তাহলে তো চিত্তির। লয়েড পঁচাত্তরের ফাইনালে ডেনিস লিলি, গিলমোর আর টমসনকে বেধড়ক ঠেঙ্গিয়ে মাত্র ৮৫ বলে ১০২ রান করেছিলেন। আর ওদের বোলিং নিয়ে আলোচনা করতে করতে তো হাড়ে ঠকঠকানি লেগে যাবার জোগাড়! ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিং, অ্যান্ডি রবার্টস আর জোয়েল গার্নার কি আজকে ছেড়ে দেবে? প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারার প্রতিশোধ তুলেই ছাড়বে আজকে। অকুতোভয় দাদারা ছাড়া সবাই মোটামুটি একমত হলো যে শনিবারের বারবেলাতে কপালে শনিই লেখা আছে। ফাইনালে যে উঠেছি এই ঢের – এর বেশি লোভ করাটা উচিত হবে না।

সাদা কালো টিভিটা খোলার আগে একপ্রস্থ ধূপধুনো দিয়ে পুজোপাঠ করে নেওয়া গেলো। সুইচ অন করে জানলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে। আমার হিরো সানি গাভাস্কার সম্পুর্ণ খালি মাথায় – কোনও টুপি বা হেলমেট ছাড়াই শ্রীকান্তকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট ঘোরাতে ঘোরাতে মাঠে নামলেন। গুরুর ব্যাটিং মানে তো আমারও তুকতাকের পালা। অ্যান্ডি রবার্টস যখন তার দৌড় শুরু করলেন আমি সোফায় সিঁটিয়ে বসে দশবার মনে মনে জয়গুরুকে ডেকে নিলাম। অবশ্য জয়গুরুর প্রশংসা করতেই হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই (মনে হয় রবার্টসের দ্বিতীয় ওভারেই) স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় খোঁচা মেরে উইকেটরক্ষক জেফ দুজোকে ক্যাচ দিয়ে সানি আউট হলেন। আমিও যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম – কাঁহাতক আর এই অত্যাচার নেওয়া যায়! ঘরের অন্য কোন থেকে ভেসে আসছে গাভাস্কারের উদ্দেশ্যে চোখা চোখা মন্তব্য, বিনা বাক্যব্যয়ে তা হজম করে নিলাম। গোটা সিরিজটাই ঝোলালেন এবং তার সঙ্গে আমাকেও ঝুলিয়ে দিয়ে গেলেন। মরুকগে – খেলাটা মনোযোগ দেওয়া যাক বরং। কিছুটা ভরসা যোগালেন শ্রীকান্ত। কিছুটা ধরে কিছুটা মেরে তিনি ভারতের ইনিংসটাকে বেশ একটা মজবুত জায়গায় নিয়ে আসছিলেন ধীরে ধীরে। চিরদিন মনে থাকবে অ্যান্ডি রবার্টসকে হুক করে একটা ছয় আর হাঁটু গেড়ে বসে ম্যালকম মার্শালকে স্কোয়ার কাট করে একটা চারের কথা। কিন্তু সেই ভরসা হলো ক্ষণস্থায়ী – দলীয় স্কোর ৫৯ ও নিজের ৩৮ এর মাথায় মার্শালের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ভারতবাসীর সম্মিলিত আশাকে দুরমুশ করে শ্রীকান্ত ফিরে গেলেন প্যাভিলিয়নে। এরপরে ভারতের ইনিংসটা আর সেভাবে দানা বাঁধতে পারলো না। তাসের ঘরের মতো একেবারে ভেঙ্গে না পড়লেও মাঝে মাঝেই উইকেট যেতে লাগলো।

