রবিবার, জুলাই ২১

ত্রিলোচনের পর দুলাল, আবার খুন বলরামপুরে

সুজিত কুণ্ডু, বলরামপুর: সারা রাত ধরে নিখোঁজ থাকার পর সকালবেলা ঝুলন্ত দেহ মিলেছিল বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতোর (২১)। বুধবার, বলরামপুরের সুপুরডি গ্রামে। মাত্র তিনদিন পর আজ সকালে দেহ মিলল বিজেপি-র ওবিসি মোর্চার কর্মী বলে পরিচিত বলরামপুরেরই আরেক যুবক দুলাল কুমারের (৩২) । দুলালের বাড়ি ডাভা গোপালডি গ্রামে।

ত্রিলোচনের খুনের প্রতিবাদে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে নেওয়া কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বলরামপুর থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। সেখানে সামিল ছিলেন দুলালও। সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা নাগাদ বাড়ি ফিরে বাবাকে খাবার পৌঁছতে গিয়েছিলেন তিনি। বাড়ির কাছেই ডাভা মোড়ে বাবার মুদির দোকান। তারপর আর বাড়ি ফিরে আসেননি দুলাল। গোটা রাত ধরে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই বাড়ির অদূরে ডিভিসির হাইটেনশন টাওয়ার থেকে তাঁর দেহ ঝুলতে দেখা যায়। এরপরেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: পুরুলিয়ার ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ

খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছতেই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে স্থানীয় মানুষজন। পুলিশের গাড়ির কাচ ভাঙা হয়। দুলালের দেহ তুলতেও বাধা দেন তারা। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এরপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। তাতে ক্ষোভ বাড়ে আরও। এ দিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েই জ্ঞান হারান দুলালের স্ত্রী মনিকা। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুলালের মা শুকুরমনি কুমার জানান, তাঁর ছেলে আগে সিপিএম করত। মাঝে কিছুদিন তৃণমূল করার পরে সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দু’দিন আগে মাঠ থেকে এসে কয়েকজন হুমকি দিয়েছিল তাঁকে। তারা শাসকদলের লোক বলেই দাবি শুকুরমনির। তিনি বলেন, “বাড়িতে কোনও অশান্তি ছিল না। খামোকা ও আত্মহত্যা করতে যাবে কেন? তৃণমূলই ওকে খুন করেছে।”

আরও পড়ুন বলরামপুর কিলিং: কাঠগড়ায় ‘বিরোধীশূন্য’ করার হুমকি

সকালে দেহ উদ্ধারের পর দুপুর পর্যন্ত দুলালের দেহ সরাতে দেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। বেলা দুটো নাগাদ পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে ও দেহ তুলে নিয়ে চলে যায়। তবে তার পরেও চলে অবরোধ।

আরও পড়ুন:  তদন্ত শুরুর আগেই ‘আত্মহত্যা’ বলায় সরিয়ে দেওয়া হলো পুরুলিয়ার এসপি’কে

Leave A Reply