ভিনরাজ্যে শস্যবীজ পাচারের অভিযোগ, নয়াগ্রামে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর, অভিযুক্ত বিজেপি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: কৃষকদের পাওনা শস্যবীজ মজুত রয়েছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে। সেই শস্যবীজ রাজ্যের চাষিদের না দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে ওড়িশায়। এমন অভিযোগ তুলে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রামের মানুষজন তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করলোন। ৩৪ বস্তা শস্যবীজ উদ্ধার করে তা ছড়িয়ে দেন রাস্তায়। তবে শস্য মজুত রাখা ও ওড়িশায় পাচার করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

    বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াগ্রাম থানার ধুমসাই এলাকায় আড়রা অঞ্চলে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে চড়াও হন স্থানীয় কৃষকরা। শস্যবীজ উদ্ধারের পর ভাঙচুর করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়টি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন নয়াগ্রাম থানার পুলিস ও স্থানীয় প্রশাসন।

    বিজেপির অভিযোগ, শস্যবীজ পাচার করার জন্য তা নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন। ইতিমধ্যেই তারা ওড়িশায় দু’গাড়ি শস্যবীজ পাচার করছে। তৃণমূলের ওই দলীয় কার্যালয় থেকে সরষে, মুগ, মসুর, খেসারি-সমেত মোট ৩৪ বস্তা শস্যবীজ, সার ও কীটনাশক ‘উদ্ধার’ করা হয়েছে।

    অভিযোগ খারিজ করে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, চাষিরা তাঁদের বীজ তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে রেখেছিলেন। বিজেপির লোকজন তাদের পার্টি অফিস ভাঙচুর করে শস্যবীজ লুঠ করেছে।

    নয়াগ্রাম ব্লকের আড়রা অঞ্চলের ধুমসাইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়। এ এলাকাটি একেবারে ওড়িশার সীমানায়। আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতটি বিজেপির দখলে রয়েছে। কৃষির দফতর অফিসে থেকে শস্যবীজ গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানতে পারেন তৃণমূলের পার্টি অফিসে বীজ মজুত রয়েছে।

    এদিন বিকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ও বিজেপির স্থানীয় নেতারা পার্টি অফিস থেকে বীজ বের করে বাইরে ফেলে দেন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ।

    আড়রা অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা শান্তনু সিংহ বলেন, “যে শস্যবীজ দিয়ে সরকার মানুষের ভোট কিনে রেখেছে, সেই শস্যবীজের ২৫ শতাংশও পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের নেতারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সেই শস্যবীজ ওড়িশায় পাচার করছে।”

    তৃণমূলের নয়াগ্রাম ব্লক সভাপতি উজ্জ্বল দত্ত বলেন, “নয়াগ্রাম ব্লক অফিস থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে রয়েছে আড়রা গ্রামপঞ্চায়েত। ফলে চাষিরা নিজেরাই লিখিত ভাবে এডিও অফিসে জানিয়েছিলেন, ওই এলাকাটিতে যেন শস্যবীজ বিলি করা হয়। সেই মতো আমাদের দলীয় অফিসে শস্যবীজ মজুদ করে রাখা ছিল। বিজেপি লোকজন গিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে পার্টি অফিস ভাঙচুর করে শস্যবীজ ও সার লুঠ করেছে।” এই ঘটনায় এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More