শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মোদী ঝড় কি থামল?

লোকসভা ভোটে বিজেপি একাই যেভাবে হইহই করে ৩০০-র বেশি আসন পেয়ে গিয়েছিল, বোঝা যাচ্ছিল, পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তায় ভাগ বসাতে পারেনি কেউ। তাঁর বিপরীতে রাহুল গান্ধীকে নিতান্তই নিষ্প্রভ মনে হয়েছিল। রাহুল নিজেও সেকথা বুঝেছিলেন মনে হয়।

এই অবস্থায় মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় ভোট হল। অনেকেই ভেবেছিল, বিজেপি হাসতে হাসতে জিতে যাবে। এমনকি বিরোধী নেতারাও সম্ভবত তেমনই ভেবেছিলেন। তাঁদের প্রচারে বিশেষ জোর ছিল না। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা ভোটের আগে এমন কথাবার্তা বলছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল, তারা জিতেই গিয়েছেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে ফল বেরোনর অপেক্ষা।

বাস্তবে কী দেখা গেল?

হরিয়ানায় ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হল। মহারাষ্ট্রেও বিশেষ সুবিধা করতে পারল না বিজেপি। হরিয়ানায় তবু আঞ্চলিক দলকে ধরে গেরুয়া শিবিরের ক্ষমতায় ফেরার ব্যবস্থা হয়েছে কিন্তু মহারাষ্ট্রে এখনও তেমন সুবিধা হয়নি। বহুদিনের জোটসঙ্গী শিবসেনা বিজেপিকে হুমকি দিয়ে বলছে, ক্ষমতার অর্ধেক ভাগ চাই। উদ্ধব ঠাকরে নিজের ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। বিজেপিও জোটসঙ্গীর অত আবদার মেটাতে রাজি নয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন ঘোরালো হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মোদী ঝড় কি থামল?

এখনই এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট জবাব দেওয়া মুশকিল। তবে বিজেপির দাপট যে কমছে প্রথমবার তার ইঙ্গিত মিলেছিল গত জুন মাসে। রাজস্থানে লোকসভা ভোটে বিজেপির সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু তার একমাসের মাথায় সেখানে কয়েকটি পুরসভার মোট ১৭ ওয়ার্ডে উপনির্বাচন হয়েছিল। তাতে কংগ্রেসের তুলনায় বেশ পিছিয়ে পড়েছিল বিজেপি।

এরপর হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের ভোটে বিজেপি ধাক্কা খেয়েছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু তা থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না যে, সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপির হাল খারাপ। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের কয়েকমাস আগেও রাজস্থান, ছত্তিসগড় ও মধ্যপ্রদেশে বিজেপি পরাজিত হয়েছিল।

কিন্তু দুই রাজ্যে ভোটের ফলাফল দেখে দু’টি সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো যায়। প্রথমত লোকসভা ভোটের পরে অনেকে যেমন ভেবেছিলেন, এইবার আঞ্চলিক দলগুলির দিন শেষ হল, বাস্তবে তা হয়নি। দ্বিতীয়ত, আগামী নির্বাচনগুলিতে বিরোধীরা রীতিমতো বেগ দেবেন বিজেপিকে।

চলতি বছরের একদম শেষে ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোট আছে। সামনের বছরে ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে ভোট। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, খুব শীঘ্র রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। কেন্দ্র তিনটি হল কালিয়াগঞ্জ, করিমপুর ও খড়্গপুর সদর। বিরোধীরা ইতিমধ্যে গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। নানারকম জোটের প্রস্তুতি চলছে। যাঁরা অন্য দল থেকে বিজেপিতে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে ছিলেন, তাঁরা আরও একবার ভাবছেন।

সব মিলিয়ে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে মোদী ব্রিগেড। অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় আর কিছুদিনের মধ্যে। সেই রায়কে কেন্দ্র করে ভোটের আগে আরও একবার হিন্দুত্বের হাওয়া তোলার চেষ্টা হতে পারে। অবশ্য তাতেও সুবিধা হবে কিনা সন্দেহ।

Comments are closed.