শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

ব্লগ : এক ডজন অণুগল্প

সন্দীপ বিশ্বাস

(১) লেখালিখি
মণ মণ কবিতা লিখে মন জিতেছিলাম মঞ্জরির । সের দরে কবেই বিদেয় হয়েছে জঞ্জাল । এখন শুধু হিসেব লিখি – আমাদের সংসারের !

(২) ভূতের মুখে …
রামবাবুর একমাত্র বংশপ্রদীপ অরুণ … বাপের নাম ভুলেও মুখে আনে না আর । সেই ট্রেনে কাটা পড়ার পর থেকেই।

(৩) ছড়া-no
চাঁদ উঠেছে । ফুল … ফোটেনি । কদমতলা … নেই । গাছ কেটে ফ্ল্যাটবাড়ি হযেছে, সেখানে সোনামণির সুখের সংসার ।

(৪) অবসর
রাস্তার নোংরা পাগলটা গিয়েছিল দেবস্থানে ঢুকতে । বাধা পেয়ে হাতাহাতি, তারপর প্রচণ্ড মার । রক্তাক্ত পাগলের মনে গভীর চিন্তা … ভগবানবাবু রিটায়ার করলেন নাকি ?

(৫) সুবর্ণজয়ন্তী
বাতিহীন মহাদুর্যোগের রাতে বিদ্যুৎ জ্বেলে তোমায় খুঁজি । আর একটু পরেই যে আমাদের বিয়ে … হয়েছিল পঞ্চাশ বছর আগে ।

(৬) দলবদল
বন্ধুদের সাথে বাজী ধরে হানাবাড়িতে ভূত দেখতে এসেছিলাম কাল । রাতভর যা হ’ল ভাবতে মজা লাগছে বেশ … আমি যে এখন এবাড়ির নবতম দ্রষ্টব্য !

(৭) দ্রষ্টব্য
ছবি দেখেই জীবন কাটাতে হবে ভেবেছিল বেকার ছেলে রাজু। এত বছর পরেও দেখতে হয় … দায়ে প’ড়ে । ছবির বাবা তখন ঘরজামাই খুঁজছিলেন যে !

(৮) প্রাণ-ধিক
সেই কিশোরবেলা থেকেই খুউব ভালোবাসতাম ওকে। প্রাণের চেযেও বেশি ! আজ আর একটুও বাসি না । ও কেন প্রাণকে বিয়ে করলো ?

(৯) দিনবদল
ছানিপড়া অনিমেষের চোখে আজও দিনবদলের স্বপ্ন । এখন দাবি একটাই … চির-অভাবের সংসারে একটু স্বাচ্ছন্দ্য । বিপ্লব যদি আসেই তো আসুক না অন্য কারো হাত ধরে !

(১০) দৃষ্টিভঙ্গি
সাধের আয়নাটা ভেঙ্গেই ফেললাম শেষে … হাতের শিরা কাটবো ব’লে | সকল সাধের ঊর্ধ্বে এখন আমি | আর, আয়না তো লাগেই না !

(১১) কবি কথা
আধপোড়া বিড়ি জ্বেলে রাত জাগে কবি প্রসব যন্ত্রণায় । ওদিকে কবির মানসী তখন সারা গায়ে আদর মেখে স্বপ্ন দেখে রামধনুর ।

(১২) ভাত
আজ এত্ত ভাত খেতে পাবে মিতুল । মা বললো তার এট্টুও ক্ষিদে নেই, আর দিদির ঘুম নাকি আর ভাঙবেই না !

(ব্যাঙ্গালোর নিবাসীপেশায় সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ার । মাঝে-মধ্যে লেখার বাতিক । হাস্যরসের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট (ব্যাঙ্গালোর নিবাসী, পেশায় সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ার । মাঝে-মধ্যে লেখার বাতিক । হাস্যরসের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ।))

Leave A Reply