মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

বুলন্দশহরে হিংসায় পুলিশকে দোষ দিয়ে ভিডিও, ধৃত বজরং দল নেতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুলন্দশহরে হিংসার জন্য নিহত পুলিশ ইনসপেক্টর সুবোধ কুমার সিংকেই দোষ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করেছিলেন বিজেপির এক যুব নেতা। তাঁর নাম শিখর আগরওয়াল। তাঁকে বুধবার রাতে বুলন্দশহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরে হাপুর নামে এক জায়গা থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

গত ৩ ডিসেম্বর গোহত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুলন্দশহরে হিংসা ছড়ায়। শিখর এক ভিডিওতে বলেছিলেন, সুবোধ কুমার সিং নিজেই অশান্তির জন্য দায়ী। আমরা কয়েকজন গরুর মৃতদেহ নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলাম। তিনি আমাদের বাধা দেন। তখনই অশান্তি শুরু হয়। তবে তিনি যখন খুন হন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

বুলন্দশহরে পুলিশ খুনের ঘটনায় যাকে ‘এক নম্বর অভিযুক্ত’ বলা হচ্ছে, সেই যোগেশ রাজ ধরা পড়েছে গত সপ্তাহে। তাকে ধরতে লেগে গিয়েছে প্রায় একমাস। শিখর বলেন, ওই ইনসপেক্টর আমাকে এবং আমার বন্ধুদের খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে শিখর নাকি চন্দ্র মৌর্য নামে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারকে বলেছিলেন, সুবোধ তাঁকে খুনের হুমকি দিয়েছেন। চন্দ্র মৌর্য নাকি বলেন, সুবোধ বরাবরই দুর্নীতিগ্রস্ত। সে গোহত্যার সমর্থক।

বুলন্দশহরের অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট অতুল কুমার শ্রীবাস্তব বলেন, আমরা শিখরকে জেরা করছি। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে। যোগেশ রাজের অভিযোগ অনুযায়ী মুসলিম সম্প্রদায়ের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু দু’সপ্তাহ ধরে জেরা করেও তাঁদের বিরুদ্ধে তেমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বুলন্দশহরে হিংসার পরে দেশের সর্বত্র উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে বলেন, রাজ্য সরকার গোহত্যা ঠেকাতে সক্রিয়। কিন্তু পুলিশ খুন নিয়ে তাঁদের কোনও মাথাব্যথা নেই। এরপরে পুলিশ বুলন্দশহরের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গত ১ জানুয়ারি কালুয়া নামে এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়। অভিযোগ, সে কুড়ুল দিয়ে ইনসপেক্টরের আঙুলগুলি কেটে ফেলেছিল। তারপরে মাথাতেও আঘাত করেছিল। ২৮ ডিসেম্বর গ্রেফতার হয় প্রশান্ত নাট। কালুয়া, প্রশান্ত ও জনি নামে আর এক যুবক মিলে সুবোধ কুমার সিং-এর রিভলভারটি কেড়ে নেয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন মোবাইলে ওই ঘটনার ভিডিও তুলেছিলেন। তাতে তিনজনকে স্পষ্ট চিহ্নিত করা গিয়েছে।

জিতেন্দ্র মালিক নামে সেনাবাহিনীর এক কর্মীও গ্রেফতার হয়েছে গত ৯ ডিসেম্বর। সেও ইনসপেক্টর খুনে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এখন সে রয়েছে জেলে।

Shares

Comments are closed.