বিহারে ভোট নভেম্বরে, বাংলার সঙ্গে নয়, শনিবার ‘আত্মনির্ভর বিহার অভিযানের’ মহরতে নাড্ডা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে। দৈনিক সংক্রমণের হার প্রায় ১ লক্ষ ছুঁই ছুঁই। তার মাঝেই বিহারে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। বিহারের রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কাছে দিল্লির স্পষ্ট বার্তা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কয়েক দফায় ভোট গ্রহণ হতে পারে সেখানে। সম্ভবত ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে চারটি বা পাঁচটি দফায় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে।

আগে অনেকেরই ধারণা ছিল কোভিডের কারণে বিহারে ভোট পিছিয়ে যেতে পারে। আগামী বছর গোড়ায় বাংলায় বিধানসভা ভোট আসন্ন। সেই সঙ্গে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, মেঘালয়ে ভোট হওয়ার কথা। ওই সময়েই ভোট হবে বিহারে। কিন্তু সেই ধারণা হয়তো ভুল প্রমাণিত হতে চলেছে।

একে তো নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা ভোট করাতে প্রস্তুত। দ্বিতীয়ত, সর্বভারতীয় বিজেপির গতিবিধিতেও স্পষ্ট যে বিহারে ভোট সময়েই হচ্ছে। তার বড় ইঙ্গিত হল, আজ শুক্রবার দু’দিনের জন্য পাটনা সফরে যাচ্ছেন সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। রাজ্য সংগঠনের প্রচার কমিটি, কোর কমিটি এবং নির্বাচন সমন্বয় কমিটির বৈঠকে থাকবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী তথা জোট শরিক নেতা নীতীশ কুমারের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হতে পারে।

বিহার নির্বাচন ও সুপ্রিম কোর্ট

কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে বিহারে ভোট করানো নিয়ে আপত্তি ওঠেনি তা নয়। মুজফ্ফরপুরের এক সমাজকর্মী এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলার রায়ে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, আদালত নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। প্রথমত এখনও নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি কমিশন। তা ছাড়া ভোট করানো যাবে কি যাবে না তা বিবেচনা করার এক্তিয়ার রয়েছে একমাত্র নির্বাচন কমিশনেরই। তাই তাতে নাক গলাবে না সর্বোচ্চ আদালত।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, দেশ বা রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা কাদের হাতে থাকবে তা নির্ণয়ের জন্যই নির্বাচন হয়। সুতরাং সংকটের পরিস্থিতি নির্বাচন এড়ানো ঠিক নয়। কোনও দল বা জোটের নেতৃত্বে সরকার অকর্মণ্য হলে মানুষের অধিকার থাকা উচিত তা বদলে দেওয়ার। বা ভাল কাজ করলে তাদের হাতে সঙ্কটমোচনের জন্য আস্থা রাখার অধিকার থাকা উচিত। তা ছাড়া দেশে আনলক পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্রমশই সবই খুলে যাচ্ছে। সুতরাং ভোটই বা বন্ধ থাকবে কেন।

বিহার ও বাংলা

আপাত ভাবে দেখলে বিহারের সঙ্গে বাংলার রাজনীতির সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু বিহারে ভোট সময়ে হলে বুঝতে হবে কোনও অঘটন না ঘটলে বাংলাতেও মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ বিধানসভা ভোট হবে। অর্থাৎ বিহারে ভোট ঘোষণা হলেই নভেম্বর মাস থেকে বাংলাতেও ভোটের জোর তৎপরতা শুরু হয়ে যাবে শিবিরে শিবিরে।

এও সন্দেহ নেই যে বিহার ভোটে বিজেপি তথা এনডিএ জোট সাফল্য পেলে সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে। পাঁচ বছর আগে বিহার ভোটে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছিল। বিহারে সুইপ করেছিল নীতীশ-লালু-কংগ্রেসের জোট। কিন্তু এখন সেই নীতীশ কুমারই বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন। বিরোধী শিবিরের কিছুটা ছত্রভঙ্গ অবস্থা। লালু প্রসাদ নিজেও জেলে বন্দি রয়েছেন। অনেকের মতে, বিরোধীদের প্রস্তুতির কোনও সুযোগ না দিতেই কোভিডের মধ্যেও বিহারে ভোট করিয়ে ফেলতে চাইছে বিজেপি।

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More