বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

পুলিশকে মারুন, বিরোধীদের চোখ উপড়ে নিন, প্রশাসন গুঁড়িয়ে দিন! বার্তা বিজেপির জনসভায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “পুলিশকে মারলে কিছু হবে না, আমি বলছি পুলিশকে মারুন।”– বীরভূমের মহাম্মদবাজারের একটি জনসভায় এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির বীরভূম জেলার সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মণ্ডল। অন্য দিকে বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার নেত্রী অনামিকা ঘোষ হুঁশিয়ারি দেন, তৃণমূল কর্মীদের চোখ উপড়ে নেওয়ার এবং হাত ভেঙে দেওয়ার।

সূত্রের খবর, রবিবার বীরভূমের মহাম্মদবাজারের শ্রীকান্তপুরে একটি জনসভা করে বীরভূম জেলা বিজেপি। এ দিন সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার সভাপতি লকেট চ্যাটার্জি, বীরভূম জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়, সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মণ্ডল-সহ জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বরা।

সেখানে বক্তৃতা করতে গিয়ে বিজেপির বীরভূম জেলার সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মণ্ডল শাসক দলকে আক্রমণ করলেও, তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল বীরভূম জেলা পুলিশ। তিনি বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “দেখবেন খেজুর গাছ সহজে কিছু দেয় না, কিন্তু যখন পাশি ডাঙ আর হেসো দিয়ে চাঁচে তখন রস বেরোয়। একই রকম ভাবে পুলিশকে ভাল ভাবে বললে কথা শুনবে না, ওদের মারলে তবেই ওরা কথা শুনবে। তাই আমি বলছি, মারুন। প্রশাসন কিছু করতে পারবে না।”

তিনি বীরভূমের দুবরাজপুরের এসআই অমিত চক্রবর্তী খুনের উদাহরণও দেন এই প্রসঙ্গে। অন্য দিকে ওই সভাতেই বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা অনামিকা ঘোষ হুঁশিয়ারি দেন, তৃণমূল কর্মীদের চোখ উপড়ে নেওয়ার এবং হাত ভেঙে দেওয়ার। তিনি এ দিন সভামঞ্চ থেকে তৃণমূলের কর্মীসমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি তৃণমূলের কর্মীদের বলছি, যদি কোনও তৃণমূল কর্মী বিজেপি কর্মীদের প্রতি চোখ রাঙান, তা হলে সেই চোখ আমি উপড়ে নেব। আর যদি কেউ বিজেপি কর্মীদের গায়ে হাত দেন, তা হলে সেই হাত ভেঙে দেব।”

ওই সভাতেই আবার প্রশাসনকে ভেঙে ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা বললেন বিজেপির রাজ্যনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি তিনি অস্ত্র নিয়ে পরিস্থিতি মোকবিলা করার নিদানও দেন।

বক্তৃতা করতে গিয়ে লকেট নাম না করে অনুব্রত মণ্ডলের সমালোচনা করে বলেন, “জেলার এক দাদা আছে, যে মহিলাদের সম্মান দিতে জানে না। এই প্রশাসনকে ভেঙে দিন, গুঁড়িয়ে দিন। আমরা দেখেছি প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ। কয়েক দিন আগে খড়দহতে বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে, তাতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নেয় নি। যদিও আমাদের আন্দোলনের পরে এক জনকে গ্রেফতার করেছে। নিজেদের বাঁচার তাগিদে ও পরিবারকে বাঁচানোর স্বার্থে সবাইকে রাস্তায় নেমে অস্ত্র ধরতে হবে। বিশেষ করে মহিলাদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।”

Shares

Comments are closed.