মঙ্গলবার, জুন ২৫

১১ বছরেই হারিয়েছে দৃষ্টি! সর্ব ক্ষণের সঙ্গী ছোট্ট বন্ধু, দুনিয়া শিখল ‘মনুষ্যত্ব’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১ বছর বয়সেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে গিয়েছে চার্লি। কিন্তু তার এই খামতি পূরণ করল, তার সর্ব ক্ষণের খুদে সঙ্গী। এই সঙ্গীকে খুঁজে পেয়ে বেজায় খুশি চার্লির মালিকও। বলছেন, “আমার জীবনে দেখা সেরা অসমবয়সি বন্ধু এরাই।”

চার্লি আসলে একটি গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুর। ১১ বছর বয়সে গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল সে। তার মালিক পড়েছিলেন মহা ফাঁপরে। প্রাণপ্রিয় পোষ্যের এমন অবস্থায় খুবই দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল তাঁকে। অথচ সর্ব ক্ষণ চার্লির জন্য সময় দেওয়াও কার্যত অসম্ভব ছিল তাঁর পক্ষে। তবে তিনি ভাবতেও পারেননি, চার মাস বয়সের দুরন্ত মাভেরিক এসে বাঁচাবে তাঁকে এবং তাঁর প্রিয়তম চার্লিকে।

চার্লি এবং মাভেরিক।

নর্থ ক্যারোলিনার তরুণী চেলসি স্টাইপ জানালেন, ২০১৬ সালেই গ্লুকোমা ধরা পড়ে তাঁর পোষ্যের। চিকিৎসা করেও অন্ধত্ব আটকানো যায়নি শেষমেশ। বছর দুয়েকের মধ্যে দু’টি চোখই হারিয়ে বসে সে। “আমরা খুবই মুশকিলে পড়ি। ও আমাদের এত আদরের… এক সময়ে এমনও ভাবি, ওকে দেখভাল করার জন্য চাকরি ছেড়ে দেব কি না!”– বলেন চেলসি।

চেলসির সঙ্গে মাভেরিক।

এমন সময়ে, গত বছরের শেষের দিকে অন্তঃসত্ত্বা হন চেলসি। তখনই ঠিক করেন, বাড়িতে আর এক নতুন কুকুরছানা আনবেন। যাতে তাঁর সন্তান সেই ছানার সঙ্গেই বড় হয়ে উঠতে পারে। এই চিন্তা থেকেই ২০১৯-এর নববর্ষ উপলক্ষে চেলসির বাড়িতে আসে আর একটি গোল্ডেন রিট্রিভারের চার মাসের ছানা, মাভেরিক। কিছু দিনের মধ্যেই বাড়ির সকলের সঙ্গে বেশ মানিয়ে নিতে শুরু করে সে। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে দেখা যায়, বাড়িতে থাকা চার্লির প্রতি তার আলাদা এক রকম মমত্ববোধ তৈরি হচ্ছে।

এমন করেই আগলে রাখা আদর জানে তারা।

“ও বুঝতে পারছিল, ওর এই নতুন বন্ধুর কিছু সমস্যা রয়েছে। আমরা অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম ওইটুকু ছানার দায়িত্ববোধ দেখে। সবাই মিলে বল নিয়ে খেলার সময়ে মাভেরিক ঠিক বুঝতে পারত, বলটা কোন দিকে যাচ্ছে সেটা চার্লি বুঝতে পারছে না। আমরা অবাক হয়ে দেখছিলাম, মাভেরিক সেই বলটা কুড়িয়ে এনে, নিজে না খেলে চার্লির সামনে রেখে দিচ্ছে ইচ্ছে করে।”– বলেন চেলসি।

চেলসি জানান, কিছু দিনের মধ্যেই দেখা যায়, মাভেরিক চার্লিকে একা ছাড়ছে না কোথাও। চার্লির সমস্ত কাজ, যেগুলো চেলসি বা পরিবারের কাউকে করিয়ে দিতে হতো, সেগুলো মাভেরিকের সাহচর্যে দিব্যি করে ফেলছে সে। চেলসির কথায়, “কখনও কখনও মনে হয়, মাভেরিক যেন রীতিমতো দায়িত্ব নিয়েছে চার্লির। ওর খাওয়া, খেলা, টয়লেট করা– সবটুকুতেই মাভেরিক অভিভাবকের মতো সঙ্গে থাকে।”

বিকেলবেলা এমনি করেই বেল্ট ধরে চার্লিকে ঘুরতে নিয়ে যায় মাভেরিক।

একটি পেজের মাধ্যমে চার্লি আর মাভেরিকের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হতেই প্রশংসা আর শুভেচ্ছার ঝড় বয়ে যায় নেটিজেনদের মধ্যে। ওই পেজ থেকে লেখা হয়. “এরা হল চার্লি আর মাভেরিক। চার্লির চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে গ্লুকোমায়, কিন্তু ওর সর্ব ক্ষণের সাহায্যকারী হয়ে উঠেছে ছোট্ট মাভেরিক। ওরা দুর্দান্ত। দশের মধ্যে ১৪ নম্বর পেয়েছে ওরা দু’জন মিলে।”

দেখে নিন সেই পোস্ট।

This is Charlie and Maverick. Charlie had his eyes removed due to glaucoma, but then Maverick came along as his little helper. Now they’re doing amazing. Both 14/10

We Rate Dogs এতে পোস্ট করেছেন সোমবার, 18 মার্চ, 2019

Comments are closed.