সেই সময়ের ৬০ ওভারের একদিনের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্ধর্ষ বোলিং লাইন আপের বিরুদ্ধে একটাই সময় ছিলো যখন ব্যাটসম্যানেরা একটু হাঁফ ছেড়ে খেলতেন – যখন তাদের পঞ্চম বোলারের কাজটা করতে আসতেন ভিভ রিচার্ডস আর ল্যারি গোমস। এরা দুজনেই ছিলেন ডান হাতি অফ ব্রেক বোলার। যেকোনো ব্যাটসম্যানের কাছে এদের বোলিং ছিলো বিয়েবাড়ির বিরিয়ানি আর কষা মাংসের মতোই লোভনীয়। যতো পারো প্যাঁদাও। কিন্তু বেশি পেঁদিয়ে খেলে ঠিক যেমন পেটখারাপের ভয় থাকে – তেমনি অধিকাংশ সময়েই এই পার্ট-টাইম স্পিনারদের কাছা খুলে মারতে গিয়ে বহু বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যান উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসতেন। এবং সেদিনও তার ব্যতিক্রম হলো না। অমরনাথ দাঁতে দাঁত চেপে কোনোক্রমে ৮০ বলে ২৬ করে হোল্ডিং এর বলে যখন ক্লীন বোল্ড হলেন তখন ভারতের স্কোর ৯০ রানে ৩ উইকেট। এর ঠিক পরেই যশপাল ও কপিলদেব গোমসকে তুলে মারতে গিয়ে উইকেট খুইয়ে বসলেন। সব আশা এক ফুঁয়ে উড়ে গেলো। চোখের নিমেষে ১১১ রানে ছয় উইকেট চলে গেলো। বাবা আর মামা তো বিরক্ত হয়ে বৈঠকখানা ঘরের পাশে গোলবারান্দায় আড্ডা দিতে চলে গেলেন। যতই বলি – ‘আরে পাটিল তো আছে এখনো, দেখে যাও’ –  তাঁরা ‘ও আর কিস্যু হইবো না আইজকা’ বলে কেটে পড়েন। আর আধঘন্টার মধ্যেই ভারত যথাক্রমে রজার বিনি, পাটিল আর মদনলালকে হারিয়ে ১৬১-৯। শেষ উইকেটে কিরমানি আর বলবিন্দার সান্ধু ২২ রান যোগ করায় ভারত কোনওক্রমে ৫৫ ওভারে ১৮৩ তুলতে সক্ষম হলো।

নাহ, তীরে এসে তরীটা ডুবেই গেলো তাহলে। ৬০ ওভারে ১৮৩ তো জুনিয়র ক্রিকেটাররাই চোখ বুঁজে তুলে দেবে। দুদিন আগের সেমি ফাইনালেই তো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮৫ রান তুলতে মোটে দুটো উইকেট খরচা করেছে। এদের কাছে ১৮৩ তো জলভাত! ইনিংস বিরতিতে টিভি বন্ধ করে গোলবারান্দায় পারিবারিক আড্ডায় যোগ দিলাম – কেন জানি না, যদিও মন তখনও পড়ে আছে বৈঠকখানার ঘরে – ৪৫টা মিনিট যেন আর পেরোতেই চায় না। গুরুজনেরা তো জানিয়েই দিলেন এ খেলা দেখে কোনো লাভ নেই – তাঁরা আড্ডাই মারবেন। আমরা হার-না-মানা ৪ ভাই বোন বিলেতে লাঞ্চের পর আবার টিভির সামনে বসে পড়লাম এবং পুরস্কার স্বরূপ পেলাম বলবিন্দার সিং সান্ধুর এক স্বপ্নের বল। বিষ্ফরিত চোখে দেখলাম গর্ডন গ্রিনিজ, সান্ধুর এক হঠাৎ ঢুকে আসা ইন সুইং শোল্ডার আর্ম করে ছেড়ে দিতে গিয়ে বোল্ড হয়ে গেলেন। আউট! আউট! আউট! খুশিতে নেচে উঠ্লাম আমরা সবাই – মোক্ষম সময়ে ঘা দেওয়া গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাঁচ রানে এক উইকেট। এই সান্ধু ক্রিকেট জীবনের প্রথম দিকে স্পিন বল করতেন। তারপর মুম্বাই চত্বরের শ্রদ্ধেয় কোচ রমাকান্ত আচরেকরের পরামর্শে মিডিয়াম পেস বল করা শুরু করেন। ভাগ্যিস আচরেকর মশাই এই মহামূল্যবান পরামর্শটা দিয়েছিলেন! হুড়মুড় করে ছুটে গিয়ে গোলবারান্দায় খবরটা দিলাম। বাবা মামারা ছুটে এলেন অ্যাকশন রিপ্লে দেখতে।

