রবিবার, অক্টোবর ২০

পরপর আক্রান্ত দিলীপ-বিশ্বজিৎ-অর্জুন, কাল রাজ্য অচল করার ডাক বিজেপির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর পর নেতাদের উপরে আক্রমণ। এই ইস্যুতে সোমবার রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নামছে বিজেপি। সব জেলায় বড় জমায়েত করে পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। এই আন্দোলনের কারণ হিসেবে তিনটি অভিযোগকে সামনে রাখছে পদ্ম শিবির।

৩০ অগস্ট, সকাল

প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ আক্রমণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। রোজকার মতোই লেক টাউন এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচি চালাচ্ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সেই সময়ে আচমকাই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে প্রায় ২৫০ তৃণমূল কর্মী তাঁকে ঘিরে ফেলে গো ব্যাক স্লোগান দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, পুলিশের সামনেই তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে থাকা অল্পসংখ্যক বিজেপি কর্মীদের মধ্যে মারামারি বেধে যায়। দিলীপ ঘোষের দিকে ধেয়েও যাওয়া করা হয় বলেও অভিযোগ। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এই ঘটনায় তাদের দুই কার্যকর্তা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করে গেরুয়া শিবির।

৩০ অগস্ট, দুপুর

আক্রান্ত বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের উপরে আক্রমণে অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার সকালে বিধানসভায় যাওয়ার পথে গোপালনগরের ঘোষপাড়ার মুখে দুষ্কৃতীরা তার উপরে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের। অকথ্য ভাষায় বিধায়ককে গালিগালাজ করার পাশাপাশি তার উপরে চড়াও হয়ে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। সে সময় তাঁর বুকে মাথায় আঘাত করা হয়, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করা হয় বলে জানায় বিজেপি৷ হামলার ঘটনায় হাতে ও বুকে চোট পেয়েছেন বিশ্বজিৎ দাস।

১ সেপ্টেম্বর, দুপুর

উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে পার্টি অফিস দখল ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা৷ বিজেপির অবরোধ তুলতে গেলে ধুন্ধুমার বাঁধে পুলিশের সঙ্গে৷ সার্কাস মোড়ে অবরোধ তুলতে গেলে ইটবৃষ্টি হয়৷ পরিস্থিতি সামলাতে নামানো হয় র‍্যাফ৷ এই সময়েই মাথা ফাটে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের৷ ইটের আঘাতে আহত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীও৷ পুলিশের দাবি, ইটের আঘাতেই মাথা ফেটেছে অর্জুনের। তবে সাংসদের দাবি ইঁটের ঘায়ে নয়, পুলিশের লাঠির আঘাতেই মাথা ফেটেছে তাঁর৷ রবিবার অর্জুন সিংয়ের বাড়ির সামনেও বোমাবাজি হয়৷ তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ বিজেপির৷

এই তিন ঘটনার প্রেক্ষিতেই সোমবার জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখাবে বিজেপি। সব জায়গাতেই রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

Comments are closed.