বিচ্ছিন্ন, উদ্ধত একজনের কথাই শোনা যাচ্ছে বিজেপির ইস্তাহারে, দাবি রাহুলের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : কংগ্রেসের ইস্তাহারকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, এসি ঘরে বসে দারিদ্র দূর করা যায় না। মঙ্গলবার পালটা বিজেপির ইস্তাহারকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বললেন, মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন, দূরদৃষ্টিহীন, উদ্ধত একজনের কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে ওই ইস্তাহারে।

    এসি ঘরে বসে দারিদ্র দূর করা যায় না বলে মোদী কার্যত রাহুলকে বোঝাতে চেয়েছিলেন। বিচ্ছিন্ন, দূরদৃষ্টিহীন ও উদ্ধত বলে রাহুলও কার্যত মোদীকেই বোঝাতে চেয়েছেন।

    কংগ্রেস সভাপতি টুইটে বলেন, কংগ্রেসের ইস্তাহার তৈরির আগে অনেকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তাতে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের আশা-আকাঙ্খার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিজেপির ইস্তাহার তৈরি হয়েছে বন্ধ ঘরে।

    সোমবার মোদী ও বিজেপির প্রথম সারির নেতারা ইস্তাহার প্রকাশ করেন। তাতে জোর দেওয়া হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদের প্রতি জিরো টলারেন্স এবং চাকরির সুযোগ সৃষ্টির ওপরে। চাষি ও সমাজের দরিদ্র অংশের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। পরিকাঠামোয় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। মধ্যবিত্তকে কর ছাড়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    রামমন্দিরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে ইস্তাহারে। সংবিধান থেকে ৩৭০ ও ৩৫ এ ধারা বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইস্তাহার প্রকাশ করে বলেন, জাতীয়তাবাদ আমাদের প্রেরণা, গরিবের ক্ষমতায়ন আমাদের লক্ষ এবং সুশাসন আমাদের মন্ত্র।

    কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, ‘টুকরে টুকরে’ মানসিকতা নিয়ে এই ইস্তাহার তৈরি করা হয়নি। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, দেশকে যারা টুকরো টুকরো করতে চায়, তারা এই ইস্তাহার রচনা করেনি। বিজেপি আগে বহুবার বিরোধীদের ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে মন্তব্য করেছে।

    গত সপ্তাহে ইস্তাহার প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। তাতে খুব গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে ন্যূনতম রোজগার নিশ্চয়তা যোজনা (ন্যায়)-এর কথা। ওই প্রকল্পের মূল কথা হল, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষের জন্য বছরে ৭২ হাজার টাকা উপার্জনের ব্যবস্থা করা হবে।

    দেশের প্রধান বিরোধী দলের দাবি, ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে যেভাবে কৃষিঋণ মকুব করা হয়েছে, আগামী দিনে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সারা দেশেই তা করা হবে। জিএসটি-তেও সংস্কার করা হবে। এখন জিএসটি হিসাবে যে আইনগুলি চালু আছে, আগামী দিনে তার জায়গায় আসবে ‘জিএসটি ২.০’।

    বিজেপির ইস্তাহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সংকল্প পত্র’। তা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমালোচনায় নেমে পড়ে কংগ্রেস। ৪৩ পাতার ইস্তাহারে একটি ছাপার ভুল উল্লেখ করে ব্যঙ্গবিদ্রুপ শুরু হয়। ইস্তাহারের একটি পাতার স্ক্রিন শট তুলে দেওয়া হয় কংগ্রেসের টুইটার হ্যান্ডেলে। তাতে লেখা আছে, উই হ্যাভ কনস্টিটিউটেড দি উইমেনস সিকিউরিটি ডিভিশন ইন দি হোম মিনিস্ট্রি, অ্যান্ড হ্যাভ মেড স্ট্রিক্ট প্রভিশনস ফোর ট্রান্সফারিং দি লজ ইন অর্ডার টু কমিট ক্রাইমস এগেনস্ট উইমেন…।

    এখানে লেখার কথা ছিল, ইন অর্ডার টু প্রিভেন্ট ক্রাইমস এগেনস্ট উইমেন। কিন্তু ছাপার ভুলে মানে দাঁড়িয়ে গিয়েছে উল্টো। কংগ্রেস ঠাট্টা করে লিখেছে, বিজেপির ম্যানিফেস্টোয় একটা জায়গায় দলের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ পেয়েছে।

    আম আদমি পার্টি থেকেও ওই ছাপার ভুল নিয়ে ঠাট্টা করে বলা হয়েছে, বিজেপির আসল ‘সংকল্প’ হল মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে উৎসাহ দেওয়া। বিজেপি তার উদ্দেশ্য যতই গোপন রাখতে চেষ্টা করুক, এক জায়গায় তা ফাঁস হয়ে গিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More