বৃহস্পতিবার, জুন ২০

কালও নামব রাস্তায়: বিমান, উত্তম-মধ্যম দেব: বালু, বালুকে আমডাঙা দাওয়াই দেব: শ্যামল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোরগোড়ায় লোকসভা ভোট। তাই জানুয়ারির শুরুতেই ধর্মঘটে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষা করে নিতে চেয়েছিলেন বাংলার বাম নেতারা। রাস্তায় নেমে ধর্মঘট করতে গত প্রায় একমাস ধরে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। আর ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটের শুরুর দিন জেলায় জেলায় ‘কমরেডদের’ পারফরম্যান্স দেখে যারপরনাই উল্লসিত আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

কিন্তু মঙ্গলবার তো এক প্রস্ত হলো। বুধবার কী হবে?

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য বিমান বসু পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, “ধর্মঘট ৪৮ ঘণ্টার। তাই বুধবারও রাস্তায় নেমে ধর্মঘট করব।”

বনধ রুখতে তৎপর ছিল রাজ্য সরকার। বেশ কিছু জায়গায় বাংলার শাসক দলের কর্মীরাও রাস্তায় নেমে বনধ বিরোধিতা করে এ দিন। দমদম, কাটোয়া, দিনহাটা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিপিএম-তৃণমূল সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা উত্তর চব্বিশ পরগনার তৃণমূল জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু বলেন, “কাল বনধ করতে নামলে উত্তম-মধ্যম দেওয়া হবে।” প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে পালা বদলের পর থেকে অনেক ধর্মঘটই ডেকেছে বামেরা। কখনও সারা দেশের প্রেক্ষিতে, কখনও আবার রাজ্যের প্রেক্ষাপটে। এমন অনেক ধর্মঘট হয়েছে, যেখানে নেতারা ডেকে দিয়েছেন, কিন্তু কর্মীরা পাত্তাই দেননি। এ দিন ছবিটা ছিল আলাদা। সকাল সকাল নেতাদের সঙ্গে কর্মীরাও নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। রেল, সড়ক এমনকী জলপথ পরিবহণ আটকাতেও দেখা যায় সিপিএম তথা বাম কর্মীদের। গঙ্গার দু’পারের শিল্পাঞ্চলেও বনধে সাড়া মিলেছে অন্যবারের থেকে ভালো।

তাহলে কি বুধবার সংঘর্ষের সম্ভাবনা জোরদার?

বালুবাবুর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রবীণ সিটু নেতা শ্যামল চক্রবর্তী খোলাখুলি বলে দিলেন, “বালুরা যদি উত্তম-মধ্যম দেয়, তাহলে ওদেরও (পড়ুন তৃণমূলকেও) আমডাঙা দাওয়াই দেওয়া হবে। আজকের মতোই কালকেও রাস্তায় নেমে ধর্মঘট হবে। আজকেও আটকাতে পারেনি। কালকেও পারবে না।”

বামেদের অভিযোগ, মোদী আর দিদি একই মুদ্রার এ পিঠ, ও পিঠ। সিপিএমের এক নেতার কথায়, “এই ধর্মঘট ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। ১২ দফা দাবির মধ্যে একটিও রাজ্যের বিরুদ্ধে নয়। তাহলে কী কারণে দিদিমণির এত মাথা ব্যথা? এটা যদি সেটিং না হয়, তাহলে সেটিং কাকে বলে?”

যদিও তৃণমূল নেতারা এ সব কথায় পাত্তা দিচ্ছেন না। শাসক দলের এক মুখপাত্র বলেন, “রাজ্যের কর্মসংস্কৃতিকে ধ্বংস করে ‘চলছে না-চলবে না’র রাজনীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বরদাস্ত করবে না।” তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কিছু লোক রাস্তায় নেমে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছিল। প্রশাসন যা করার করেছে। জনজীবন স্বাভাবিক। মানুষ এই বনধ ব্যর্থ করে দিয়েছে।”

কিন্তু বালুবাবুর ‘উত্তম-মধ্যম’ আর শ্যামলবাবুর ‘আমডাঙা দাওয়াই’ যদি সত্যি সত্যি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বুধবার অশান্তি এড়ানোর সম্ভাবনা কঠিন হয়ে যাবে।

Comments are closed.