বঙ্গ রাজনীতির সাইবার ময়দানে বড় টিম নামাচ্ছে বিজেপি, তৈরি তৃণমূলও

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাইবার রাজনীতি কাকে বলে এ দেশে তা ২০১৪ সালে দেখিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। পেশাদার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের দিয়ে দিন রাত এক করিয়ে গোটা সোশ্যাল মিডিয়ার দখল নিয়ে নিয়েছিল গেরুয়া বাহিনী। এ বার সেই কাজে আরও সংগঠিতভাবে নামতে চাইছে বিজেপি।

প্রাথমিকভাবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলি নেট দুনিয়ার প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব না দিলেও ২০১৪-র পরে বুঝেছিল একবিংশ শতকের ভারতবর্ষে ভোটের প্রচার শুধু দেওয়াল লেখা, পথসভা, জনসভা বা পাড়ার বৈঠকি সভায় আটকে নেই। মাঠ এখন অনেক বড়। আর সে মাঠের দখল শুরু থেকেই নিয়ে নিয়েছিল মোদী-অমিত শাহদের পার্টি। সে বার সারা দেশে একটি কেন্দ্রীয় টিমই এই কাজে অংশ নিয়েছিল। দিল্লিতে কন্ট্রোল রুম খুলে আঞ্চলিক ভাষা ধরে ধরে প্রচারের মশলা তৈরি করে দিয়েছিল ওই সাইবার টিম। আর রাজ্যে রাজ্যে কর্মীরা তা ছড়িয়ে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। এ বার বাংলায় আলাদা করে বিরাট আকারের টিম নামাতে চলেছে বিজেপি। আর তার শুরুর বাঁশি বাজাবেন স্বয়ং অমিত শাহ। বুধবার রাজ্যে পা রেখেই অমিত যাবেন হাওড়ার শরৎ সদনে। সেখানে ৬০০ জন কর্মীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত কর্মশালায় ভাষণ দেবেন শাহ।

তৃণমূল-এবং প্রশাসনের আশঙ্কা বিজেপি’র সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার মানেই ধর্মীয় উস্কানি। ইতিমধ্যেই রাজ্যে বসিরহাট, বাদুড়িয়া, ধূলাগড়, আসানসোলের মতো ঘটনা ঘটে গিয়েছে  বাংলায়। এর সবকটিরই উৎস সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে ধর্মীয় উত্তেজনা ঠেকাতে মমতা দলীয় কর্মী থেকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা সবাইকে নজরদারি চালাতে বলেছেন। এই বিষয়ে নজরদারি চালানোর জন্য আলাদা করে একজন আইপিএস অফিসারকেও নিযুক্ত করেছে কলকাতা পুলিশ। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে অশালীন পোস্ট দেখলেই ধরপাকড় চলেছে গত কয়েক মাসে। স্পেসিফায়েড তারকাটা নামের একটি পেজের অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করে জেলে পুরেছিল লালবাজার। এ বার উস্কানির সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

এ তো গেল ধর্মীয় উস্কানির প্রসঙ্গ। কিন্তু সাইবার রাজনীতিতে বিজেপি’র সঙ্গে টক্কর দিতে কী করবে তৃণমূল?

এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার দলের ছাত্র-যুব ফ্রন্টের নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন রুচিশীল আচরণে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের কথা প্রচার করতে। গতবার ২৮ অগস্ট, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে গান্ধী মূর্তির পাদদেশের সভায় দলনেত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কেউ তৃণমূলকে গালাগালি করলে আমরা যেন ফেসবুকে গালাগালি না করি। মানুষ আমাদের দেখছেন। আমাদের কথা যুক্তি দিয়ে উপস্থিত করতে হবে। উল্টোপাল্টা করলে দলে থাকতে হবে না।’ বিজেপি’র ডিজিটাল প্রচারের বিষয় আগাম আন্দাজ করে ইতিমধ্যেই দলের বিধায়ক-সাংসদদের ফেসবুক পেজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পেশাদার সংস্থার ডিজিটাল এক্সপার্টদের দিয়ে তাঁদের ক্লাসও করিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনই মূলত দলের এই বিষয়টি দেখভাল করেন। এখন দেখার সাইবার দুনিয়ার তৃণমূল-বিজেপি যুদ্ধ কোন জায়গায় যায় লোকসভার আগে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More