তারপরেই মাঠে অবতীর্ণ হলেন চুইং-গাম চিবোনো সুঠাম চেহারার ভিভ রিচার্ডস। তাঁর ব্যাট ঘুরিয়ে উদ্ধত ভঙ্গিতে মাঠে নামা যথেষ্ট ভয়ের উদ্রেক করে। ভাবখানা এমন যেন – কে আসবি বল করতে চলে আয়, পিটিয়ে আজ যদি বলের চামড়া না তুলে দিই তো আমার নাম নেই। এবং কি আশ্চর্য – ক্রিজে নেমেই তিনি সত্যি সত্যিই সংহারমুর্তি ধারণ করলেন। চারের বন্যা শুরু হয়ে গেলো।  অপর দিকে আরেক ওপেনার ডেসমন্ড হেইন্স বেশ ধৈর্য ধরে একটা দিক আগলে রেখেছেন। রিচার্ডস সান্ধুকে পুল করে চার মারলেন, কপিলকে একটা রাজকীয় অফ ড্রাইভ। এরপরে আবার সান্ধুকে হুক করে চার। বেগতিক দেখে মদনলালকে আনলেন কপিল। প্রথম ওভারেই কিনা মনে নেই – একটা সময়ে মদনলালের এক ওভারে তিনটে চার মারলেন। বাবা আর মামা – ‘ধুস আর হইলো না’ – বলে আবার গোলবারান্দার চেয়ারে এলিয়ে পড়লেন। আর তার কয়েক মুহুর্ত পরেই সেই মদনলালের বলেই মিসটাইম করে কভারে রজার বিনিকে লোপ্পা ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন ডেসমন্ড হেইন্স। ৫০ রানে দুই উইকেট। লাফিয়ে উঠলাম আমরা। আবার বাবা আর মামা বৈঠকখানায় ছুটে এলেন অ্যাকশন রিপ্লে দেখতে। এরপর দেখা গেলো কিঞ্চিৎ ঝুঁকে মাঠে নামছেন আরেক দিকপাল ক্লাইভ লয়েড – এমন সময়ে টিভির পর্দায় ফুটে উঠ্লো ‘অনুষ্ঠান প্রচারে বিঘ্ন ঘটায় দুঃখিত’! এ আবার কি আপদ শুরু হলো রে বাবা!

