রবিবার, এপ্রিল ২১

ভোটের মাঝে জোট মারামারি, বিহারে অস্বস্তিতে বিজেপি-জেডিইউ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলছিল ভোটের প্রচার নিয়ে স্ট্র্যাটেজি মিটিং। কিন্তু সেই মিটিংই কিনা পরিণত হল যুদ্ধ ক্ষেত্রে। বিজেপি-জেডিইউ সমর্থকদের মারামারিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল সভা। জোট শরিকদের মধ্যে এমন মারামারির ঘটনায় বেজায় অস্বস্তিতে বিজেপি এবং নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ, দু’পক্ষই।

জানা গিয়েছে জেডিইউ নেতা সঞ্জয় বর্মা ওই সভায় বক্তৃতা দিতে উঠে রামমন্দির এবং জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য বিশেষ সুবিধে দেওয়ার ব্যাপারে এমন কথা বলেন, যাতে চটে যান বিজেপি সমর্থকরা। শুরু হয় বচসা। তা গড়ায় হাতাহাতিতে। এরপরই টেবিল, চেয়ার তছনছ হয়ে যায় দু’দলের সমর্থকদের খণ্ডযুদ্ধে।

এমনিতে কাশ্মীর এবং রামমন্দির ইস্যুতে দু’দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছেই। জেডিইউ-এর এক নেতা এই ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়ে জানিয়েছেন, “ভবিষ্যতেও মতভেদ থাকবে।” কিন্তু এত কসরত করে করা জোটে ভোটের মাঝে এমন ঘটনা ঘটলে তো অস্বস্তি হবেই। বিজেপি নেতারা এই ঘটনা আড়াল করতে মরিয়া। বিহার বিজেপি-র এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “তেমন কিছুই হয়নি। স্থানীয় লোকজনই কিছু জানে না। সংবাদমাধ্যম বেশি রং চড়াচ্ছে।”

কিন্তু বিজেপি নেতারা যাই বলুন না কেন, সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে ছবি আটকে রাখা মুশকিল। ওই ঘটনার ছবি সামনে চলে এসেছে। বিরোধীরাও সেটাকে অস্ত্র করতে ছাড়ছে না। প্রসঙ্গত, দলের ইস্তাহারে রামমন্দিরকে বিশেষ অনুচ্ছেদে জায়গা দিয়েছে বিজেপি। কাশ্মীর নিয়েও বিজেপি-র অবস্থানের সঙ্গে জেডিইউ-এর অবস্থান একেবারে উল্টো। সব মিলিয়ে এই দুটি ইস্যু নিয়েই বিতণ্ডা বেঁধে যায় হাজিপুরের সভায়।

মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় এবং রাজস্থান, হিন্দি হার্টল্যান্ডের এই তিন রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়ার পর বেশি দেরি করেনি বিজেপি। জোটের আলোচনা শুরু করে দেন। তার মধ্যেই এনডিএ ছেড়ে সরে যায় উপেন্দ্র কুশওয়া। রাম বিলাস পাসোয়ানও অন্য সুর গাইতে শুরু করেছিলেন। তাই তড়িঘড়ি আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে ফেলে বিজেপি। গতবার বিহারে ২২টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। এ বার ১৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তারা। ১৭টিতে লড়ছে জেডিইউ। মোট ৪০টি আসন বিহারে। বাকি ছ’টিতে লড়ছে রামবিলাসের দল। উল্টোদিকে দেরিতে হলেও আরজেডি-র সঙ্গে আসন রফা করেছে কংগ্রেস। সঙ্গে রয়েছে সিপিআইএমএল (লিবারেশন)ও। সব মিলিয়ে শরিকি কোন্দলের ছবি নিয়ে চাপে বিজেপি।

Shares

Comments are closed.