কাশ্মীরের পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টানলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে গৃহবন্দি করে রাখা নিয়ে প্রশ্ন করায় ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টানলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি। তিনি বলেন, “দেশের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জরুরি অবস্থার সময় আপনারা একজন সাংসদের জন্য ৩৩ জন সাংসদকে গ্রেফতার করেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জাতীয় স্বার্থে গ্রেফতার করা হয়েছে।” তাঁর নিশানায় ছিল কংগ্রেস।

    প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। এবার নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে থেকে সেই প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে ফিরয়ে তুলেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও নির্বাচনী প্রচারে সেই প্রসঙ্গ তুলেছেন।

    দেশের সাংসদদের কাশ্মীরে যেতে না দেওয়া হলেও কেন ইউরোপের সাংসদদের সেই জায়গায় যেতে দেওয়া হল, সেই প্রশ্নও সংসদে তুলেছেন বিরোধীরা।

    উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, দিল্লির ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর নন অ্যালাইন্ড স্টাডিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাংসদরা বেসরকারি সফরে সেখানে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তার কারণেই ভারতের সাংসদের কাশ্মীর উপত্যকায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন দেশের সাংসদদের পরিদর্শনের ক্ষেত্রে আগেও তাঁদের সংবর্ধিত করা হয়েছে। সন্ত্রাস কী ভাবে ভারতের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এবং ভারতের পক্ষে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে তা সরেজমিনে করতেই তাঁরা জম্মু-কাশ্মীরে যেতে চেয়েছিলেন। ভারতে, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসের কী প্রভাব তা তাঁরা চাক্ষুস করেছেন। এই ধরনের বিনিময়ের ফলে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগসূত্র তৈরি হয় এবং দুই দেশের সম্পর্কও গড়ে ওঠে।

    অগস্ট মাসের গোড়ায় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা কঠোর করা হয়। কারণ অস্থায়ী এই ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে ভারতের সংবিধান প্রযোজ্য হয় জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রে, রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। বন্দি অথবা গৃহবন্দি করা হয় তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে। তারপরে জম্মু-কাশ্মীরে যেতে চান কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। কিন্তু কাশ্মীরে কাউকেই ঢুকতে দেয়নি প্রশাসন। বিমানবন্দর থেকেই তাঁদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বারো জন সাংসদ উপত্যকায় যান। তখনই বিরোধীরা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

    নিরাপত্তার স্বার্থে এখনও কাশ্মীরের বহু নেতাই সতর্কতা ও নিরাপত্তার জন্য বন্দি বা গৃহবন্দি। এখনও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। ট্রেন চলাচল শুরু হলেও এখনও তা স্বাভাবিক হয়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More