মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

কাদের খান আমার দ্রোণাচার্য, দূর থেকে একলব্যের মতো শিখেছি  

এন কে সলিল

লিখতেন বম্বেতে বসে, আর হাততালি পড়ত সারা দেশে।

কাদের খানের কাছে কোনওদিন সংলাপ লেখা শেখা হয়নি আমার। কিন্তু আমার গুরুদের মধ্যে অন্যতম তিনিই। গুরু দ্রোণাচার্যের কাছ থেকে তো অস্ত্রের শিক্ষা নিতে পারেননি একলব্য। কিন্তু দ্রোণকেই গুরু হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন তিনি। দূর থেকে তাঁকে দেখেই শিখেছিলেন সব।

যখন সংলাপ লেখা শিখছি, তখন ওই কাদের খানের লেখা বহু সংলাপ কান পেতে শুনেছি। সাধারণ লোক তো ওঁকে অভিনেতা হিসেবেই চেনে। কিন্তু উনি যে প্রায় আড়াইশোর ওপর ফিল্মের স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন, সে কথা জানে না অনেকেই।

ওঁকে স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ দিয়েছিলেন রাজেশ খান্না। ‘রোটি’ সিনেমার জন্য। রাজেশজি নিশ্চয় হিরে চিনতে পারতেন। তাঁর যুগ পার করে এলেন অমিতাভ বচ্চন। সেই অমিতাভের অসামান্য সব ডায়লগ, যা আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে, সেই সব লিখেছিলেন কাদের খানই।

কখনও তিনি লিখেছেন, ‘হম যাহা খাড়া হোতে হ্যায়, লাইন ওহি সে শুরু হোতে হ্যায়’ আবার কখনও লিখেছেন ‘মেরা নাম বিজয় দিননাথ চৌহান, পুরা নাম… বাপ কা নাম দিননাথ চৌহান’।

দশক বদলেছে। বলিউড ফিল্মে তখন নতুন অ্যাংগ্রি ইয়ং ম্যান সঞ্জয় দত্ত। তাঁর আতিশ ছবির সেই সংলাপ, ‘জিন্দেগী মে তুফান আয়ে, কায়ামৎ আয়ে… মগর কভি দোস্তি ম্যায় দারার না আনে পায়ে।’

ঠিক একই ভাবে অসম্ভব সফল তিনি গোবিন্দার কমিক ডায়লগেও। আতিশের প্রায় পর পরই তিনি লিখে ফেলেছেন ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’-র সেই মজার ডায়লগ। ‘দুনিয়া মেরা ঘর হ্যায়। বাসস্ট্যান্ড মেরা আড্ডা হ্যায়।’

আমি দিনের পর দিন ওই ডায়লগগুলো শুনেছি। শিখেছি কমেডির মধ্যে ওই সাটল চেঞ্জগুলো কী ভাবে আনতে হয়। আর চেষ্টা করে গিয়েছি।

এমন একজন ব্যক্তিত্বের চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি যে কোনও ইন্ডাস্ট্রির পক্ষেই। উনি চলে গেলেন আজ। কিন্তু, আলাদা আলাদা প্রজন্মের হিন্দি সিনেমার দর্শক মনে রেখে দেবে ওঁর লেখা সেই সব অসামান্য সংলাপ।

ওঁকে শ্রদ্ধা জানাই আমি। যেখানেই থাকুন খুব ভালো থাকুন। ওঁর জন্নত নসিব হোক। আমিন।

Comments are closed.