বান্দ্রায় অশান্তির পিছনে বিজেপির ষড়যন্ত্র দেখছে শিবসেনা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মঙ্গলবার কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হয়েছিলেন মুম্বইয়ের বান্দ্রা স্টেশনের বাইরে। তাঁদের বেশিরভাগই ভিন রাজ্য থেকে কাজ করতে এসেছিলেন। লকডাউনে তাঁদের অনেকের চাকরি গিয়েছে। তাঁদের ঠিকমতো খাওয়া জুটছে না। তাঁরা বান্দ্রা স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। পুলিশ তাঁদের লাঠিচার্জ করে হটিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার শিবসেনা দাবি করল, এই ঘটনার পিছনে আছে বিজেপির ষড়যন্ত্র।

শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-য় এদিন লেখা হয়েছে, “একে কী বলা যায়? এ হল এক বিরাট ষড়যন্ত্র। আমরা তা ফাঁস করবই। করোনা সংকটকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে চাইছে।”

একটি সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা ভেবেছিলেন, ট্রেন ছাড়ছে। সেজন্য তাঁরা বান্দ্রা স্টেশনের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। শিবসেনার বক্তব্য, ট্রেন তো শুধু বান্দ্রা থেকে ছাড়ে না। লোকমান্য তিলক টার্মিনাস, মুম্বই সেন্ট্রাল এবং ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস থেকেও ছাড়ে। শ্রমিকরা আর কোনও স্টেশনে না গিয়ে কেবল বান্দ্রা স্টেশনের বাইরে ভিড় করল কেন?

‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, “আমাদের দেশ এখন গভীর আর্থিক সং কটে পড়েছে। এই অবস্থায় একটা রাজ্যে সরকার চালানো সহজ নয়। রাজ্য সরকার সবার ভালর জন্য চেষ্টা করছে। এর মধ্যে যারা পালাতে চাইছে, তারা বেইমান।” শিবসেনার বক্তব্য, যারা এই সংকটের সময় রাজ্য ছেড়ে যাবে না, তারা প্রকৃত ভূমিপুত্র।

শিবসেনা হুমকি দিয়ে বলেছে, যারা পালাতে চাইছে, তাদের আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। বান্দ্রায় যারা গোলমাল করেছিল, তাদের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ‘সামনা’-য় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যারা বান্দ্রা স্টেশনের বাইরে জড়ো হয়েছিল, তারা কি সত্যিই বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল? তাই যদি হবে তো তাদের কাছে মালপত্র ছিল না কেন?

বিজেপিকে দোষ দিয়ে শিবসেনা বলেছে, বিরোধীরা রাজ্যের মহা বিকাশ আগাদি সরকারকে বিরক্ত করার কোনও সুযোগ ছাড়ছে না। সেজন্য তারা অনেক নীচে নামতে পারে।

মঙ্গলবার সন্ধেবেলা বান্দ্রার ঘটনা নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় ভারতের লড়াইকে দুর্বল করে দেবে। তাই এই ধরনের ঘটনাকে এড়াতে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।” প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান শাহ। কিন্তু কোনওভাবেই যেন লকডাউন না ভাঙা হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।

মঙ্গলবার সকালবেলা জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দিয়ে লকডাউন ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার কয়েক ঘণ্টা পরই মুম্বইয়ের বান্দ্রায় হাজারো শ্রমিক রাস্তায় নেমে পড়েন। যা গত মাসের দিল্লির আনন্দবিহার বাস টার্মিনালের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More