টিভির সামনে উত্তেজনায় ফেটে পড়ছি – অথচ কিছু জানার উপায় নেই। মিনিট পাঁচ-ছয়েক থম মেরে বসে থাকার পর হঠাৎ খেয়াল হলো বসার ঘরের বড় রেডিওতে অন্ততঃ ধারাবিবরণীটা শোনা যাক! রেডিওটার নব যেই ঘোরাতে যাব – আবার টিভিতে যেন প্রাণ এলো। আর যা দেখলাম তাতে চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগাড়! দেখলাম কপিলদেব দৌড়াচ্ছেন  – স্লো মোশানে, ঘাড়টা ঘোরানো পেছন দিকে। আস্তে আস্তে হাত দুটো বুকের কাছে নিয়ে এলেন – কিছুক্ষণের মধ্যে বলটা নেমে এলো আকাশ থেকে। কপিল তালুবন্দি করলেন। আউট! গ্রেট ভিভিয়ান রিচার্ডস আউট! ২৮ বলে ৩৩ রান করেছেন ৭ টা বাউন্ডারির সাহায্যে। আনন্দে পাগল পাগল লাগছে। টিভিতে দেখতে পেলাম লর্ডসে উপস্থিত উত্তেজিত ভারতীয় সমর্থকরা বাউন্ডারি লাইন থেকে ছুটে এসে কপিলকে ঘিরে ধরলো। এবার বাবা, মামা তো বটেই, বাড়ির মহিলারা পর্যন্ত ছুটে এলেন দেখতে। হঠাৎ আমার মাসতুতো দাদা বাবাকে বললো – ‘মেসো, একটা জিনিস খেয়াল করেছ তোমরা এখানে এসে বসলেই আর উইকেট পড়ছে না। বারান্দায় গিয়ে বসো, দেখবে ঝপাঝপ উইকেট পড়বে।‘ আমরাও হাঁ হাঁ করে উঠলাম – ঠিকই তো! এটা তো মাথায় আসেনি আগে! আমরা চার ভাই বোনে মিলে একপ্রকার ঠেলেই বাবা আর মামাকে ঘর থেকে বার করে দিলাম। এবং কিছুক্ষণের মধ্যে টোটকার ফল পেলাম হাতেনাতে। এবার পালা ল্যারি গোমসের। মদনলালের বলে খোঁচা মেরে গাভাস্কারকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা দিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬৬-৪। এবারো বাবারা ছুটে এলেন – এবং অ্যাকশন রিপ্লে দেখার পর তাঁদের ঠেলে ঘর থেকে বার করে দেওয়া হলো। এরপর মহামান্য ক্লাইভ লয়েডের পালা। বিনির বলে উঁচু করে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলেন কপিলদেবের হাতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬৬-৫! আবার একই রুটিন চালু রইলো। বাবা এবার ঘর থেকে বেরোনোর সময়ে মাসতুতো দাদাকে বললেন – ‘তুই ঠিকই কৈসিলি রে! এখন থিকা বাইরেই বসুম’।

এরপরে যখনই হাইলাইট দেখার সুযোগ হয়েছে – তখন খেয়াল করেছি লয়েডের সেই ইনিংসে প্রথম রান নেওয়ার সময়েই থাই মাসল পুল হয়। একটা বাউন্ডারি মেরেছিলেন বটে – কিন্তু খুচরো রান নিতে তাঁর বেশ অসুবিধা হচ্ছিলো। হয়তো ১৯৭৫ এর চোখধাঁধানো সেঞ্চুরির স্মৃতি থেকেই তিনি সেই অবস্থায় কাউন্টার অ্যাটাকের সিদ্ধান্ত নেন। সে যাই হোক গিয়ে – তিনি আর গোমস যে বেশিক্ষণ টিকলেন না সেটাই আমাদের মনে আশার আলো জাগালো। বাকি রইলো ফাউদ ব্যাকাস ও টেল এন্ডাররা। উইকেটকিপার জেফ দুঁজো ও ব্যাকাস এবার ধরে খেলা শুরু করলেন। নয় নয় করে পাঁচ ছয় ওভার হয়ে গেলো। কপিল আবার সান্ধুকে ফিরিয়ে আনলেন। এবং দেখতে না দেখতেই সান্ধুর প্রায় ষষ্ঠ স্টাম্পের বল তাড়া করে যে খোঁচাটা মারলেন তা কিরমানি প্রায় প্রথম স্লিপ অঞ্চলে ডাইভ দিয়ে লুফে নিলেন। আবার টিভির সামনে হৈ হৈ – গুরুজনের দৌড়ে আসা ও হাইলাইট দর্শন। এবারে আরেক সমস্যা দেখা দিল। বাবা মামারা এবার টিভির সামনে গ্যাঁট হয়ে বসে পড়লেন। বায়না ধরলেন – এবার ওঁদের খেলাটা দেখতে দিতেই হবে, খেলাটা নাকি ভারতের পকেটে! আমরা তো হাঁউমাউ করে উঠলাম, এ আবার কেমনতর বিচার হলো? ভারতের বিরুদ্ধে এই প্রুডেনশিয়াল কাপের প্রথম ম্যাচেই তো রবার্টস আর জোয়েল গার্নার মিলে শেষ উইকেটে ৭১ রানের পার্টনারশিপ করেছিলেন – যদিও শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই ম্যাচ হেরে যায়। ফলে ম্যাচ যে ভারতের পকেটে ঢুকে গেছে এমন কথাও হলফ করে বলা যাবে না, মোটে একশো রানের তো ব্যাপার!  কিন্তু ভবি ভোলবার নয়। সেই যে ওঁরা বসলেন – উইকেট পড়ার ফল্গুধারাটিও শুকিয়ে গেলো। মার্শাল ও দুজোর যেন কোনো তাড়া নেই। টুকুর টুকুর করে খুচরো রান তুলতে লাগলেন। দেখতে দেখতে নব্বই, একশো, একশো-দশ, একশো-পনেরো পেরিয়ে গেলো। কপিল আগেই মুশকিল-আসান অমরনাথকে বল করতে ডেকেছেন, কিন্তু তবুও উইকেটের দেখা নেই  – আমাদের সবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলো। সবাই মিলে বাবা আর মামার পায়ে পড়ে গেলাম। দয়া করে ঘর থেকে বেরোও এবার – আর তো নেওয়া যাচ্ছে না!

