মোবাইল ফোন বেচে ঘরে খাবার এনে, শেষ করে দিলেন নিজেকে! লকডাউনে মর্মান্তিক পরিণতি অভিবাসী শ্রমিকের

১৫০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের পরেই আরও বহু অভিবাসী শ্রমিকের মতোই কাজ হারিয়েছিলেন পেশায় রংমিস্ত্রি ছবু মণ্ডল। বিহার থেকে গুরুগ্রামে আসা দিন-আনা-দিন-খাওয়া পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটির উপার্জন আচমকা বন্ধ হয়ে যেতে আতান্তর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। চার ছেলেমেয়ের খিদের কান্না সহ্য করাই দায় ছিল। শেষে নিজের ফোনটি আড়াই হাজার টাকায় বেচে খাদ্যের সংস্থান করেন ছবু। প্রচণ্ড গরমে একটু আরামের জন্য কেনেন একটি ছোট্ট ফ্যানও। কিন্তু এর পরে কী, তা জানা নেই। নিজেকে শেষ করে দেন তিনি। ঝুপড়ি ঘর থেকে ছবু মণ্ডলের নিথর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার গুরুগ্রামের সরস্বতী কুঞ্জের এই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তাতেই ৩৫ বছরের ছবু মণ্ডল আত্মঘাতী হয়েছেন।

ছবুর মৃত্যু যেন এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর স্ত্রী পুনম। বেশ কয়েক দিন অনাহারে থাকার পরে ফোন বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন ছবু। কিন্তু এই লকডাউনে সেটাও কি খুব সহজে হয়? বেশ কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করে শেষমেশ ফোনটা বেচতে পেরেছিলেন আড়াই হাজার টাকায়। তার পরে বাড়ি ফিরেছিলেন চাল-ডাল-তেল-নুন কিনে। স্বামীর হাতে সেসব দেখে হাসি ফুটেছিল পুনমের মুখে।After man's suicide, food, help for family but neighbours still ...

ফ্যান দেখে অবশ্য একটু অবাক হয়েছিলেন। খাবার নেই ঘরে, ফ্যান কেনার কী দরকার ছিল! সে কথা বলেওছিলেন ছবুকে। ছবু বলেছিলেন, গরমের দিনে বাচ্চাদের বড় কষ্ট। তাই ফোন বিক্রি করে খাবার কিনে যে ক’টা টাকা বেঁচেছিল, ছোট্ট ফ্যানটা কিনেছেন। রান্না চাপানোর আগে তিনি গিয়েছিলেন স্নান সারতে। ভাবতেও পারেননি, বেরিয়ে দেখবেন নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন ছবু!

পরিবার সূত্রের খবর, গুরুগ্রামের সরস্বতী কুঞ্জে টিনের ছোট্ট দু’টো ঘরে স্ত্রী, চার ছেলেমেয়ে ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থাকতেন ছবু মণ্ডল। বছর ১৫ আগে বিহারের মাধেপুরা থেকে গুরুগ্রামে রংমিস্ত্রির কাজ করতে আসেন। দশ বছর আগে বিয়েও করেন। সুখে-দুঃখে দিন কেটে যেত। অভাব থাকলেও আনন্দ ছিল। তিন হাজার টাকার ঘরভাড়া আর আট জনের চার বেলা খাবারের সংস্থান টেনেটুনে হয়ে যেত। সঞ্চয় অবশ্য করা হতো না।

কিন্তু লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় সব গিয়েছিল থমকে। স্ত্রী পুনম বলেন, “লকডাউনের গোড়া থেকেই খুব ভেঙে পড়েছিল ও। কারণ দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করাই মুশকিল হয়ে ওঠে। না আছে কাজ, না আছে টাকাপয়সা। বিভিন্ন জায়গা থেকে খাবার বিলির খবর পেলেই ও যেত ছুটে। তাই দিয়েই হাঁড়ি চড়ছিল। কিন্তু রোজ মিলছিল না। বাড়িভাড়াও বাকি পড়েছিল।”COVID-19 lockdown: Indian migrant worker kills himself

এই পরিস্থিতিতেই মোবাইল ফোনটা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন ছবু। বিক্রি করে খাবারও কেনেন। কিন্তু তাই বলে যে তিনি নিজেকে শেষ করে দেবেন, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ! পুনমের কাছে এখন স্বামীকে হারানোর দুঃখের থেকেও বেশি চিন্তার হয়ে উঠেছে, আজ বাদে কাল কী খেতে দেবেন সন্তানদের।

গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৩ থানার এসএইচও দীপক কুমার বলেন, “মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ওই অভিবাসী শ্রমিক। মনে করা হচ্ছে তাই জন্যই আত্মঘাতী হন তিনি।” জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, “খাদ্যের সমস্যাই হয়তো একমাত্র কারণ নয়, কারণ খাবারের বিতরণ হচ্ছে। মনে হচ্ছে করোনা পরিস্থিতির জেরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই ব্যক্তি।”

মৃত ছবুর শ্বশুরমশাই উমেশ মণ্ডল অবশ্য এই নিয়েও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “খাবার দেওয়া হচ্ছে যেখানে, সেখানে যেতে কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয়। খালিপেটে এই রোদে অতদূর হেঁটে গিয়ে খাবার আনা প্রায় অসম্ভব। তা ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোলে পুলিশও অনেক হেনস্থা করছে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More