কয়েক জনকে বিজেপি রোজ ফোন করছে, কি সফিদা তাই তো: কোর কমিটিতে মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোটের আগে বিজেপি যে তৃণমূল ভাঙাতে নামবে, সেই দেওয়াল লিখন অনেক আগে থেকে স্পষ্ট। বিশেষ করে একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায় যখন বিজেপি-র ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্টের’ দায়িত্বে। শুধু কৌতূহলের বিষয় ছিল, তাঁরা কারা?

    দুর্গাপুজোর আগে শুক্রবার তপসিয়ায় দলীয় ভবনে কোর কমিটির বর্ধিত বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দলের উপর ও মাঝের সারির সমস্ত নেতার সামনে খোলাখুলিই বলেন, “আট-দশ জনকে বিজেপি লাগাতার ফোন করছে। রোজ করছে। কিন্ত কে কার সঙ্গে রাত বিরেতে কথা বলছে, আমি সব জানি। সব খবর আছে।” এখানেই থামেননি তৃণমূলনেত্রী। এক নিঃশ্বাসে বলেন, “এটা জানবেন আমার নজর সবদিকে রয়েছে। সফিদা তাই তো?”

    আরও পড়ুন বিষ্যুদবারে দফতর কমেছে, শুক্রবারে পার্থর সাংগঠনিক ভারও কমালেন মমতা

    সফিদা মানে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা এবং অধুনা উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হায়দর আজিজ সফি। এমনিতে সফি সাহেব স্বভাবে চুপচাপ। বিধানসভাতেও বিশেষ কথা বলেন না। সূত্রের মতে, এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়ে দৃশ্যত ঘাবড়ে গিয়েছিলেন এক সময়ের পুলিশ কর্তাও। তবে পরক্ষণেই ঘাড় নেড়ে সফি সাহেব সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন, হ্যাঁ তাই।

    হায়দর আজিজ সফি

    গোটা ব্যাপারটার আকস্মিকতায় বৈঠকে উপস্থিত বাকি নেতারাও চমকে যান। একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে শুরু করে দেন। এমন প্রতিক্রিয়া যে হবে, হয়তো নেত্রীও জানতেন। কিন্তু এর পরেও বিষয়টি তিনি টেনে নিয়ে যান। বলেন, “এই তো মদন মিত্র তিন বছর জেল খেটেছেন! তা বলে কি দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জেল খেটেছেন! উনিও কি পার্টি ছেড়েছেন! যাঁরা ভয় পান, তাঁদের আমাদের দলে কোনও জায়গা নেই। আগামী দিনেও থাকবে না।” তাঁর কথায়, এক জন গদ্দারি (পড়ুন মুকুল রায়) করে চলে গিয়েছে বলে, বাকিরাও যাবেন মনে করি না।

    আরও পড়ুন ছয় জেলা, ১৩ আসন: দিদির ভরসা শুভেন্দুকেই

    পর্যবেক্ষকদের মতে, দিদির এ সব কথা থেকেই পরিষ্কার যে বিজেপি সম্পর্কে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন উনিশের আগে তৃণমূলে ধস নামানোর চেষ্টা করবেন অমিত শাহরা। আর সে কারণেই, ‘সব খবর রয়েছে’ বলে পাল্টা চাপে রাখতে চাইছেন তিনিও।

    বস্তুত তৃণমূলের কিছু নেতা সাংসদের উপর বিজেপি-র নজর রয়েছে তা হালফিলে প্রকাশও পেয়ে গিয়েছে নানা ভাবে। যেমন গত রবিবার মুকুল রায় ও সর্বভারতীয় বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। তাতে শোনা গিয়েছে, মুকুলবাবু কৈলাসকে বলছেন যে তৃণমূলের বনগাঁর সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে তিনি যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই অডিও টেপ তৃণমূলের প্রায় সব নেতাই শুনেছেন। হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর কানেও গিয়েছে। তবে সফি সাহেবের সঙ্গে বিজেপি-র যোগাযোগ করার অর্থ মারাত্মক বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতারা। বাংলায় সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক তৃণমূলের বড় ভরসার জায়গা। বোঝা যাচ্ছে তাতেও থাবা বসানোর চেষ্টা করছেন মুকুল রায়-কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা।

    এই পরিস্থিতিতে দলের সব নেতাকেই বুঝিয়ে সুঝিয়ে বেঁধে রাখার পরামর্শই দিয়েছেন মমতা। কোর কমিটির বৈঠকে তিনি বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে ০.০১ শতাংশ নেতা কর্মী দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। বাকিরা দলের সঙ্গেই ছিল। সুতরাং যাঁরা টিকিট পাননি, যাঁদের অসন্তোষ রয়েছে, তাঁদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। কাউকে বাদ দিলে চলবে না।

    শুক্রবার রাতে মমতার এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হয়েছিল সফি সাহেবকে। তাঁর জবাব, ”এত রাতে এ সব নিয়ে কথা বলতে পারছি না। যা বলার কাল সকালে বলব।”

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More