বাবারা এই কথা শুনে মনে হয় হাতে স্বর্গ পেলেন। অনেকক্ষণ উইকেট না পড়াতে তারা নিজেরাও মনে মনে একটু দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। যদিও বাবা কপট রাগ দেখিয়ে আমাদের বললেন – আমারে তোরা বাইর কৈর‍্যা দিতাসস, আমি কৈয়া গেলাম – ইন্ডিয়া হারবো। মাসতুতো দাদা ফুঁসে উঠলো – বাজি? কত টাকা বাজি? বাবা বললেন – পয়সা দিয়া বাজি ধরুম না। ইন্ডিয়া জিতলে কাল যত খুশি রাজভোগ তোগো লইগ্যা। সবাই সানন্দে রাজি। বাবারা ঘর থেকে বেরোতে না বেরোতে একদম ম্যাজিকের মতো প্লেড-অন হয়ে গেলো জেফ দুঁজো অমারনাথের অফ স্টাম্পের বাইরের বল মারতে গিয়ে।  হতাশার চোটে দুঁজো পিচে দুবার চাপড় মেরে সাজঘরে ফিরলেন। আনন্দ ও আশংকায় আমরা দোদুল্যমান! ১২৪ রানের মাথায় অমরনাথের বলে স্লিপে গাভাস্কারকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন ম্যালকম মার্শাল। আর মাত্র দুটো উইকেটের অপেক্ষা! এবারে কিন্তু আর অ্যান্ডি রবার্টস বেশি অপেক্ষা করালেন না। কপিলদেবকে পুল করতে গিয়ে এলবি হলেন। শেষ উইকেটে মাইকেল হোল্ডিং আর জোয়েল গার্নার। সুড়ঙ্গের শেষে আলো দেখতে পারছে সারা ভারত। এরপরে অমরনাথের বলটার হোল্ডিং এর পা পেয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ অমরনাথ (বোলিং গড় ৭-০-১২-৩)  এলবির অ্যাপিল করে এতটাই নিঃসংশয় ছিলেন যে তিনি মনে হয় আম্পায়ার ডিকি বার্ডের আঙ্গুল তোলাটাও ভালো করে খেয়াল করেননি। একছুটে ব্যাটিং ক্রিজের দিকে গিয়ে উপড়ে ফেললেন একটা স্টাম্প – তারপর ছুট, ছুট, ছুট। দেখলাম শুধু অমরনাথ নয় সারা ভারতীয় টিমটাই পোঁ পোঁ দৌড় লাগিয়েছে প্যাভিলিয়ানের দিকে। পেছনে মৌমাছির ঝাঁকের মতো ধাওয়া করেছে লর্ডসে উপস্থিত ভারতীয় সমর্থকেরা। আমার মামাবাড়ির বসার ঘরে সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরছে – কেউ পাগলের মত নাচছে! সারা পাড়া জুড়ে শুরু হলো কোলাহল। বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু বাজিও ফাটলো। লর্ডসের ব্যালকনিতে খুশির ফোয়ারা ছুটেছে। পুরো ভারতীয় দল উপস্থিত সেখানে- গাভাস্কারের হাতে শ্যাম্পেনের বোতল – কপিলের হাতটা আকাশের দিকে তুলে ধরলেন। সারা ভারত যেন গর্জন করে উঠলো। এর মধ্যেই খেয়াল করলাম একটু পেছন দিকে শ্রীকান্ত ওই লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েই চিমনির মত সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছেন! এর কিছুক্ষণ পরেই ভারতীয় সময় রাত সাড়ে দশটা নাগাদ যখন কপিলদেব প্রুডেন্সিয়াল কাপটা তুলে ধরলেন সারা বিশ্বের উদ্দেশ্যে, তখন গড়িয়ার বালিয়ার মোড়ের দিক থেকে ভেসে এলো গা গরম করা তাশার তাল – কুড় কুড় কুড় কুড় কুড় কুড় ঝিঙ্কু নাকুড় ঝিঙ্কু নাকুড়…সে রাতে অনেকক্ষণ ধরে আড্ডা হলো। ঘুম যেন আর আসতেই চায় না।

পরেরদিন সকাল সকাল চলে গেলাম গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন বাজারে – উদ্দেশ্য খবরের কাগজ কেনা। বাবাও সেই সাত সকালে বেরিয়ে গেছেন। অনেক বেলা করে সাধ্য সাধনার পর পাওয়া গেলো আনন্দবাজার ও আজকাল। আপ্যায়ন মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে তোলা হলো ঢাকাই পরোটা। বেলা দশটা নাগাদ দেখি বাবা এক হাঁড়ি রাজভোগ নিয়ে এসে হাজির – এবং সাথে আরো কিছু খবরের কাগজ। সকাল বেলা থেকেই এলাহি ব্যবস্থা, সবাই ভীষণ খুশি – বেশ একটা পুজো পুজো ভাব! দুপুরে আবার জমিয়ে খাওয়া দাওয়া আর আড্ডা।

পঁয়ত্রিশ বছর বাদে সেই উদ্বেল করা ২৫ জুনের রাতের  স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খেয়াল করলাম অনেক কিছুই যদিও আর মনে নেই কিন্তু সেই ছোট ছোট খুনশুটি, হাসিঠাট্টা, গালাগালি, চেঁচামেচি, নাচগান এখনো মনে গেঁথে আছে। ভারতে তখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে আসীন ইন্দিরা গান্ধী। কিন্তু দেশটা যেন এক গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলো। ১৯৮৩ র বিশ্বকাপ জয় ছিলো এক তীব্র ঝাঁকানি স্বরূপ, সমস্ত ভারতবাসিকে যা দিয়েছিলো নতুন এক আত্মবিশ্বাস। অর্থনৈতিক উদারিকরণের প্রায় এক দশক আগে ঘটে গিয়েছিলো ভারতের ক্রিকেট জগতের এই বিপ্লব। শুধু আর বড় শহরে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাটা ছড়িয়ে গেছিলো মফস্বল, জেলা ও মহকুমা শহরে যেখান থেকে উঠে আসবে পরবর্তী প্রজন্মের ধোনিরা। এই সিরিজটা লেখার আগেই জানিয়েছিলাম ক্রিকেট নিয়ে আগের সেই উৎসাহ আর নেই। এর অনেক আর্থ-সামাজিক কারণ আছে। এই তিন দশকে খেলাটাও বেশ বদলে গেছে। কেন এরকম আমার মনে হয় তা নিয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছে আছে। লেখাটার নামও ঠিক করে ফেলেছি – ক্রিকেট, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?

(লেখক সিলিকন ভ্যালিতে কর্মরত)

Shares

Leave A Reply